ফ্রান্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলা সারকোজি লিবিয়া থেকে অবৈধভাবে নির্বাচনী তহবিল নেওয়ার অভিযোগে পাঁচ বছরের সাজা ভোগ শুরু করেছেন। মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) রক্ষণশীল এই নেতা প্যারিসের লা সান্তে কারাগারে প্রবেশ করেন।
রয়টার্স জানিয়েছে, ৭০ বছর বয়সী সারকোজি কারাগারে যাওয়ার আগে স্ত্রী কার্লা ব্রুনির হাত ধরে বাড়ি থেকে বের হন। এ সময় সমর্থকেরা ফরাসি জাতীয় সংগীত গেয়ে তাঁর প্রতি সমর্থন জানান। সারকোজি কারাগারে প্রবেশের সময় স্ত্রীর চোখে তাকিয়ে বিদায় নেন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর নাৎসি সহযোগী মার্শাল ফিলিপ পেতাঁর পর সারকোজিই প্রথম ফরাসি প্রেসিডেন্ট, যিনি কারাগারে গেলেন।
নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে সারকোজি সামাজিক মাধ্যম এক্স (X)-এ লিখেছেন, “আজ একজন সাবেক প্রেসিডেন্ট নয়, একজন নির্দোষ মানুষকে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে।” তিনি এটিকে ‘প্রতিশোধ ও ঘৃণার’ ফলাফল বলে দাবি করেন।
২০১১ সালের আরব বসন্তের সময় নিহত লিবীয় নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির কাছ থেকে ২০০৭ সালের নির্বাচনে কোটি কোটি ইউরো তহবিল নেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে সারকোজির পিছু ছাড়ছিল না। আদালতের রায়ে বলা হয়, সারকোজি ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের সঙ্গে অবৈধ তহবিল সংগ্রহের ষড়যন্ত্রে যুক্ত ছিলেন। তবে তাঁর বিরুদ্ধে সরাসরি অর্থ গ্রহণের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
আইনজীবীরা ইতিমধ্যে আগাম মুক্তির আবেদন করেছেন এবং আশা করছেন, বড়দিনের আগেই তিনি মুক্তি পেতে পারেন। আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সারকোজিকে একটি বিচ্ছিন্ন কক্ষে রাখা হবে, যেখানে টেলিফোন ও টেলিভিশনের সুবিধা থাকবে। কারাগারে প্রবেশের সময় তিনি আলেক্সান্দ্রে দ্যুমার ‘দ্য কাউন্ট অব মন্টে ক্রিস্টো’সহ তিনটি বই সঙ্গে নেন।
এই সাজা ফ্রান্সের রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সমর্থকেরা এটিকে বিচারব্যবস্থার রাজনৈতিক প্রতিশোধ বললেও, বিশ্লেষকদের মতে এই রায় প্রমাণ করে যে ফ্রান্স এখন ‘অভিজাতদের অপরাধেও শাস্তির আওতায়’ আনতে প্রস্তুত।
রিপোর্টারের নাম 





















