ঢাকা ১১:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গ্রিনল্যান্ড দখলে মার্কিন আগ্রাসনের হুমকি: ডেনমার্কের কড়া হুঁশিয়ারি ‘আগে গুলি পরে কথা’

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৩০:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৩ বার পড়া হয়েছে

গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো ধরনের সামরিক হস্তক্ষেপ বা আগ্রাসন ঠেকাতে চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ডেনমার্ক। ডেনিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সাফ জানিয়ে দিয়েছে, গ্রিনল্যান্ডে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত অনুপ্রবেশ ঘটলে দেশটির সেনারা কোনো দ্বিধা ছাড়াই আগে গুলি চালাবে এবং পরে জিজ্ঞাসাবাদ করবে। ১৯৫২ সালে প্রণীত একটি বিশেষ সামরিক নির্দেশনা এখনো কার্যকর রয়েছে উল্লেখ করে ডেনমার্ক এই কঠোর বার্তা দিয়েছে।

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ন্যাটোভুক্ত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড দখলের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আনলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা তীব্র হয়। ট্রাম্প জানিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ড নিয়ন্ত্রণে আনতে সামরিক শক্তিসহ সব ধরনের বিকল্প পথ খোলা রাখছে ওয়াশিংটন। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এই ভূখণ্ডটিকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং আর্কটিক অঞ্চলে শত্রুদের মোকাবিলায় একটি কৌশলগত অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

ডেনিশ সংবাদমাধ্যম বার্লিংস্কের এক প্রশ্নের জবাবে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, নিয়ম অনুযায়ী কোনো অনুপ্রবেশকারীকে প্রতিহত করতে সেনাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতির জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। অন্যদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স অভিযোগ করেছেন, গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা দিতে ডেনমার্ক ব্যর্থ হচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষায় ট্রাম্প প্রশাসন কঠোর হতে প্রস্তুত।

আগামী সপ্তাহে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই ইস্যুতে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠকের পরিকল্পনা করছেন। তবে ডেনমার্ক শুরু থেকেই বলে আসছে যে, গ্রিনল্যান্ড কোনোভাবেই বিক্রির জন্য নয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারাও ডেনমার্কের আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষার পক্ষে সংহতি প্রকাশ করেছেন।

ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন এক সতর্কবার্তায় বলেছেন, গ্রিনল্যান্ডে কোনো প্রকার মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ কেবল একটি ভূখণ্ডের ওপর হামলা নয়, বরং এটি ন্যাটো জোটের অস্তিত্ব এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী ইউরোপীয় নিরাপত্তা কাঠামোর জন্য এক ভয়াবহ হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আলবানিজের পরিবারের মামলা: ফিলিস্তিন ইস্যুতে আইনি লড়াই

গ্রিনল্যান্ড দখলে মার্কিন আগ্রাসনের হুমকি: ডেনমার্কের কড়া হুঁশিয়ারি ‘আগে গুলি পরে কথা’

আপডেট সময় : ০৩:৩০:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬

গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো ধরনের সামরিক হস্তক্ষেপ বা আগ্রাসন ঠেকাতে চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ডেনমার্ক। ডেনিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সাফ জানিয়ে দিয়েছে, গ্রিনল্যান্ডে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত অনুপ্রবেশ ঘটলে দেশটির সেনারা কোনো দ্বিধা ছাড়াই আগে গুলি চালাবে এবং পরে জিজ্ঞাসাবাদ করবে। ১৯৫২ সালে প্রণীত একটি বিশেষ সামরিক নির্দেশনা এখনো কার্যকর রয়েছে উল্লেখ করে ডেনমার্ক এই কঠোর বার্তা দিয়েছে।

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ন্যাটোভুক্ত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড দখলের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আনলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা তীব্র হয়। ট্রাম্প জানিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ড নিয়ন্ত্রণে আনতে সামরিক শক্তিসহ সব ধরনের বিকল্প পথ খোলা রাখছে ওয়াশিংটন। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এই ভূখণ্ডটিকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং আর্কটিক অঞ্চলে শত্রুদের মোকাবিলায় একটি কৌশলগত অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

ডেনিশ সংবাদমাধ্যম বার্লিংস্কের এক প্রশ্নের জবাবে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, নিয়ম অনুযায়ী কোনো অনুপ্রবেশকারীকে প্রতিহত করতে সেনাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতির জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। অন্যদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স অভিযোগ করেছেন, গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা দিতে ডেনমার্ক ব্যর্থ হচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষায় ট্রাম্প প্রশাসন কঠোর হতে প্রস্তুত।

আগামী সপ্তাহে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই ইস্যুতে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠকের পরিকল্পনা করছেন। তবে ডেনমার্ক শুরু থেকেই বলে আসছে যে, গ্রিনল্যান্ড কোনোভাবেই বিক্রির জন্য নয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারাও ডেনমার্কের আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষার পক্ষে সংহতি প্রকাশ করেছেন।

ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন এক সতর্কবার্তায় বলেছেন, গ্রিনল্যান্ডে কোনো প্রকার মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ কেবল একটি ভূখণ্ডের ওপর হামলা নয়, বরং এটি ন্যাটো জোটের অস্তিত্ব এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী ইউরোপীয় নিরাপত্তা কাঠামোর জন্য এক ভয়াবহ হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।