ঢাকা ১১:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা করেন না ট্রাম্প: আগ্রাসী পররাষ্ট্রনীতির পথে যুক্তরাষ্ট্র

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৪৫:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক আইনের বাধ্যবাধকতা প্রত্যাখ্যান করে নিজের কঠোর ও আগ্রাসী পররাষ্ট্রনীতির কথা ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনো আন্তর্জাতিক আইন নয় বরং তার নিজস্ব নৈতিকতাই তার কর্মকাণ্ডের প্রধান মাপকাঠি।

নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তার জন্য আন্তর্জাতিক আইনের কোনো প্রয়োজন নেই। আন্তর্জাতিক রীতিনীতি মেনে চলা উচিত কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বিষয়টি আন্তর্জাতিক আইনের সংজ্ঞার ওপর নির্ভর করে। তবে তিনি কোনো মানুষকে আঘাত করতে চান না বলেও উল্লেখ করেন।

সম্প্রতি ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর হামলার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। গত শনিবার ভোরে রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এই অভিযানের এক পর্যায়ে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে অপহরণ করে মার্কিন বাহিনী। বিশেষজ্ঞরা এই ঘটনাকে জাতিসংঘ সনদের সরাসরি লঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন, কারণ কোনো স্বাধীন রাষ্ট্রের অখণ্ডতা বা রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ আন্তর্জাতিক আইনে নিষিদ্ধ।

ভেনেজুয়েলায় হামলার পর ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্র দেশটি ‘পরিচালনা’ করবে এবং সেখানকার তেলসম্পদ ব্যবহার করবে। ওয়াশিংটন বর্তমানে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে কাজ করার দাবি করলেও, তাকেও প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়ে রেখেছেন ট্রাম্প। দ্য আটলান্টিককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, রদ্রিগেজ সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হলে তাকে মাদুরোর চেয়েও বড় মাসুল দিতে হবে।

ট্রাম্পের এই আগ্রাসী মনোভাব কেবল ভেনেজুয়েলাতেই সীমাবদ্ধ নেই। চলতি সপ্তাহে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর বিরুদ্ধেও সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড দখলের বিষয়েও নিজের প্রচারণা জোরদার করেছেন। এর আগে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার নির্দেশ দিয়েও তোপের মুখে পড়েছিলেন তিনি।

ট্রাম্পের উপদেষ্টা স্টিফেন মিলার এই নতুন নীতির সমর্থনে বলেছেন, পশ্চিম গোলার্ধে নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র এখন থেকে যেকোনো সময় সামরিক শক্তি ব্যবহার করতে দ্বিধা করবে না।

তবে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা এই পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। জাতিসংঘের বিশেষ র‍্যাপোর্টিয়ার মার্গারেট স্যাটারথওয়েট ট্রাম্পের এই অবস্থানকে বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, এভাবে আন্তর্জাতিক আইনকে উপেক্ষা করা হলে বিশ্বজুড়ে অরাজকতা তৈরি হতে পারে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আলবানিজের পরিবারের মামলা: ফিলিস্তিন ইস্যুতে আইনি লড়াই

আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা করেন না ট্রাম্প: আগ্রাসী পররাষ্ট্রনীতির পথে যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট সময় : ১০:৪৫:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬

আন্তর্জাতিক আইনের বাধ্যবাধকতা প্রত্যাখ্যান করে নিজের কঠোর ও আগ্রাসী পররাষ্ট্রনীতির কথা ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনো আন্তর্জাতিক আইন নয় বরং তার নিজস্ব নৈতিকতাই তার কর্মকাণ্ডের প্রধান মাপকাঠি।

নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তার জন্য আন্তর্জাতিক আইনের কোনো প্রয়োজন নেই। আন্তর্জাতিক রীতিনীতি মেনে চলা উচিত কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বিষয়টি আন্তর্জাতিক আইনের সংজ্ঞার ওপর নির্ভর করে। তবে তিনি কোনো মানুষকে আঘাত করতে চান না বলেও উল্লেখ করেন।

সম্প্রতি ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর হামলার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। গত শনিবার ভোরে রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এই অভিযানের এক পর্যায়ে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে অপহরণ করে মার্কিন বাহিনী। বিশেষজ্ঞরা এই ঘটনাকে জাতিসংঘ সনদের সরাসরি লঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন, কারণ কোনো স্বাধীন রাষ্ট্রের অখণ্ডতা বা রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ আন্তর্জাতিক আইনে নিষিদ্ধ।

ভেনেজুয়েলায় হামলার পর ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্র দেশটি ‘পরিচালনা’ করবে এবং সেখানকার তেলসম্পদ ব্যবহার করবে। ওয়াশিংটন বর্তমানে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে কাজ করার দাবি করলেও, তাকেও প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়ে রেখেছেন ট্রাম্প। দ্য আটলান্টিককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, রদ্রিগেজ সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হলে তাকে মাদুরোর চেয়েও বড় মাসুল দিতে হবে।

ট্রাম্পের এই আগ্রাসী মনোভাব কেবল ভেনেজুয়েলাতেই সীমাবদ্ধ নেই। চলতি সপ্তাহে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর বিরুদ্ধেও সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড দখলের বিষয়েও নিজের প্রচারণা জোরদার করেছেন। এর আগে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার নির্দেশ দিয়েও তোপের মুখে পড়েছিলেন তিনি।

ট্রাম্পের উপদেষ্টা স্টিফেন মিলার এই নতুন নীতির সমর্থনে বলেছেন, পশ্চিম গোলার্ধে নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র এখন থেকে যেকোনো সময় সামরিক শক্তি ব্যবহার করতে দ্বিধা করবে না।

তবে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা এই পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। জাতিসংঘের বিশেষ র‍্যাপোর্টিয়ার মার্গারেট স্যাটারথওয়েট ট্রাম্পের এই অবস্থানকে বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, এভাবে আন্তর্জাতিক আইনকে উপেক্ষা করা হলে বিশ্বজুড়ে অরাজকতা তৈরি হতে পারে।