ঢাকা ১০:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

হামাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সেনা পাঠাতে প্রস্তুত মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশ: ট্রাম্প

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:১৮:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫
  • ৫১ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশ নিজেদের সামরিক বাহিনী পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে। এর মাধ্যমে গাজায় চলমান নড়বড়ে যুদ্ধবিরতির মধ্যেই হামাসকে আবারও সরাসরি হুমকি দিলেন তিনি।

নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে গতকাল মঙ্গলবার ট্রাম্প লেখেন, ‘মধ্যপ্রাচ্য এবং তার আশপাশের অঞ্চলের আমাদের এখনকার মহান মিত্ররা স্পষ্ট ও জোরালোভাবে বড় উৎসাহের সঙ্গে আমাকে জানিয়েছে, তাঁরা আমার অনুরোধে একটি শক্তিশালী বাহিনী নিয়ে গাজায় যাওয়ার সুযোগকে স্বাগত জানাবেন। যদি তারা খারাপ আচরণ অব্যাহত রাখে এবং আমাদের সঙ্গে নিজেদের চুক্তি ভঙ্গ করে, তাহলে তাঁরা “আমাদের হামাসকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেবেন”।’

ট্রাম্প কোন কোন দেশ তাঁকে গাজায় যাওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে, তা প্রকাশ করেননি। তবে অঞ্চলটির বিষয়ে সাহায্য করার জন্য তিনি ইন্দোনেশিয়ার কথা আলাদা করে উল্লেখ করেন।

তিনি লেখেন, ‘মধ্যপ্রাচ্য ও যুক্তরাষ্ট্রকে দেওয়া যাবতীয় সহায়তার জন্য আমি মহান ও শক্তিশালী দেশ ইন্দোনেশিয়া এবং দেশটির অসাধারণ নেতাকে ধন্যবাদ জানাই।’

ইন্দোনেশিয়া ও অন্য কয়েকটি দেশ গাজায় নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য শান্তি রক্ষাকারী সেনা পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো দেশ সরাসরি হামাসের সঙ্গে সংঘর্ষে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেনি।

ট্রাম্প আরও লেখেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের প্রতি এমন ভালোবাসা ও উদ্দীপনা গত এক হাজার বছরের আর কখনো দেখা যায়নি! এটি দেখার মতো এক অপূর্ব দৃশ্য! কিন্তু আমি এসব দেশকে এবং ইসরায়েলকে বলেছি, “এখনই তা নয়!” হামাস সঠিক কাজটি করবে, এখনো এমন আশা করা যায়। তারা যদি তা না করে, তাহলে দ্রুত, ক্রুদ্ধ ও নির্মমভাবে হামাসের পতন হবে।’

গত ১০ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। এর পর থেকে ইসরায়েলের হামলায় গাজায় অন্তত ১০০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসকে ট্রাম্প আগেও একাধিকবার মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো শক্তি এমন কী করতে পারে যা ইসরায়েল করতে পারেনি, তা স্পষ্ট নয়। গত দুই বছরে ইসরায়েল হামাসের প্রায় সব রাজনৈতিক ও সামরিক নেতাকে হত্যা করেছে। পাশাপাশি গাজায় ৬৮ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করা হয়েছে। অবরুদ্ধ উপত্যকাটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং সেখানে তীব্র খাদ্যসংকট চলছে। শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি মানবাধিকার সংস্থা ও জাতিসংঘ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গাজায় জাতিগত নিধনের (জেনোসাইড) অভিযোগ এনেছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাতের আশঙ্কা: ইরান হামলা প্রসঙ্গে চীনের যুদ্ধবিরতির আহ্বান

হামাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সেনা পাঠাতে প্রস্তুত মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশ: ট্রাম্প

আপডেট সময় : ১০:১৮:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশ নিজেদের সামরিক বাহিনী পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে। এর মাধ্যমে গাজায় চলমান নড়বড়ে যুদ্ধবিরতির মধ্যেই হামাসকে আবারও সরাসরি হুমকি দিলেন তিনি।

নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে গতকাল মঙ্গলবার ট্রাম্প লেখেন, ‘মধ্যপ্রাচ্য এবং তার আশপাশের অঞ্চলের আমাদের এখনকার মহান মিত্ররা স্পষ্ট ও জোরালোভাবে বড় উৎসাহের সঙ্গে আমাকে জানিয়েছে, তাঁরা আমার অনুরোধে একটি শক্তিশালী বাহিনী নিয়ে গাজায় যাওয়ার সুযোগকে স্বাগত জানাবেন। যদি তারা খারাপ আচরণ অব্যাহত রাখে এবং আমাদের সঙ্গে নিজেদের চুক্তি ভঙ্গ করে, তাহলে তাঁরা “আমাদের হামাসকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেবেন”।’

ট্রাম্প কোন কোন দেশ তাঁকে গাজায় যাওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে, তা প্রকাশ করেননি। তবে অঞ্চলটির বিষয়ে সাহায্য করার জন্য তিনি ইন্দোনেশিয়ার কথা আলাদা করে উল্লেখ করেন।

তিনি লেখেন, ‘মধ্যপ্রাচ্য ও যুক্তরাষ্ট্রকে দেওয়া যাবতীয় সহায়তার জন্য আমি মহান ও শক্তিশালী দেশ ইন্দোনেশিয়া এবং দেশটির অসাধারণ নেতাকে ধন্যবাদ জানাই।’

ইন্দোনেশিয়া ও অন্য কয়েকটি দেশ গাজায় নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য শান্তি রক্ষাকারী সেনা পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো দেশ সরাসরি হামাসের সঙ্গে সংঘর্ষে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেনি।

ট্রাম্প আরও লেখেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের প্রতি এমন ভালোবাসা ও উদ্দীপনা গত এক হাজার বছরের আর কখনো দেখা যায়নি! এটি দেখার মতো এক অপূর্ব দৃশ্য! কিন্তু আমি এসব দেশকে এবং ইসরায়েলকে বলেছি, “এখনই তা নয়!” হামাস সঠিক কাজটি করবে, এখনো এমন আশা করা যায়। তারা যদি তা না করে, তাহলে দ্রুত, ক্রুদ্ধ ও নির্মমভাবে হামাসের পতন হবে।’

গত ১০ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। এর পর থেকে ইসরায়েলের হামলায় গাজায় অন্তত ১০০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসকে ট্রাম্প আগেও একাধিকবার মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো শক্তি এমন কী করতে পারে যা ইসরায়েল করতে পারেনি, তা স্পষ্ট নয়। গত দুই বছরে ইসরায়েল হামাসের প্রায় সব রাজনৈতিক ও সামরিক নেতাকে হত্যা করেছে। পাশাপাশি গাজায় ৬৮ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করা হয়েছে। অবরুদ্ধ উপত্যকাটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং সেখানে তীব্র খাদ্যসংকট চলছে। শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি মানবাধিকার সংস্থা ও জাতিসংঘ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গাজায় জাতিগত নিধনের (জেনোসাইড) অভিযোগ এনেছে।