ঢাকা ১২:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে বড় ধাক্কা: ১৫ হাজার ডলারের ‘ভিসা বন্ড’ তালিকায় বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে ইচ্ছুক বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য দুঃসংবাদ বয়ে এনেছে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের নতুন এক ঘোষণা। যুক্তরাষ্ট্রের হালনাগাদ ‘ভিসা বন্ড’ বা জামানত তালিকায় এবার বাংলাদেশের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। গত ৬ জানুয়ারি প্রকাশিত এই তালিকা অনুযায়ী, ২১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসার ক্ষেত্রে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত জামানত জমা দিতে হতে পারে। বর্তমানে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৩৮টি দেশ এই কঠোর নিয়মের আওতায় রয়েছে।

মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, কোনো আবেদনকারী ভিসার জন্য যোগ্য বিবেচিত হলেও কনস্যুলার অফিসার চাইলে এই বন্ডের শর্তারোপ করতে পারেন। আবেদনকারীর ব্যক্তিগত প্রোফাইল ও সাক্ষাৎকারের ওপর ভিত্তি করে জামানতের পরিমাণ তিনটি ধাপে (৫, ১০ বা ১৫ হাজার ডলার) নির্ধারিত হবে। এই অর্থের মূল লক্ষ্য হলো যারা ভিসার মেয়াদ শেষেও অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থেকে যান (ওভারস্টে), তাদের নিরুৎসাহিত করা। তবে এটি একটি ফেরতযোগ্য জামানত। যাত্রী যদি অনুমোদিত সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেন কিংবা ভিসা পেয়েও ভ্রমণ না করেন, তবে এই টাকা ফেরত পাবেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান করলে বা সেখানে গিয়ে স্ট্যাটাস পরিবর্তনের (যেমন- রাজনৈতিক আশ্রয়) আবেদন করলে পুরো টাকা বাজেয়াপ্ত করা হবে।

ভিসা বন্ড প্রদানকারী বাংলাদেশি যাত্রীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পথও সীমিত করে দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে তারা কেবল তিনটি নির্দিষ্ট বিমানবন্দর দিয়ে প্রবেশ ও বের হতে পারবেন। বিমানবন্দরগুলো হলো—নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (JFK), ওয়াশিংটন ডুলস (IAD) এবং বোস্টন লোগান (BOS)। নির্ধারিত এই পথ ছাড়া অন্য কোনো বিমানবন্দর ব্যবহার করলে বন্ডের শর্ত ভঙ্গ হয়েছে বলে গণ্য হবে এবং জামানতের টাকা ফেরত পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। বন্ডের অর্থ সরাসরি মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘Pay.gov’-এর মাধ্যমে জমা দিতে হবে।

এই নতুন নিয়মের ফলে সাধারণ পর্যটক, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীদের জন্য মার্কিন ভিসা প্রাপ্তি কেবল জটিল নয়, বরং অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়ে দাঁড়াবে। বাংলাদেশের পাশাপাশি আলজেরিয়া, ভুটান, নেপাল ও নাইজেরিয়ার মতো দেশগুলোকেও এই তালিকায় রাখা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশিদের ভিসা ওভারস্টের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র এই পদক্ষেপ নিয়েছে, যা দুই দেশের সাধারণ মানুষের যাতায়াতের ক্ষেত্রে বড় এক প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়াবে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

হামের ছোবলে মৃত্যু ২০০-র পথে: বাড়ছে উদ্বেগ ও সংক্রমণ

যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে বড় ধাক্কা: ১৫ হাজার ডলারের ‘ভিসা বন্ড’ তালিকায় বাংলাদেশ

আপডেট সময় : ০১:০৩:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে ইচ্ছুক বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য দুঃসংবাদ বয়ে এনেছে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের নতুন এক ঘোষণা। যুক্তরাষ্ট্রের হালনাগাদ ‘ভিসা বন্ড’ বা জামানত তালিকায় এবার বাংলাদেশের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। গত ৬ জানুয়ারি প্রকাশিত এই তালিকা অনুযায়ী, ২১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসার ক্ষেত্রে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত জামানত জমা দিতে হতে পারে। বর্তমানে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৩৮টি দেশ এই কঠোর নিয়মের আওতায় রয়েছে।

মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, কোনো আবেদনকারী ভিসার জন্য যোগ্য বিবেচিত হলেও কনস্যুলার অফিসার চাইলে এই বন্ডের শর্তারোপ করতে পারেন। আবেদনকারীর ব্যক্তিগত প্রোফাইল ও সাক্ষাৎকারের ওপর ভিত্তি করে জামানতের পরিমাণ তিনটি ধাপে (৫, ১০ বা ১৫ হাজার ডলার) নির্ধারিত হবে। এই অর্থের মূল লক্ষ্য হলো যারা ভিসার মেয়াদ শেষেও অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থেকে যান (ওভারস্টে), তাদের নিরুৎসাহিত করা। তবে এটি একটি ফেরতযোগ্য জামানত। যাত্রী যদি অনুমোদিত সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেন কিংবা ভিসা পেয়েও ভ্রমণ না করেন, তবে এই টাকা ফেরত পাবেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান করলে বা সেখানে গিয়ে স্ট্যাটাস পরিবর্তনের (যেমন- রাজনৈতিক আশ্রয়) আবেদন করলে পুরো টাকা বাজেয়াপ্ত করা হবে।

ভিসা বন্ড প্রদানকারী বাংলাদেশি যাত্রীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পথও সীমিত করে দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে তারা কেবল তিনটি নির্দিষ্ট বিমানবন্দর দিয়ে প্রবেশ ও বের হতে পারবেন। বিমানবন্দরগুলো হলো—নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (JFK), ওয়াশিংটন ডুলস (IAD) এবং বোস্টন লোগান (BOS)। নির্ধারিত এই পথ ছাড়া অন্য কোনো বিমানবন্দর ব্যবহার করলে বন্ডের শর্ত ভঙ্গ হয়েছে বলে গণ্য হবে এবং জামানতের টাকা ফেরত পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। বন্ডের অর্থ সরাসরি মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘Pay.gov’-এর মাধ্যমে জমা দিতে হবে।

এই নতুন নিয়মের ফলে সাধারণ পর্যটক, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীদের জন্য মার্কিন ভিসা প্রাপ্তি কেবল জটিল নয়, বরং অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়ে দাঁড়াবে। বাংলাদেশের পাশাপাশি আলজেরিয়া, ভুটান, নেপাল ও নাইজেরিয়ার মতো দেশগুলোকেও এই তালিকায় রাখা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশিদের ভিসা ওভারস্টের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র এই পদক্ষেপ নিয়েছে, যা দুই দেশের সাধারণ মানুষের যাতায়াতের ক্ষেত্রে বড় এক প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়াবে।