ঢাকা ০৪:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

বিদেশফেরত মানেই প্রবাসী নয়

বিদেশের মাটিতে কঠোর পরিশ্রম করে রেমিট্যান্স পাঠানো লাখো প্রবাসীর সম্মান রক্ষায় সচেতনতা কাম্য। প্রবাসী শ্রমিক, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী কিংবা পর্যটক—প্রত্যেকেই বিদেশফেরত হতে পারেন, কিন্তু তাদের সবাইকে ‘প্রবাসী’ তকমা দেওয়া বিভ্রান্তিকর। গণমাধ্যমে শুল্ক ফাঁকি বা অবৈধ পণ্য বহনের অভিযোগে আটক ব্যক্তিদের ‘প্রবাসী’ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে, যা জনমনে ভুল ধারণা সৃষ্টি করছে। প্রকৃত প্রবাসী যারা দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছেন, তারা এই সাধারণীকরণের ফলে লজ্জিত ও অপমানিত বোধ করছেন।

বিদেশফেরত কোনো ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশের আগে তাদের ভিসার ধরণ, বিদেশে অবস্থানের মেয়াদ এবং বৈধতা যাচাই করা সাংবাদিকতার নৈতিক দায়িত্বের অংশ। স্বল্পমেয়াদী ভ্রমণকারী বা ব্যক্তিগত মুনাফার আশায় অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈধ পথে কর্মরত প্রবাসীদের গুলিয়ে ফেলা অনুচিত। প্রবাসী সমাজ মনে করে, এ ধরনের তথ্যের বিভ্রান্তি কেবল ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে নয়, বরং দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও অর্থনীতির সঙ্গে জড়িত এই বিশাল জনগোষ্ঠীর ভাবমূর্তিকে সংকটে ফেলে।

গণমাধ্যম ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে যেন তারা সঠিক ও যাচাইকৃত তথ্য উপস্থাপন করেন। প্রবাসীরা দেশের উন্নয়ন ও অর্থনীতির অন্যতম খুঁটি, তাই বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার দায় পুরো প্রবাসী সমাজের ওপর চাপিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই ন্যায়সংগত নয়। সাংবাদিকতার নৈতিক মানদণ্ড রক্ষা এবং প্রবাসীদের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে তথ্যের স্বচ্ছতা ও পরিচয়ের সত্যতা নিশ্চিত করাই হবে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

আগস্ট-সেপ্টেম্বরে ভয়াবহ ডেঙ্গুর আশঙ্কা

বিদেশফেরত মানেই প্রবাসী নয়

আপডেট সময় : ০৩:১৫:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

বিদেশের মাটিতে কঠোর পরিশ্রম করে রেমিট্যান্স পাঠানো লাখো প্রবাসীর সম্মান রক্ষায় সচেতনতা কাম্য। প্রবাসী শ্রমিক, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী কিংবা পর্যটক—প্রত্যেকেই বিদেশফেরত হতে পারেন, কিন্তু তাদের সবাইকে ‘প্রবাসী’ তকমা দেওয়া বিভ্রান্তিকর। গণমাধ্যমে শুল্ক ফাঁকি বা অবৈধ পণ্য বহনের অভিযোগে আটক ব্যক্তিদের ‘প্রবাসী’ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে, যা জনমনে ভুল ধারণা সৃষ্টি করছে। প্রকৃত প্রবাসী যারা দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছেন, তারা এই সাধারণীকরণের ফলে লজ্জিত ও অপমানিত বোধ করছেন।

বিদেশফেরত কোনো ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশের আগে তাদের ভিসার ধরণ, বিদেশে অবস্থানের মেয়াদ এবং বৈধতা যাচাই করা সাংবাদিকতার নৈতিক দায়িত্বের অংশ। স্বল্পমেয়াদী ভ্রমণকারী বা ব্যক্তিগত মুনাফার আশায় অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈধ পথে কর্মরত প্রবাসীদের গুলিয়ে ফেলা অনুচিত। প্রবাসী সমাজ মনে করে, এ ধরনের তথ্যের বিভ্রান্তি কেবল ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে নয়, বরং দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও অর্থনীতির সঙ্গে জড়িত এই বিশাল জনগোষ্ঠীর ভাবমূর্তিকে সংকটে ফেলে।

গণমাধ্যম ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে যেন তারা সঠিক ও যাচাইকৃত তথ্য উপস্থাপন করেন। প্রবাসীরা দেশের উন্নয়ন ও অর্থনীতির অন্যতম খুঁটি, তাই বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার দায় পুরো প্রবাসী সমাজের ওপর চাপিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই ন্যায়সংগত নয়। সাংবাদিকতার নৈতিক মানদণ্ড রক্ষা এবং প্রবাসীদের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে তথ্যের স্বচ্ছতা ও পরিচয়ের সত্যতা নিশ্চিত করাই হবে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।