ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে তিন বাংলাদেশি দিনমজুরকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় বাংলাদেশ সরকার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে।
আজ শুক্রবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই প্রতিবাদ ও নিন্দা প্রকাশ করা হয়।
গত বুধবার ত্রিপুরায় তিন বাংলাদেশিকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে নিহতদের মরদেহ ভারতের পক্ষ থেকে হস্তান্তর করা হয়। নিহত তিনজন হলেন হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার পণ্ডিত মিয়া (৪০), সজল মিয়া (২৫) ও জুয়েল মিয়া (৩৫)। তাঁরা সবাই দিনমজুরের কাজ করতেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ত্রিপুরায় একদল উন্মত্ত জনতা (মব) তিন বাংলাদেশিকে নির্দয়ভাবে পিটিয়ে মারা ও হত্যার ঘটনায় বাংলাদেশ সরকার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এই জঘন্য কাজ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এটি মানবাধিকার ও আইনের শাসনের গুরুতর লঙ্ঘন। বাংলাদেশ সরকার এই দুঃখজনক ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে। এই ঘটনার বিষয়ে অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত করার জন্য বাংলাদেশ সরকার ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে। একই সঙ্গে, ভবিষ্যতে যেন এমন অমানবিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেই জন্য ভারতকে আন্তরিকভাবে পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করছে বাংলাদেশ। দোষীদের চিহ্নিত করে অবশ্যই বিচারের আওতায় আনতে হবে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকার জোর দিয়ে বলতে চায় যে, জাতীয়তা নির্বিশেষে যে কেউ অসাবধানতাবশত সীমান্তের যেকোনো দিকে চলে যেতে পারে; কিন্তু এই পরিস্থিতিতেও তার মানবাধিকারের পূর্ণ সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার আছে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার ত্রিপুরার কারেঙ্গিছড়া এলাকায় গরুচোর সন্দেহে স্থানীয় জনতা তিন বাংলাদেশিকে পিটিয়ে হত্যা করেছেন বলে ভারতের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। পরে বিজিবি খোঁজ নিয়ে জানতে পারে, এই তিনজনের বাড়ি হবিগঞ্জে। বিজিবির পক্ষ থেকে দ্রুত এই তিন ব্যক্তির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।
গতকাল বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে চুনারুঘাটের বাল্লা স্থলবন্দরে নিহত তিনজনের মরদেহ নিয়ে আসে ত্রিপুরা রাজ্য পুলিশ।
রিপোর্টারের নাম 






















