ঢাকা ০৩:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

বিএনপির চার শীর্ষ নেতার আয়-সম্পদ ও মামলা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির চার শীর্ষ নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, মির্জা আব্বাস ও লুৎফুজ্জামান বাবর ধানের শীষ প্রতীকে প্রার্থী হয়েছেন। নির্বাচনি হলফনামায় তারা নিজেদের আয়ের উৎস, বার্ষিক আয়, স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ এবং নিজের বিরুদ্ধে থাকা মামলার তথ্য প্রকাশ করেছেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিভিন্ন খাত থেকে বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ১২ লাখ ৮৩ হাজার ১৩৩ টাকা। তিনি ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী।

নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী মির্জা ফখরুল ইসলামের শিক্ষাগত যোগ্যতা দেখিয়েছেন স্নাতকোত্তর। বয়স ৭৭। আয়কর বিবরণীতে আয়ের খাত দেখিয়েছেন— কৃষি খাত, শেয়ার ব্যবসা, পরামর্শক ও অন্যান্য। কৃষি খাত থেকে তিনি বছরে আয় দেখিয়েছেন ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। একটি মার্কেটের শেয়ার ব্যবসা থেকে আয় দেখিয়েছেন ১ লাখ ৯৭ হাজার টাকা। পরামর্শক হিসেবে দুটি প্রতিষ্ঠান থেকে বছরে সম্মানী ভাতা পান প্রায় ৮ লাখ টাকা। অন্যান্য উৎস থেকে পেয়েছেন আরও ৭ হাজার ৯০১ টাকা। সব মিলিয়ে তার বার্ষিক আয় ১১ লাখ ৮৩ হাজার টাকা।

বিএনপির মহাসচিবের স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে ১ কোটি ৫২ লাখ ৭৮ হাজার ৮৮৩ টাকার সম্পদ রয়েছে বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে ব্যাংকে জমা, নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার, শেয়ারে বিনিয়োগসহ মোট অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ এক কোটি ৩৩ লাখ ৭৩ হাজার ৬৯ টাকা। আর কৃষি ও অকৃষিজমি এবং বাড়ি মিলিয়ে স্থাবর সম্পত্তির মূল্য ১৯ লাখ ৫ হাজার ৮১৪ টাকা।

নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় স্ত্রী রাহাত আরা বেগমের সম্পদেরও বিবরণ দেওয়া হয়েছে। আয়কর বিবরণীতে রাহাত আরা বেগমের প্রায় ২ কোটি ৪৪ লাখ টাকার সম্পদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বছরে আয় দেখিয়েছেন ১২ লাখ ৫০ হাজার ৪৯৩ টাকা।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী

চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আয়কর নথি অনুযায়ী বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন এক কোটি ৫৯ লাখ ৬৩ হাজার ৪২৪ টাকা। সম্পদের পরিমাণ দেখিয়েছেন ২২ কোটি টাকা।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী কৃষি খাতে ৪৫ হাজার টাকা আয় দেখিয়েছেন। বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট ও বাণিজ্যিক স্থান ভাড়া হিসাবে ৬ লাখ ৪ হাজার ৬০০ টাকার তথ্য উল্লেখ করেছেন। শেয়ার, বন্ড ও ব্যাংক আমানত মিলিয়ে ৩৬ লাখ ২৯ হাজার ৮২৪ টাকা এবং আলফা সিকিউরিটিজের শেয়ার থেকে ৩৬ লাখ ৮৪ হাজার টাকা আয় দেখিয়েছেন হলফনামায়। একইসঙ্গে কনকর্ডের সঙ্গে সাইনিং মানি হিসেবে পাওয়া ৮০ লাখ টাকাও আয় হিসেবে দেখিয়েছেন।

হলফনামায় আমির খসরু তার স্ত্রী তাহেরা বেগমের পেশা দেখিয়েছেন ব্যবসা। তার আয় দেখানো হয়েছে ৩৮ লাখ টাকা। ।

হলফনামায় আমির খসরু তার বিরুদ্ধে ৩৪টি মামলার কথা উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে ২৫টি মামলা থেকে অব্যাহতি ও আটটি মামলায় খালাস পেয়েছেন তিনি। একটি মামলা রাষ্ট্রপক্ষ থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন সময়ে এসব মামলা থেকে তিনি অব্যাহতি ও খালাস পান। দুর্নীতির একটি মামলা এখনও বিচারাধীন রয়েছে।

মির্জা আব্বাস

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের জন্য বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হচ্ছেন মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, যিনি সাধারণত মির্জা আব্বাস নামে পরিচিত। তার ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের আয়কর নথি অনুযায়ী বার্ষিক আয় দাঁড়িয়েছে ৯ কোটি ২৬ লাখ ৪৫ হাজার ১৩৩ টাকা, আর আর্থিক মূল্যে সম্পদের পরিমাণ ৫৩ কোটি ১৬ লাখ ৬০ হাজার ৯৪৭ টাকা। নির্বাচনি হলফনামায় এই তথ্য তিনি প্রকাশ করেছেন।

মির্জা আব্বাসের হলফনামা অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে বর্তমানে ২২টি মামলা বিচারাধীন। এর মধ্যে ৭টি মামলা বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে এবং বাকি ১৫টি মামলা দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা। এছাড়া তিনি ১০টি ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন, যেগুলোতে বিচারিক ও উচ্চ আদালতের নির্দেশে খালাস পেয়েছেন।

পেশা হিসেবে মির্জা আব্বাস এবং তার স্ত্রী আফরোজা আব্বাস ব্যবসায় নিয়োজিত। তাদের আয়ের উৎসের মধ্যে রয়েছে— কৃষিখাত, বাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া, বাণিজ্যিক সম্পত্তি, ব্যবসা, শেয়ার-বন্ড, সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক আমানত। এছাড়া শিক্ষকতা, চিকিৎসা, আইন ও পরামর্শক খাত থেকেও আয় দেখানো হয়েছে।

মির্জা আব্বাস ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচিত হয়ে এই পর্যন্ত ৪ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

লুৎফুজ্জামান বাবর

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় নেত্রকোনা-৪ (মদন-মোহনগঞ্জ-খালিয়াজুরী) আসন থেকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এবং সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তার বার্ষিক আয়কর বিবরণীতে আয় দেখিয়েছেন ৬০ লাখ ২ হাজার ৪৫৬ টাকা। সম্পদের পরিমাণ দেখিয়েছেন ১২ কোটি ১০ লাখ ৫৪ হাজার ৮৭৭ টাকা। স্ত্রী তাহমিনা জামানের আয় দেখিয়েছেন ২৪ লাখ ২৬ হাজার ৯০৪ টাকা। সম্পদের পরিমাণ দেখিয়েছেন এক কোটি ৯২ লাখ ৭৭ হাজার ৪০৬ টাকা। সন্তান লাবিব ইবনে জামানের আয় দেখিয়েছেন ১১ লাখ ৫ হাজার ২৪২ টাকা। তার সম্পদের পরিমাণ দেখিয়েছেন দুই কোটি ৪২ লাখ ১০ হাজার ২৮৮ টাকার। আরেক সন্তান আহনাফ ইবনে জামানের আয় দেখিয়েছেন ১১ লাখ ৯১ হাজার ২৪৯ টাকা। তার সম্পদের পরিমাণ দেখিয়েছেন এক কোটি ৬৪ হাজার ৭৪৯ টাকার।

নেত্রকোনা-৪ (মদন-মোহনগঞ্জ-খালিয়াজুরী) আসন থেকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে লুৎফুজ্জামান বাবর ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়। সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা দেখিয়েছেন এসএসসি। পেশা দেখিয়েছেন ব্যবসা।

বিদ্যমান চারটি ফৌজদারি মামলা দেখিয়েছেন। যে চারটি মামলা সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালে বিচারাধীন। এছাড়া আরও ১১টি মামলার তথ্য উল্লেখ করেছেন তিনি। যেগুলো দুর্নীতি দমন আইন, জরুরি ক্ষমতা বিধিমালা, অস্ত্র আইন, বিশেষ ক্ষমতা আইন ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের এসব মামলা দায়ের করা হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ইরানের

বিএনপির চার শীর্ষ নেতার আয়-সম্পদ ও মামলা

আপডেট সময় : ০৯:৩৫:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির চার শীর্ষ নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, মির্জা আব্বাস ও লুৎফুজ্জামান বাবর ধানের শীষ প্রতীকে প্রার্থী হয়েছেন। নির্বাচনি হলফনামায় তারা নিজেদের আয়ের উৎস, বার্ষিক আয়, স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ এবং নিজের বিরুদ্ধে থাকা মামলার তথ্য প্রকাশ করেছেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিভিন্ন খাত থেকে বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ১২ লাখ ৮৩ হাজার ১৩৩ টাকা। তিনি ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী।

নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী মির্জা ফখরুল ইসলামের শিক্ষাগত যোগ্যতা দেখিয়েছেন স্নাতকোত্তর। বয়স ৭৭। আয়কর বিবরণীতে আয়ের খাত দেখিয়েছেন— কৃষি খাত, শেয়ার ব্যবসা, পরামর্শক ও অন্যান্য। কৃষি খাত থেকে তিনি বছরে আয় দেখিয়েছেন ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। একটি মার্কেটের শেয়ার ব্যবসা থেকে আয় দেখিয়েছেন ১ লাখ ৯৭ হাজার টাকা। পরামর্শক হিসেবে দুটি প্রতিষ্ঠান থেকে বছরে সম্মানী ভাতা পান প্রায় ৮ লাখ টাকা। অন্যান্য উৎস থেকে পেয়েছেন আরও ৭ হাজার ৯০১ টাকা। সব মিলিয়ে তার বার্ষিক আয় ১১ লাখ ৮৩ হাজার টাকা।

বিএনপির মহাসচিবের স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে ১ কোটি ৫২ লাখ ৭৮ হাজার ৮৮৩ টাকার সম্পদ রয়েছে বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে ব্যাংকে জমা, নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার, শেয়ারে বিনিয়োগসহ মোট অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ এক কোটি ৩৩ লাখ ৭৩ হাজার ৬৯ টাকা। আর কৃষি ও অকৃষিজমি এবং বাড়ি মিলিয়ে স্থাবর সম্পত্তির মূল্য ১৯ লাখ ৫ হাজার ৮১৪ টাকা।

নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় স্ত্রী রাহাত আরা বেগমের সম্পদেরও বিবরণ দেওয়া হয়েছে। আয়কর বিবরণীতে রাহাত আরা বেগমের প্রায় ২ কোটি ৪৪ লাখ টাকার সম্পদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বছরে আয় দেখিয়েছেন ১২ লাখ ৫০ হাজার ৪৯৩ টাকা।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী

চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আয়কর নথি অনুযায়ী বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন এক কোটি ৫৯ লাখ ৬৩ হাজার ৪২৪ টাকা। সম্পদের পরিমাণ দেখিয়েছেন ২২ কোটি টাকা।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী কৃষি খাতে ৪৫ হাজার টাকা আয় দেখিয়েছেন। বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট ও বাণিজ্যিক স্থান ভাড়া হিসাবে ৬ লাখ ৪ হাজার ৬০০ টাকার তথ্য উল্লেখ করেছেন। শেয়ার, বন্ড ও ব্যাংক আমানত মিলিয়ে ৩৬ লাখ ২৯ হাজার ৮২৪ টাকা এবং আলফা সিকিউরিটিজের শেয়ার থেকে ৩৬ লাখ ৮৪ হাজার টাকা আয় দেখিয়েছেন হলফনামায়। একইসঙ্গে কনকর্ডের সঙ্গে সাইনিং মানি হিসেবে পাওয়া ৮০ লাখ টাকাও আয় হিসেবে দেখিয়েছেন।

হলফনামায় আমির খসরু তার স্ত্রী তাহেরা বেগমের পেশা দেখিয়েছেন ব্যবসা। তার আয় দেখানো হয়েছে ৩৮ লাখ টাকা। ।

হলফনামায় আমির খসরু তার বিরুদ্ধে ৩৪টি মামলার কথা উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে ২৫টি মামলা থেকে অব্যাহতি ও আটটি মামলায় খালাস পেয়েছেন তিনি। একটি মামলা রাষ্ট্রপক্ষ থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন সময়ে এসব মামলা থেকে তিনি অব্যাহতি ও খালাস পান। দুর্নীতির একটি মামলা এখনও বিচারাধীন রয়েছে।

মির্জা আব্বাস

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের জন্য বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হচ্ছেন মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, যিনি সাধারণত মির্জা আব্বাস নামে পরিচিত। তার ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের আয়কর নথি অনুযায়ী বার্ষিক আয় দাঁড়িয়েছে ৯ কোটি ২৬ লাখ ৪৫ হাজার ১৩৩ টাকা, আর আর্থিক মূল্যে সম্পদের পরিমাণ ৫৩ কোটি ১৬ লাখ ৬০ হাজার ৯৪৭ টাকা। নির্বাচনি হলফনামায় এই তথ্য তিনি প্রকাশ করেছেন।

মির্জা আব্বাসের হলফনামা অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে বর্তমানে ২২টি মামলা বিচারাধীন। এর মধ্যে ৭টি মামলা বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে এবং বাকি ১৫টি মামলা দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা। এছাড়া তিনি ১০টি ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন, যেগুলোতে বিচারিক ও উচ্চ আদালতের নির্দেশে খালাস পেয়েছেন।

পেশা হিসেবে মির্জা আব্বাস এবং তার স্ত্রী আফরোজা আব্বাস ব্যবসায় নিয়োজিত। তাদের আয়ের উৎসের মধ্যে রয়েছে— কৃষিখাত, বাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া, বাণিজ্যিক সম্পত্তি, ব্যবসা, শেয়ার-বন্ড, সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক আমানত। এছাড়া শিক্ষকতা, চিকিৎসা, আইন ও পরামর্শক খাত থেকেও আয় দেখানো হয়েছে।

মির্জা আব্বাস ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচিত হয়ে এই পর্যন্ত ৪ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

লুৎফুজ্জামান বাবর

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় নেত্রকোনা-৪ (মদন-মোহনগঞ্জ-খালিয়াজুরী) আসন থেকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এবং সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তার বার্ষিক আয়কর বিবরণীতে আয় দেখিয়েছেন ৬০ লাখ ২ হাজার ৪৫৬ টাকা। সম্পদের পরিমাণ দেখিয়েছেন ১২ কোটি ১০ লাখ ৫৪ হাজার ৮৭৭ টাকা। স্ত্রী তাহমিনা জামানের আয় দেখিয়েছেন ২৪ লাখ ২৬ হাজার ৯০৪ টাকা। সম্পদের পরিমাণ দেখিয়েছেন এক কোটি ৯২ লাখ ৭৭ হাজার ৪০৬ টাকা। সন্তান লাবিব ইবনে জামানের আয় দেখিয়েছেন ১১ লাখ ৫ হাজার ২৪২ টাকা। তার সম্পদের পরিমাণ দেখিয়েছেন দুই কোটি ৪২ লাখ ১০ হাজার ২৮৮ টাকার। আরেক সন্তান আহনাফ ইবনে জামানের আয় দেখিয়েছেন ১১ লাখ ৯১ হাজার ২৪৯ টাকা। তার সম্পদের পরিমাণ দেখিয়েছেন এক কোটি ৬৪ হাজার ৭৪৯ টাকার।

নেত্রকোনা-৪ (মদন-মোহনগঞ্জ-খালিয়াজুরী) আসন থেকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে লুৎফুজ্জামান বাবর ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়। সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা দেখিয়েছেন এসএসসি। পেশা দেখিয়েছেন ব্যবসা।

বিদ্যমান চারটি ফৌজদারি মামলা দেখিয়েছেন। যে চারটি মামলা সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালে বিচারাধীন। এছাড়া আরও ১১টি মামলার তথ্য উল্লেখ করেছেন তিনি। যেগুলো দুর্নীতি দমন আইন, জরুরি ক্ষমতা বিধিমালা, অস্ত্র আইন, বিশেষ ক্ষমতা আইন ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের এসব মামলা দায়ের করা হয়।