ঢাকা ১০:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

আটলান্টিকে রহস্যময় ‘শীতল পিণ্ড’: নেপথ্যে কি মহাবিপর্যয়ের সংকেত?

বিশ্বজুড়ে মহাসমুদ্রগুলোর তাপমাত্রা যখন ক্রমাগত বাড়ছে, ঠিক তখন উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের একটি বিশাল এলাকায় দেখা দিয়েছে বিপরীত চিত্র। গ্রিনল্যান্ড ও আইসল্যান্ডের দক্ষিণে অবস্থিত সাগরের এই অংশটির পানি অস্বাভাবিকভাবে শীতল হয়ে যাচ্ছে, যাকে বিজ্ঞানীরা ‘কোল্ড ব্লব’ বা ‘ওয়ার্মিং হোল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, এই রহস্যময় শীতল অঞ্চলটি আসলে বিশ্ব জলবায়ুর এক বড় ধরনের মহাবিপর্যয়ের আগাম ও ভয়ঙ্কর সংকেত হতে পারে।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ১৯০০ সাল থেকে এ পর্যন্ত ওই অঞ্চলের তাপমাত্রা প্রায় ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস হ্রাস পেয়েছে। দীর্ঘদিনের বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে বিজ্ঞানীরা এখন নিশ্চিত করেছেন যে, এটি মূলত সমুদ্রস্রোত দুর্বল হয়ে পড়ারই লক্ষণ। আটলান্টিক মেরিডিওনাল ওভারটার্নিং সার্কুলেশন বা ‘অ্যামোক’ নামের এই সামুদ্রিক স্রোতব্যবস্থাটি মহাসাগরের একটি বিশাল কনভেয়ার বেল্টের মতো কাজ করে ক্রান্তীয় অঞ্চল থেকে উষ্ণ পানি উত্তর গোলার্ধে নিয়ে আসে। কিন্তু বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে মেরু অঞ্চলের বরফ গলে সাগরে প্রচুর স্বাদু পানি প্রবেশ করায় এই স্রোতের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হচ্ছে।

বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, এই স্রোতব্যবস্থা যদি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়, তবে তা বিশ্বজুড়ে চরম বিপর্যয় ডেকে আনবে। এর ফলে ইউরোপে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ দেখা দিতে পারে, যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা দ্রুত বৃদ্ধি পাবে এবং আফ্রিকায় মৌসুমি বায়ুর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে দীর্ঘস্থায়ী খরা দেখা দিতে পারে। গবেষকদের আশঙ্কা, চলতি শতাব্দীর মধ্যেই এই স্রোতব্যবস্থাটি চূড়ান্ত বিপজ্জনক অবস্থায় পৌঁছে যেতে পারে, যা পৃথিবীর সামগ্রিক জলবায়ুর ভারসাম্যকে তছনছ করে দেবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পিজিসিবির টেন্ডার কেলেঙ্কারি: কালো তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার নেপথ্যে প্রভাবশালী সিন্ডিকেট

আটলান্টিকে রহস্যময় ‘শীতল পিণ্ড’: নেপথ্যে কি মহাবিপর্যয়ের সংকেত?

আপডেট সময় : ০৮:১৬:৩৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

বিশ্বজুড়ে মহাসমুদ্রগুলোর তাপমাত্রা যখন ক্রমাগত বাড়ছে, ঠিক তখন উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের একটি বিশাল এলাকায় দেখা দিয়েছে বিপরীত চিত্র। গ্রিনল্যান্ড ও আইসল্যান্ডের দক্ষিণে অবস্থিত সাগরের এই অংশটির পানি অস্বাভাবিকভাবে শীতল হয়ে যাচ্ছে, যাকে বিজ্ঞানীরা ‘কোল্ড ব্লব’ বা ‘ওয়ার্মিং হোল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, এই রহস্যময় শীতল অঞ্চলটি আসলে বিশ্ব জলবায়ুর এক বড় ধরনের মহাবিপর্যয়ের আগাম ও ভয়ঙ্কর সংকেত হতে পারে।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ১৯০০ সাল থেকে এ পর্যন্ত ওই অঞ্চলের তাপমাত্রা প্রায় ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস হ্রাস পেয়েছে। দীর্ঘদিনের বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে বিজ্ঞানীরা এখন নিশ্চিত করেছেন যে, এটি মূলত সমুদ্রস্রোত দুর্বল হয়ে পড়ারই লক্ষণ। আটলান্টিক মেরিডিওনাল ওভারটার্নিং সার্কুলেশন বা ‘অ্যামোক’ নামের এই সামুদ্রিক স্রোতব্যবস্থাটি মহাসাগরের একটি বিশাল কনভেয়ার বেল্টের মতো কাজ করে ক্রান্তীয় অঞ্চল থেকে উষ্ণ পানি উত্তর গোলার্ধে নিয়ে আসে। কিন্তু বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে মেরু অঞ্চলের বরফ গলে সাগরে প্রচুর স্বাদু পানি প্রবেশ করায় এই স্রোতের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হচ্ছে।

বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, এই স্রোতব্যবস্থা যদি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়, তবে তা বিশ্বজুড়ে চরম বিপর্যয় ডেকে আনবে। এর ফলে ইউরোপে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ দেখা দিতে পারে, যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা দ্রুত বৃদ্ধি পাবে এবং আফ্রিকায় মৌসুমি বায়ুর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে দীর্ঘস্থায়ী খরা দেখা দিতে পারে। গবেষকদের আশঙ্কা, চলতি শতাব্দীর মধ্যেই এই স্রোতব্যবস্থাটি চূড়ান্ত বিপজ্জনক অবস্থায় পৌঁছে যেতে পারে, যা পৃথিবীর সামগ্রিক জলবায়ুর ভারসাম্যকে তছনছ করে দেবে।