ঢাকা ০৩:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

কালো অধ্যাদেশ বাতিলের দাবি ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসায়ীদের

‘ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসার স্বার্থ-বিরোধী’ ট্রাভেল এজেন্সি নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ-২০২৬ বাতিলের জোর দাবি জানিয়েছেন ট্রাভেল এজেন্সি খাতের শীর্ষ নেতা ও ব্যবসায়ীরা। এটিকে ‘কালো অধ্যাদেশ’ বলে উল্লেখ করেছেন তারা।

তারা বলছেন, নতুন অধ্যাদেশের একাধিক ধারা ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসার স্বার্থের পরিপন্থী। এই অধ্যাদেশ কার্যকর হলে দেশে প্রায় পাঁচ হাজার ট্রাভেল এজেন্সি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

রবিবার (৪ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন আটাবের সাবেক সভাপতি মনজুর মোর্শেদ মাহবুব।

ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর পক্ষে তিনি বলেন, গত ১ জানুয়ারি ট্রাভেল এজেন্সি নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ-২০২৬ এর গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। এতে সংযোজিত বেশ কয়েকটি ধারা, উপধারা ও দফা ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসাকে কার্যত অচল করে দেবে।

২০১৩ সালের ৬১ নম্বর আইনের ধারা ৪-এর উপধারা (খ) এর দফা (ঙ) অনুযায়ী হলফনামায় অন্য কোনও ট্রাভেল এজেন্সি থেকে টিকিট ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে না— এমন বিধান রাখা হয়েছে। এতে বলা হয়, বাংলাদেশে প্রায় ৫ হাজার ৮০০ নিবন্ধিত ট্রাভেল এজেন্সির মধ্যে মাত্র ৮০০টি আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থা (আয়াটা)-এর সদস্য।

বাকি প্রায় ৫ হাজার এজেন্সির নিজস্বভাবে এয়ারলাইন্স টিকিট ইস্যুর সক্ষমতা নেই। অন্য এজেন্সি থেকে টিকিট কিনতে না পারলে তারা যাত্রীসেবা দিতে পারবে না এবং লাইসেন্স নবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় বার্ষিক ৫০ লাখ টাকার বিক্রয় বিবরণীও দেখাতে পারবে না। ফলে এসব এজেন্সি বন্ধ হয়ে যেতে বাধ্য হবে।

এসময় আটাব সদস্য কল্যাণ ঐক্যজোটের আহ্বায়ক মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন টিপু বলেন, অধ্যাদেশের ধারা ৪-এর উপধারা (গ) এর দফা (ছ)-এ অফলাইন ট্রাভেল এজেন্সির জন্য ১০ লাখ টাকা ব্যাংক গ্যারান্টির বিধান রাখা হয়েছে। আর্থিক সামর্থ্যের অভাবে প্রায় পাঁচ হাজার ট্রাভেল এজেন্সি আয়াটা সদস্য হতে পারেনি। তাদের পক্ষে কোনোভাবেই ১০ লাখ টাকা জামানত প্রদান করা সম্ভব নয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়,এছাড়া একই ধারার দফায় ট্রাভেল এজেন্সীর ঠিকানায় রিক্রুটিং এজেন্সির ব্যবসা পরিচালনা নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো বিদেশগামী অভিবাসী কর্মীদের সেবা সহজতর করতে একই ঠিকানায় ট্রাভেল এজেন্সি পরিচালনা করছে। পৃথক অফিস ব্যবহার বাধ্যতামূলক হলে খরচ বাড়বে এবং এতে অভিবাসী কর্মীদের মাথাপিছু ব্যয় বাড়বে।

শুনানি ছাড়াই লাইসেন্স স্থগিতের বিধান নিয়ে উদ্বেগ

অধ্যাদেশের ধারা ৯-এর উপধারা (আ)-এর নতুন দফা ৩ অনুযায়ী শুনানি ছাড়াই সরকার সাময়িকভাবে নিবন্ধন সনদ স্থগিত করতে পারবে। এতে বলা হয়, শুনানি ব্যতীত লাইসেন্স স্থগিতের সুযোগ রাখা হলে ট্রাভেল এজেন্সিগুলো হয়রানির শিকার হবে এবং আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যেকোনও সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

শাস্তির মেয়াদ ও জরিমানা বাড়ানোর বিরোধিতা

নতুন অধ্যাদেশে ধারা ১১-এর উপধারা ১ অনুযায়ী শাস্তির বিধান ৬ মাসের কারাদণ্ডের পরিবর্তে ১ বছর এবং জরিমানা ৩ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আগের আইনটি পূর্ণাঙ্গ ও যথাযথ ছিল। তাই আগের মতো ৬ মাসের কারাদণ্ড ও ৩ লাখ টাকা জরিমানার বিধান বহাল রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, প্রায় পাঁচ হাজার ট্রাভেল এজেন্সির মালিক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং তাদের পরিবারের ভবিষ্যৎ বিবেচনায় নিয়ে এই ‘কালো অধ্যাদেশ’ বাতিলের জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ট্রাভেল ব্যবসায়ীরা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজধানীর ডেমরায় বাস-লেগুনা সংঘর্ষে প্রাণ গেল একজনের, আহত একাধিক

কালো অধ্যাদেশ বাতিলের দাবি ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসায়ীদের

আপডেট সময় : ০৪:১৭:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬

‘ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসার স্বার্থ-বিরোধী’ ট্রাভেল এজেন্সি নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ-২০২৬ বাতিলের জোর দাবি জানিয়েছেন ট্রাভেল এজেন্সি খাতের শীর্ষ নেতা ও ব্যবসায়ীরা। এটিকে ‘কালো অধ্যাদেশ’ বলে উল্লেখ করেছেন তারা।

তারা বলছেন, নতুন অধ্যাদেশের একাধিক ধারা ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসার স্বার্থের পরিপন্থী। এই অধ্যাদেশ কার্যকর হলে দেশে প্রায় পাঁচ হাজার ট্রাভেল এজেন্সি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

রবিবার (৪ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন আটাবের সাবেক সভাপতি মনজুর মোর্শেদ মাহবুব।

ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর পক্ষে তিনি বলেন, গত ১ জানুয়ারি ট্রাভেল এজেন্সি নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ-২০২৬ এর গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। এতে সংযোজিত বেশ কয়েকটি ধারা, উপধারা ও দফা ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসাকে কার্যত অচল করে দেবে।

২০১৩ সালের ৬১ নম্বর আইনের ধারা ৪-এর উপধারা (খ) এর দফা (ঙ) অনুযায়ী হলফনামায় অন্য কোনও ট্রাভেল এজেন্সি থেকে টিকিট ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে না— এমন বিধান রাখা হয়েছে। এতে বলা হয়, বাংলাদেশে প্রায় ৫ হাজার ৮০০ নিবন্ধিত ট্রাভেল এজেন্সির মধ্যে মাত্র ৮০০টি আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থা (আয়াটা)-এর সদস্য।

বাকি প্রায় ৫ হাজার এজেন্সির নিজস্বভাবে এয়ারলাইন্স টিকিট ইস্যুর সক্ষমতা নেই। অন্য এজেন্সি থেকে টিকিট কিনতে না পারলে তারা যাত্রীসেবা দিতে পারবে না এবং লাইসেন্স নবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় বার্ষিক ৫০ লাখ টাকার বিক্রয় বিবরণীও দেখাতে পারবে না। ফলে এসব এজেন্সি বন্ধ হয়ে যেতে বাধ্য হবে।

এসময় আটাব সদস্য কল্যাণ ঐক্যজোটের আহ্বায়ক মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন টিপু বলেন, অধ্যাদেশের ধারা ৪-এর উপধারা (গ) এর দফা (ছ)-এ অফলাইন ট্রাভেল এজেন্সির জন্য ১০ লাখ টাকা ব্যাংক গ্যারান্টির বিধান রাখা হয়েছে। আর্থিক সামর্থ্যের অভাবে প্রায় পাঁচ হাজার ট্রাভেল এজেন্সি আয়াটা সদস্য হতে পারেনি। তাদের পক্ষে কোনোভাবেই ১০ লাখ টাকা জামানত প্রদান করা সম্ভব নয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়,এছাড়া একই ধারার দফায় ট্রাভেল এজেন্সীর ঠিকানায় রিক্রুটিং এজেন্সির ব্যবসা পরিচালনা নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো বিদেশগামী অভিবাসী কর্মীদের সেবা সহজতর করতে একই ঠিকানায় ট্রাভেল এজেন্সি পরিচালনা করছে। পৃথক অফিস ব্যবহার বাধ্যতামূলক হলে খরচ বাড়বে এবং এতে অভিবাসী কর্মীদের মাথাপিছু ব্যয় বাড়বে।

শুনানি ছাড়াই লাইসেন্স স্থগিতের বিধান নিয়ে উদ্বেগ

অধ্যাদেশের ধারা ৯-এর উপধারা (আ)-এর নতুন দফা ৩ অনুযায়ী শুনানি ছাড়াই সরকার সাময়িকভাবে নিবন্ধন সনদ স্থগিত করতে পারবে। এতে বলা হয়, শুনানি ব্যতীত লাইসেন্স স্থগিতের সুযোগ রাখা হলে ট্রাভেল এজেন্সিগুলো হয়রানির শিকার হবে এবং আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যেকোনও সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

শাস্তির মেয়াদ ও জরিমানা বাড়ানোর বিরোধিতা

নতুন অধ্যাদেশে ধারা ১১-এর উপধারা ১ অনুযায়ী শাস্তির বিধান ৬ মাসের কারাদণ্ডের পরিবর্তে ১ বছর এবং জরিমানা ৩ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আগের আইনটি পূর্ণাঙ্গ ও যথাযথ ছিল। তাই আগের মতো ৬ মাসের কারাদণ্ড ও ৩ লাখ টাকা জরিমানার বিধান বহাল রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, প্রায় পাঁচ হাজার ট্রাভেল এজেন্সির মালিক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং তাদের পরিবারের ভবিষ্যৎ বিবেচনায় নিয়ে এই ‘কালো অধ্যাদেশ’ বাতিলের জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ট্রাভেল ব্যবসায়ীরা।