ঢাকা ০৫:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ফিরতে তাড়া নেই ইরানের, কৌশলগত অবস্থানে শক্তিমত্তা

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতের পর কয়েক দিন ধরে ইরানের আকাশে আর কোনো বিস্ফোরণ বা বিমান হামলার শব্দ শোনা যায়নি। তবে ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কোনো আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি হয়নি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় ফিরতে তাদের কোনো তাড়া নেই।

ইরানের দাবি, তারা বর্তমানে কৌশলগতভাবে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। দেশটির সামরিক নেতারা যুদ্ধক্ষেত্রে সাফল্যের কথা তুলে ধরছেন এবং কূটনীতিকেরা যুক্তরাষ্ট্রের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করছেন যে, ইরান আলোচনায় ফিরতে মরিয়া।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান মনে করছে বর্তমান অনিশ্চিত পরিস্থিতি—যেখানে পূর্ণ শান্তিও নেই, আবার পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধও নয়—তাদের জন্য সুবিধাজনক। দেশটির মূল লক্ষ্য হলো কৌশলগত হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণের স্বীকৃতি আদায় করা, যা যুক্তরাষ্ট্র এখনো মেনে নিতে রাজি নয়।

তবে এই অবস্থান ইরানের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ। যেকোনো সময় আবার সংঘাত শুরু হতে পারে। পাশাপাশি যুদ্ধ, অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও মার্কিন নৌ অবরোধের কারণে দেশটির অর্থনীতি আরও দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ইরানের সামরিক বাহিনীর সাবেক মুখপাত্র রমজান শরিফ দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘প্রতিটি পর্যায়ে কৌশলগত পরাজয়ের মুখে পড়েছে’। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিকে যুদ্ধবিরতি বলা যাবে না।

অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান আলোচনার জন্য বিরতি চেয়েছে এবং দুই দেশ আলোচনা করছে। তবে ইরান তা অস্বীকার করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান বিশ্বাস করছে সময় তাদের পক্ষেই রয়েছে। তারা মনে করছে, দীর্ঘমেয়াদি চাপ সহ্য করার ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় তাদের বেশি এবং শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটনই তাদের শর্ত মেনে নিতে বাধ্য হবে।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, ইরানও বড় ধরনের ঝুঁকি নিচ্ছে। নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার সুযোগ থাকলেও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মতবিরোধই সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে রয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কুমিল্লায় যুবকের লাশ উদ্ধার: বাবার দাবি পরিকল্পিত হত্যা, তদন্তের জোর দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ফিরতে তাড়া নেই ইরানের, কৌশলগত অবস্থানে শক্তিমত্তা

আপডেট সময় : ০৩:২১:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতের পর কয়েক দিন ধরে ইরানের আকাশে আর কোনো বিস্ফোরণ বা বিমান হামলার শব্দ শোনা যায়নি। তবে ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কোনো আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি হয়নি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় ফিরতে তাদের কোনো তাড়া নেই।

ইরানের দাবি, তারা বর্তমানে কৌশলগতভাবে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। দেশটির সামরিক নেতারা যুদ্ধক্ষেত্রে সাফল্যের কথা তুলে ধরছেন এবং কূটনীতিকেরা যুক্তরাষ্ট্রের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করছেন যে, ইরান আলোচনায় ফিরতে মরিয়া।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান মনে করছে বর্তমান অনিশ্চিত পরিস্থিতি—যেখানে পূর্ণ শান্তিও নেই, আবার পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধও নয়—তাদের জন্য সুবিধাজনক। দেশটির মূল লক্ষ্য হলো কৌশলগত হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণের স্বীকৃতি আদায় করা, যা যুক্তরাষ্ট্র এখনো মেনে নিতে রাজি নয়।

তবে এই অবস্থান ইরানের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ। যেকোনো সময় আবার সংঘাত শুরু হতে পারে। পাশাপাশি যুদ্ধ, অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও মার্কিন নৌ অবরোধের কারণে দেশটির অর্থনীতি আরও দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ইরানের সামরিক বাহিনীর সাবেক মুখপাত্র রমজান শরিফ দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘প্রতিটি পর্যায়ে কৌশলগত পরাজয়ের মুখে পড়েছে’। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিকে যুদ্ধবিরতি বলা যাবে না।

অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান আলোচনার জন্য বিরতি চেয়েছে এবং দুই দেশ আলোচনা করছে। তবে ইরান তা অস্বীকার করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান বিশ্বাস করছে সময় তাদের পক্ষেই রয়েছে। তারা মনে করছে, দীর্ঘমেয়াদি চাপ সহ্য করার ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় তাদের বেশি এবং শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটনই তাদের শর্ত মেনে নিতে বাধ্য হবে।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, ইরানও বড় ধরনের ঝুঁকি নিচ্ছে। নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার সুযোগ থাকলেও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মতবিরোধই সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে রয়েছে।