২০২৬ শিক্ষাবর্ষ শুরু হলেও মাধ্যমিক স্তরের সব শিক্ষার্থীর হাতে এখনও নতুন পাঠ্যবই পৌঁছায়নি। মুদ্রণ কাজের জন্য নির্ধারিত দর কম হওয়ায় অনেক প্রেস মালিক বই ছাপতে অনীহা প্রকাশ করছেন, যা এই বিলম্বের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বিশেষ করে অষ্টম শ্রেণির বই সরবরাহ নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। প্রাথমিক স্তরের শতভাগ বই বছরের প্রথম দিনেই বিতরণ করা সম্ভব হলেও মাধ্যমিকের ২১ কোটি বইয়ের একটি বড় অংশ এখনও প্রেসে আটকে আছে।
২০২৬ শিক্ষাবর্ষের নতুন বই উৎসব উদ্যাপিত হলেও মাধ্যমিক পর্যায়ের অনেক শিক্ষার্থী এখনও খালি হাতে স্কুলে ফিরছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এবার মাধ্যমিকের বই ছাপার কাজে প্রাক্কলিত দরের চেয়ে কম দর দিয়ে কাজ নেওয়ায় প্রেস মালিকরা এখন আর্থিক লোকসানের আশঙ্কায় কাজ পিছিয়ে দিচ্ছেন। এর ফলে বছরের শুরুতেই বড় ধরনের সংকটে পড়েছে মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যক্রম।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সূত্রে জানা গেছে, এবার মাধ্যমিকের প্রতি ফর্মা বইয়ের প্রাক্কলিত দর ছিল ৩ টাকা ৪০ পয়সা। কিন্তু কাজ পাওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমে অনেক প্রেস মালিক মাত্র ২ টাকা ৮৩ পয়সা দরে টেন্ডার জমা দেন। বর্তমানে এই কম দরে বই ছাপতে গিয়ে অনেক মালিকই মুনাফা করতে পারছেন না, যার ফলে তারা ছাপার কাজে গতি কমিয়ে দিয়েছেন। মূলত নিজেদের দেওয়া কম দরের ফাঁদে পড়েই এখন বই সরবরাহে দেরি হচ্ছে।
চলতি বছর সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই শ্রেণির জন্য নির্ধারিত ৪ কোটি ২ লাখ বইয়ের একটি বড় অংশের মুদ্রণ কাজ এখনও বাকি। যদিও প্রাথমিকের ৮ কোটি ৫৯ লাখের বেশি বই সঠিক সময়ে বিতরণ করা হয়েছে, কিন্তু মাধ্যমিকের ক্ষেত্রে চিত্রটি ভিন্ন। মাধ্যমিক স্তরে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ২১ কোটির বেশি বই ছাপার কাজ চলছে, যার মধ্যে অষ্টম শ্রেণির অগ্রগতি সবচেয়ে ধীর।
বই সংকটের কথা স্বীকার করলেও এনসিটিবির বিতরণ নিয়ন্ত্রক মো. মতিউর রহমান পাঠান জানিয়েছেন পরিস্থিতি দ্রুত উন্নতির দিকে যাচ্ছে। তাঁর দেওয়া তথ্যমতে, গতকাল পর্যন্ত অষ্টম শ্রেণির ৫১.৩৮ শতাংশ বই স্কুলে পৌঁছে গেছে এবং ৭১.৩১ শতাংশ বইয়ের ছাপার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কাটিং ও বাইন্ডিং শেষে আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যেই মাধ্যমিকের সব শ্রেণির বই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
পরিসংখ্যান একনজরে (২০২৬ শিক্ষাবর্ষ):
- প্রাথমিক স্তরের বই: ৮ কোটি ৫৯ লাখ ২৫ হাজার ৩৭৯ কপি (সম্পন্ন)।
- মাধ্যমিক স্তরের মোট বই: ২১ কোটির বেশি।
- ষষ্ঠ শ্রেণি: ৪ কোটি ৪৩ লাখের বেশি।
- সপ্তম শ্রেণি: ৪ কোটি ১৫ লাখের বেশি।
- অষ্টম শ্রেণি: ৪ কোটি ২ লাখের বেশি।
- নবম শ্রেণি: ৫ কোটি ৭০ লাখ ৬৮ হাজার ২৮ কপি।
রিপোর্টারের নাম 



















