ঢাকা ১১:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

এলপিজির বাড়তি দাম, রবিবার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক

নির্ধারিত দামে এলপিজি সিলিন্ডার নিশ্চিত করতে রবিবার (৪ জানুয়ারি) ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. ফাওজুল কবির খান। পাশাপাশি সরকারের কোনও করণীয় থাকলে তা যথাযথভাবে পালনের নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। 

শনিবার (৩ জানুয়ারি) রাতে এলপিজির বাড়তি দাম নিয়ে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) সঙ্গে এক সভায় জ্বালানি উপদেষ্টা এই নির্দেশনা দেন।

প্রতিমাসে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে দেয়। কিন্তু সেই দাম থেকে সব সময় ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা বেশি দামে প্রতিটি ১২ কেজির এলপিজির সিলিন্ডার বিক্রি হয়। এখন সেই দাম বাড়তে বাড়তে ৮০০ থেকে এক হাজারে ঠেকেছে। তাও কোনও কোনও এলাকায় এলপিজি মিলছে না। এতে করে গ্রাহক চরম বিপাকে পড়েছে।

গত সপ্তাহের শেষ দিন হুট করে বাজারে এলপিজির ঘাটতি তৈরি হয়। গত বুধবারও ১২ কেজির এক সিলিন্ডার এলপিজি ১ হাজার ২০০ টাকা নির্ধারিত দামের জায়গায় ১ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। গ্রাহক এই দামকে তাদের জন্য স্বাভাবিক বলছেন। কেননা বিইআরসি গত ডিসেম্বর মাসের জন্য ১২ কেজি এলপিজির দাম নির্ধারণ করে দেয় ১ হাজার ২০০ টাকা। কিন্তু ওই মাসে কখনও কোনও এলপিজির গ্রাহক খুচরা দোকান থেকে ১ হাজার ৫৫০ টাকার নিচে এলপিজি কিনতে পারনেনি। সেই হিসেবে গত বুধবার প্রতি সিলিন্ডারে প্রচলিত দামের তুলনায় ৫০ টাকা বৃদ্ধি পায়। কিন্তু বৃহস্পতিবার এবং শুক্রবার অস্বাভাবিক হারে দাম বেড়ে যায়। গত দুদিন খুচরা বিক্রেতাদের কাছে গিয়ে কেউ ১ হাজার ৮০০ টাকার নিচে এললপিজি কিনতে পারেননি। কোনও কোনও দোকানে এই দাম হাকা হয়েছে ২ হাজার ২০০ টাকা।

এমন পরিস্থিতিতে শনিবার নিজ বাসভবনে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব, বিদ্যুৎ বিভাগের সচিবসহ বেশ কয়েকজন সচিব, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ, বিপিসি চেয়ারম্যানসহ পদস্থ কর্মকর্তাদের ডেকেছিলেন। সেখানেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। 

বৈঠকে অংশ নেওয়া বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বৈঠকটি আনুষ্ঠানিক কোনও বৈঠক নয়, সেখানে আরও বেশ কিছু বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে একটা ইস্যু ছিল এলপিজির বাড়তি দাম। তিনি মন্ত্রণালয়কে সরকারের কিছু করণীয় থাকলে সেটি করা নির্দেশনা দেন পাশাপাশি রবিবার বিকালে আনুষ্ঠানিকভাবে বৈঠক করবেন বলে জানান। 

জানা যায়, বাংলাদেশে সাধারণত ওমান, কাতার, মালেশিয়া, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এলপিজি আমদানি হয়ে থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এলপিজি পরিবহন করে এমন কিছু জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এতে করে এলপিজির পরিবহন সংকট সৃষ্টি হয়েছে। কোনও কোনও কোম্পানি পরিবহন সংকটের কারণে এলপিজি আমদানি করতে পারছে না। এতে করে বাজারে সংকট সৃষ্টি হয়েছে। তবে এই পরিস্থিতি সহসাই কেটে যাবে নাকি দীর্ঘ মেয়াদী হবে— সে বিষয়টি এখনও বোঝা যাচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর নতুন বাসভবন: মাটির নিচে অত্যাধুনিক বাংকার ও টানেল নির্মাণের পরিকল্পনা

এলপিজির বাড়তি দাম, রবিবার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক

আপডেট সময় : ১০:৩৪:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬

নির্ধারিত দামে এলপিজি সিলিন্ডার নিশ্চিত করতে রবিবার (৪ জানুয়ারি) ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. ফাওজুল কবির খান। পাশাপাশি সরকারের কোনও করণীয় থাকলে তা যথাযথভাবে পালনের নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। 

শনিবার (৩ জানুয়ারি) রাতে এলপিজির বাড়তি দাম নিয়ে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) সঙ্গে এক সভায় জ্বালানি উপদেষ্টা এই নির্দেশনা দেন।

প্রতিমাসে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে দেয়। কিন্তু সেই দাম থেকে সব সময় ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা বেশি দামে প্রতিটি ১২ কেজির এলপিজির সিলিন্ডার বিক্রি হয়। এখন সেই দাম বাড়তে বাড়তে ৮০০ থেকে এক হাজারে ঠেকেছে। তাও কোনও কোনও এলাকায় এলপিজি মিলছে না। এতে করে গ্রাহক চরম বিপাকে পড়েছে।

গত সপ্তাহের শেষ দিন হুট করে বাজারে এলপিজির ঘাটতি তৈরি হয়। গত বুধবারও ১২ কেজির এক সিলিন্ডার এলপিজি ১ হাজার ২০০ টাকা নির্ধারিত দামের জায়গায় ১ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। গ্রাহক এই দামকে তাদের জন্য স্বাভাবিক বলছেন। কেননা বিইআরসি গত ডিসেম্বর মাসের জন্য ১২ কেজি এলপিজির দাম নির্ধারণ করে দেয় ১ হাজার ২০০ টাকা। কিন্তু ওই মাসে কখনও কোনও এলপিজির গ্রাহক খুচরা দোকান থেকে ১ হাজার ৫৫০ টাকার নিচে এলপিজি কিনতে পারনেনি। সেই হিসেবে গত বুধবার প্রতি সিলিন্ডারে প্রচলিত দামের তুলনায় ৫০ টাকা বৃদ্ধি পায়। কিন্তু বৃহস্পতিবার এবং শুক্রবার অস্বাভাবিক হারে দাম বেড়ে যায়। গত দুদিন খুচরা বিক্রেতাদের কাছে গিয়ে কেউ ১ হাজার ৮০০ টাকার নিচে এললপিজি কিনতে পারেননি। কোনও কোনও দোকানে এই দাম হাকা হয়েছে ২ হাজার ২০০ টাকা।

এমন পরিস্থিতিতে শনিবার নিজ বাসভবনে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব, বিদ্যুৎ বিভাগের সচিবসহ বেশ কয়েকজন সচিব, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ, বিপিসি চেয়ারম্যানসহ পদস্থ কর্মকর্তাদের ডেকেছিলেন। সেখানেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। 

বৈঠকে অংশ নেওয়া বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বৈঠকটি আনুষ্ঠানিক কোনও বৈঠক নয়, সেখানে আরও বেশ কিছু বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে একটা ইস্যু ছিল এলপিজির বাড়তি দাম। তিনি মন্ত্রণালয়কে সরকারের কিছু করণীয় থাকলে সেটি করা নির্দেশনা দেন পাশাপাশি রবিবার বিকালে আনুষ্ঠানিকভাবে বৈঠক করবেন বলে জানান। 

জানা যায়, বাংলাদেশে সাধারণত ওমান, কাতার, মালেশিয়া, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এলপিজি আমদানি হয়ে থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এলপিজি পরিবহন করে এমন কিছু জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এতে করে এলপিজির পরিবহন সংকট সৃষ্টি হয়েছে। কোনও কোনও কোম্পানি পরিবহন সংকটের কারণে এলপিজি আমদানি করতে পারছে না। এতে করে বাজারে সংকট সৃষ্টি হয়েছে। তবে এই পরিস্থিতি সহসাই কেটে যাবে নাকি দীর্ঘ মেয়াদী হবে— সে বিষয়টি এখনও বোঝা যাচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।