ঢাকা ০৫:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

চট্টগ্রামে সাবেক এমপির বাড়ি লক্ষ্য করে সন্ত্রাসীদের গুলি, এলাকায় আতঙ্ক

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:১১:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) ও স্মার্ট গ্রুপের স্বত্বাধিকারী মুজিবুর রহমানের নগরীর চন্দনপুরা এলাকার বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি করেছে সন্ত্রাসীরা।  শুক্রবার (২ জানুয়ারি) ভোর সাড়ে ৬টার দিকে মাইক্রোবাসে চড়ে আসা একদল মুখোশধারী সন্ত্রাসী এই ঘটনা ঘটায়। ওই সময় মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যরা বাড়িতেই ছিলেন। গুলিতে কেউ হতাহত হয়নি। এ ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের (উপকমিশনার) হোসাইন কবির ভূঁইয়া জানান, শুক্রবার ভোরে ৭ থেকে ৮ জনের একদল মুখোশধারী সন্ত্রাসী একটি মাইক্রোবাসে করে এসে ওই ব্যবসায়ীর বাড়ির সামনে এবং পেছনে অবস্থান নিয়ে কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে দ্রুত চলে যায়। চাঁদা আদায়ের উদ্দেশ্যেই এ হামলা চালানো হয়েছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ‘কিছুদিন আগে ব্যবসায়ী মুজিবুর রহমানের মোবাইলে দুবাই থেকে বড় সাজ্জাদ পরিচয়ে চাঁদা দাবি করা হয়। তিনি চাঁদা দেননি। এ বিষয়টি কাউকে বলেননি। ধারণা করছি, চাঁদা না পেয়ে ভয় দেখাতে এ গুলি ছুড়েছে। এ ঘটনায় জড়িতরা সবাই বড় সাজ্জাদের অনুসারী বলে আমরা ধারণা করছি। আমরা সিসিটিভি ফুটেজ নিয়েছি। অপরাধীদের শনাক্তের কাজ চলছে।’

পুলিশ এবং পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী বাহিনীর অনুসারীরা চাঁদা না পেয়ে বাড়ি লক্ষ্য করে এ গুলি করেছে।

ব্যবসায়ী মুজিবুর রহমান বলেন, ‘মাস দেড়েক আগে বড় সাজ্জাদ পরিচয় দিয়ে একটি বিদেশি নম্বর থেকে  ফোন করে আমাকে যোগাযোগ করতে বলেছিল। আমি বিষয়টি তেমন আমলে নিইনি। আজকের ঘটনার সময় আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। আমার বাড়ির সামনে এসে একাধিক রাউন্ড গুলি ছুড়ে পালিয়ে গেছে অজ্ঞাতরা।’

পুলিশ জানিয়েছে, সাজ্জাদ আলী দীর্ঘ দুই দশক ধরে দেশের বাইরে অবস্থান করছে। বিদেশে অবস্থান করে চট্টগ্রাম নগর ও জেলায় একটি সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করছেন। ইন্টারপোলের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় তার নাম রয়েছে। যেখানে তাকে সাজ্জাদ হোসেন খান নামে উল্লেখ করা হয়েছে। সাজ্জাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে।

নগরীর চান্দগাঁও, বায়েজিদ বোস্তামী, পাঁচলাইশ এবং জেলার হাটহাজারী ও রাউজানসহ অন্তত পাঁচটি থানা এলাকায় সাজ্জাদ বাহিনীর বড় ধরনের নেটওয়ার্ক রয়েছে।

ব্যবসায়ী মুজিবুর রহমান আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তিনি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে জয়লাভ করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দক্ষ মানবসম্পদ গড়ায় কারিগরি শিক্ষায় যুগান্তকারী পরিবর্তনের আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর

চট্টগ্রামে সাবেক এমপির বাড়ি লক্ষ্য করে সন্ত্রাসীদের গুলি, এলাকায় আতঙ্ক

আপডেট সময় : ১১:১১:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) ও স্মার্ট গ্রুপের স্বত্বাধিকারী মুজিবুর রহমানের নগরীর চন্দনপুরা এলাকার বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি করেছে সন্ত্রাসীরা।  শুক্রবার (২ জানুয়ারি) ভোর সাড়ে ৬টার দিকে মাইক্রোবাসে চড়ে আসা একদল মুখোশধারী সন্ত্রাসী এই ঘটনা ঘটায়। ওই সময় মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যরা বাড়িতেই ছিলেন। গুলিতে কেউ হতাহত হয়নি। এ ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের (উপকমিশনার) হোসাইন কবির ভূঁইয়া জানান, শুক্রবার ভোরে ৭ থেকে ৮ জনের একদল মুখোশধারী সন্ত্রাসী একটি মাইক্রোবাসে করে এসে ওই ব্যবসায়ীর বাড়ির সামনে এবং পেছনে অবস্থান নিয়ে কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে দ্রুত চলে যায়। চাঁদা আদায়ের উদ্দেশ্যেই এ হামলা চালানো হয়েছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ‘কিছুদিন আগে ব্যবসায়ী মুজিবুর রহমানের মোবাইলে দুবাই থেকে বড় সাজ্জাদ পরিচয়ে চাঁদা দাবি করা হয়। তিনি চাঁদা দেননি। এ বিষয়টি কাউকে বলেননি। ধারণা করছি, চাঁদা না পেয়ে ভয় দেখাতে এ গুলি ছুড়েছে। এ ঘটনায় জড়িতরা সবাই বড় সাজ্জাদের অনুসারী বলে আমরা ধারণা করছি। আমরা সিসিটিভি ফুটেজ নিয়েছি। অপরাধীদের শনাক্তের কাজ চলছে।’

পুলিশ এবং পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী বাহিনীর অনুসারীরা চাঁদা না পেয়ে বাড়ি লক্ষ্য করে এ গুলি করেছে।

ব্যবসায়ী মুজিবুর রহমান বলেন, ‘মাস দেড়েক আগে বড় সাজ্জাদ পরিচয় দিয়ে একটি বিদেশি নম্বর থেকে  ফোন করে আমাকে যোগাযোগ করতে বলেছিল। আমি বিষয়টি তেমন আমলে নিইনি। আজকের ঘটনার সময় আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। আমার বাড়ির সামনে এসে একাধিক রাউন্ড গুলি ছুড়ে পালিয়ে গেছে অজ্ঞাতরা।’

পুলিশ জানিয়েছে, সাজ্জাদ আলী দীর্ঘ দুই দশক ধরে দেশের বাইরে অবস্থান করছে। বিদেশে অবস্থান করে চট্টগ্রাম নগর ও জেলায় একটি সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করছেন। ইন্টারপোলের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় তার নাম রয়েছে। যেখানে তাকে সাজ্জাদ হোসেন খান নামে উল্লেখ করা হয়েছে। সাজ্জাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে।

নগরীর চান্দগাঁও, বায়েজিদ বোস্তামী, পাঁচলাইশ এবং জেলার হাটহাজারী ও রাউজানসহ অন্তত পাঁচটি থানা এলাকায় সাজ্জাদ বাহিনীর বড় ধরনের নেটওয়ার্ক রয়েছে।

ব্যবসায়ী মুজিবুর রহমান আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তিনি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে জয়লাভ করেন।