ঢাকা ০৬:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

সামাজিক সুরক্ষায় ডিজিটাল বিপ্লব: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার ঘোষণা

ঢাকা: ভবিষ্যতে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতাধীন কোনো সেবাই আর ডিজিটাল মাধ্যম ছাড়া দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ। তিনি বলেন, সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থায় পূর্ণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সরকার একটি শক্তিশালী ‘ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার’ গড়ে তুলছে, যার মূল ভিত্তি হবে আন্তঃসংযোগযোগ্যতা।

বুধবার (৪ মার্চ) রাজধানীর ব্র্যাক ইন সেন্টারে সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই ঘোষণা দেন। ‘লুকিং ইনটু বাংলাদেশ’স ডেভেলপমেন্ট: প্রায়োরেটি ফর দ্য নিউলি ইলেক্টেড গভর্নমেন্ট ইন দ্য শর্ট টু মিডিয়াম টার্ম’ শীর্ষক এই বৈঠক যৌথভাবে আয়োজন করে সিপিডি ও দ্য ডেইলি স্টার।

উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জোর দিয়ে বলেন, সরকারের লক্ষ্য ‘এক নাগরিক, এক কার্ড’ ব্যবস্থা চালু করা। এর মাধ্যমে প্রতিটি নাগরিকের সমস্ত তথ্য একটি একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সংযুক্ত থাকবে। ফলে ভাতা বিতরণে অনিয়ম ও অর্থের অপচয় (লিকেজ) উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বর্তমান কাঠামোতে বিদ্যমান তিনটি প্রধান সমস্যার দিকে আলোকপাত করেন উপদেষ্টা। তিনি উল্লেখ করেন, প্রকৃত সুবিধাভোগীরা অনেক সময় তালিকা থেকে বাদ পড়ছেন (এক্সক্লুশন এরর), আবার অনেক অযোগ্য ব্যক্তি তালিকায় ঢুকে পড়ছেন (ইনক্লুশন এরর)। এছাড়া, বিভিন্ন কর্মসূচি বিচ্ছিন্ন ও খণ্ডিতভাবে পরিচালিত হওয়ায় সামগ্রিক সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। তার মতে, একটি একক শনাক্তকরণ পদ্ধতি ও ডিজিটাল কার্ড চালুর মাধ্যমেই এই ত্রুটিগুলো কার্যকরভাবে দূর করা সম্ভব।

মূল্যস্ফীতির দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবে দেশের অর্থনীতিতে সৃষ্ট চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরে রাশেদ আল মাহমুদ বলেন, মধ্যবিত্তের একটি অংশ নিম্ন-মধ্যবিত্তে নেমে আসছে এবং নিম্ন-মধ্যবিত্তদের অনেকেই দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাচ্ছেন। এ পরিস্থিতিতে সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তিনি জানান, সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে, যা নারীকেন্দ্রিক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করবে। উপদেষ্টা ইঙ্গিত দেন যে, বাংলাদেশ এখন টার্গেটভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা থেকে ধীরে ধীরে সর্বজনীন ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

রাজস্ব ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, হাতেগোনা কিছু বৃহৎ করদাতার ওপর নির্ভর করে কর আহরণ দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয়। তিনি এলটিইউ-নির্ভর কর আদায়কে একটি ‘রোগ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, দেশে কর-সংস্কৃতির ব্যাপক বিস্তার ঘটাতে হবে এবং জিডিপির অনুপাতে কর আদায়ের পরিমাণ বাড়াতে হবে। বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় সম্প্রসারণমূলক রাজস্বনীতি গ্রহণের সুযোগ নেই এবং কঠোর মিতব্যয়িতাও সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, একমাত্র উপায় হলো সরকারি অপচয় রোধ করা।

বিদ্যুৎ খাতে প্রতি বছর প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকিকে ‘অসহনীয়’ ও দীর্ঘমেয়াদে অটেকসই উল্লেখ করে রাশেদ আল মাহমুদ বলেন, এই বিশাল ব্যয়ভার সামাল দিতে বিদ্যুৎ চুক্তিগুলো পুনঃআলোচনা করা, সিস্টেম লস কমানো এবং দেশীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিতে হবে।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। স্বাগত বক্তব্য দেন মাহফুজ আনাম। এতে ব্যবসায়ী, নীতিনির্ধারক ও বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানালেন খলিলুর রহমান

সামাজিক সুরক্ষায় ডিজিটাল বিপ্লব: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার ঘোষণা

আপডেট সময় : ০৫:১১:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬

ঢাকা: ভবিষ্যতে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতাধীন কোনো সেবাই আর ডিজিটাল মাধ্যম ছাড়া দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ। তিনি বলেন, সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থায় পূর্ণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সরকার একটি শক্তিশালী ‘ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার’ গড়ে তুলছে, যার মূল ভিত্তি হবে আন্তঃসংযোগযোগ্যতা।

বুধবার (৪ মার্চ) রাজধানীর ব্র্যাক ইন সেন্টারে সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই ঘোষণা দেন। ‘লুকিং ইনটু বাংলাদেশ’স ডেভেলপমেন্ট: প্রায়োরেটি ফর দ্য নিউলি ইলেক্টেড গভর্নমেন্ট ইন দ্য শর্ট টু মিডিয়াম টার্ম’ শীর্ষক এই বৈঠক যৌথভাবে আয়োজন করে সিপিডি ও দ্য ডেইলি স্টার।

উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জোর দিয়ে বলেন, সরকারের লক্ষ্য ‘এক নাগরিক, এক কার্ড’ ব্যবস্থা চালু করা। এর মাধ্যমে প্রতিটি নাগরিকের সমস্ত তথ্য একটি একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সংযুক্ত থাকবে। ফলে ভাতা বিতরণে অনিয়ম ও অর্থের অপচয় (লিকেজ) উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বর্তমান কাঠামোতে বিদ্যমান তিনটি প্রধান সমস্যার দিকে আলোকপাত করেন উপদেষ্টা। তিনি উল্লেখ করেন, প্রকৃত সুবিধাভোগীরা অনেক সময় তালিকা থেকে বাদ পড়ছেন (এক্সক্লুশন এরর), আবার অনেক অযোগ্য ব্যক্তি তালিকায় ঢুকে পড়ছেন (ইনক্লুশন এরর)। এছাড়া, বিভিন্ন কর্মসূচি বিচ্ছিন্ন ও খণ্ডিতভাবে পরিচালিত হওয়ায় সামগ্রিক সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। তার মতে, একটি একক শনাক্তকরণ পদ্ধতি ও ডিজিটাল কার্ড চালুর মাধ্যমেই এই ত্রুটিগুলো কার্যকরভাবে দূর করা সম্ভব।

মূল্যস্ফীতির দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবে দেশের অর্থনীতিতে সৃষ্ট চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরে রাশেদ আল মাহমুদ বলেন, মধ্যবিত্তের একটি অংশ নিম্ন-মধ্যবিত্তে নেমে আসছে এবং নিম্ন-মধ্যবিত্তদের অনেকেই দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাচ্ছেন। এ পরিস্থিতিতে সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তিনি জানান, সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে, যা নারীকেন্দ্রিক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করবে। উপদেষ্টা ইঙ্গিত দেন যে, বাংলাদেশ এখন টার্গেটভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা থেকে ধীরে ধীরে সর্বজনীন ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

রাজস্ব ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, হাতেগোনা কিছু বৃহৎ করদাতার ওপর নির্ভর করে কর আহরণ দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয়। তিনি এলটিইউ-নির্ভর কর আদায়কে একটি ‘রোগ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, দেশে কর-সংস্কৃতির ব্যাপক বিস্তার ঘটাতে হবে এবং জিডিপির অনুপাতে কর আদায়ের পরিমাণ বাড়াতে হবে। বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় সম্প্রসারণমূলক রাজস্বনীতি গ্রহণের সুযোগ নেই এবং কঠোর মিতব্যয়িতাও সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, একমাত্র উপায় হলো সরকারি অপচয় রোধ করা।

বিদ্যুৎ খাতে প্রতি বছর প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকিকে ‘অসহনীয়’ ও দীর্ঘমেয়াদে অটেকসই উল্লেখ করে রাশেদ আল মাহমুদ বলেন, এই বিশাল ব্যয়ভার সামাল দিতে বিদ্যুৎ চুক্তিগুলো পুনঃআলোচনা করা, সিস্টেম লস কমানো এবং দেশীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিতে হবে।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। স্বাগত বক্তব্য দেন মাহফুজ আনাম। এতে ব্যবসায়ী, নীতিনির্ধারক ও বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।