মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝে ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপকে সমর্থন না করায় স্পেনের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এই প্রবল চাপের মুখেও স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ যুদ্ধের বিরুদ্ধে তার দেশের অটল অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে শান্তি ও কূটনীতির পক্ষে জোরালো বার্তা দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী সানচেজ তার সাম্প্রতিক এক ভাষণে স্পষ্ট জানিয়েছেন, বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে তার সরকারের নীতি তিনটি শব্দে সীমাবদ্ধ – ‘যুদ্ধ নয়’। তিনি মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতকে ‘কোটি কোটি মানুষের ভাগ্য নিয়ে এক ধরনের রুশ রুলেট খেলা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। গাজায় ইসরায়েলের অভিযানের কঠোর সমালোচক হিসেবে পরিচিত এই নেতা সাফ জানিয়ে দেন, কোনো প্রতিশোধের ভয়ে তার দেশ এমন কোনো কিছুর অংশীদার হবে না, যা বিশ্বের জন্য ক্ষতিকর এবং স্পেনের মূল্যবোধ ও স্বার্থের পরিপন্থী।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পেনের সমালোচনা করে বলেছিলেন, ইরান হামলা অব্যাহত রাখতে দক্ষিণ স্পেনের যৌথ সামরিক ঘাঁটিগুলো ব্যবহারের অনুমতি না দিয়ে দেশটি ‘ভয়াবহ’ আচরণ করেছে। এ সময় তিনি মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারিকে স্পেনের সঙ্গে সব ধরনের লেনদেন বন্ধের নির্দেশ দেন। ট্রাম্প আরও ক্ষোভ প্রকাশ করেন যে, ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যয় জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার প্রস্তাব স্পেন গ্রহণ করেনি।
ট্রাম্পের হুমকির জবাবে সানচেজ দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, একটি অবৈধ কাজের উত্তর আরেকটি অবৈধ কাজ দিয়ে দেওয়া যায় না। এভাবেই মানবতার বড় বিপর্যয়গুলো শুরু হয়। তিনি ২০০৩ সালের ইরাক আক্রমণের উদাহরণ টেনে সতর্ক করেন যে, সেই যুদ্ধ নিরাপত্তার বদলে ইউরোপে সবচেয়ে বড় নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করেছিল। সানচেজ আরও বলেন, কিছু নেতা নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে যুদ্ধের ধোঁয়াশা তৈরি করেন এবং এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু মানুষের পকেট ভারী করেন। যখন বিশ্ব হাসপাতাল নির্মাণ বন্ধ করে ক্ষেপণাস্ত্র বানানো শুরু করে, তখন কেবল তারাই লাভবান হয়।
এদিকে, স্পেনের পাশে দাঁড়িয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস জানিয়েছেন, তিনি ট্রাম্পকে ব্যক্তিগতভাবে বলেছেন যে ইইউ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বাণিজ্য চুক্তি থেকে স্পেনকে বাদ দেওয়ার সুযোগ নেই। ইইউ কমিশনও স্পেনের অবস্থানকে সমর্থন করে বলেছে, ইইউর বাণিজ্য নীতি ব্লক হিসেবে পরিচালিত হয়, কোনো একক দেশের ওপর প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয়। এই ঘটনা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন এক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যেখানে একটি দেশের নৈতিক অবস্থান পরাশক্তির হুমকির মুখেও অটল থাকতে পারে।
রিপোর্টারের নাম 























