ঢাকা ০৬:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত: মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ছেন ৯ হাজার মার্কিন নাগরিক, আঞ্চলিক উত্তেজনা তুঙ্গে

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরান জুড়ে সংঘাত তীব্র রূপ নেওয়ার প্রেক্ষাপটে প্রায় ৯ হাজার মার্কিন নাগরিক মধ্যপ্রাচ্য ছেড়েছেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সংঘাতের চতুর্থ দিনে মঙ্গলবারও ইরানের রাজধানী তেহরানে ব্যাপক বোমাবর্ষণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনার সময় এখন পার হয়ে গেছে, এখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। এই চার দিনের সংঘাতে ইতোমধ্যে কয়েকশ ইরানি নাগরিক নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ১৬৫ জন শিশু ও স্কুলকর্মী রয়েছেন। অন্যদিকে, ছয়জন মার্কিন সেনাও প্রাণ হারিয়েছেন।

পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরানও উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল স্থাপনা এবং মার্কিন কূটনৈতিক মিশনগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়েছে তেহরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ায়। এর প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েল লেবাননের আরও ভেতরে সেনা পাঠিয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও সাংবাদিকদের জানান, বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৬০০ মার্কিন নাগরিক সহায়তার জন্য আবেদন করেছেন। তিনি দুবাইয়ে মার্কিন কনস্যুলেটের পাশে ড্রোন হামলার খবরও নিশ্চিত করেন। ড্রোনটি কনস্যুলেট ভবনের পাশে একটি পার্কিং লটে আঘাত হানলে সেখানে আগুন ধরে যায়, তবে দূতাবাসের সব কর্মী নিরাপদ আছেন।

এদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টারা কংগ্রেস সদস্যদের সামনে ইরান যুদ্ধের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। রুবিও ছাড়াও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ এবং জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন প্রথমে ১০০ সদস্যের সিনেট এবং পরে ৪৩২ সদস্যের হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে এ বিষয়ে ব্রিফিং করবেন।

সিনেট এবং হাউস উভয় কক্ষেই রিপাবলিকানদের সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে এবং তারা ট্রাম্পের নীতিগুলোর প্রতি জোরালো সমর্থন দিয়ে আসছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে এই যুদ্ধ শুরুর পর রিপাবলিকানদের কেউ কেউ ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে একমত হয়ে বলছেন, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্টের বিদেশে সেনা পাঠানো উচিত নয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানালেন খলিলুর রহমান

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত: মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ছেন ৯ হাজার মার্কিন নাগরিক, আঞ্চলিক উত্তেজনা তুঙ্গে

আপডেট সময় : ০৫:১০:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরান জুড়ে সংঘাত তীব্র রূপ নেওয়ার প্রেক্ষাপটে প্রায় ৯ হাজার মার্কিন নাগরিক মধ্যপ্রাচ্য ছেড়েছেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সংঘাতের চতুর্থ দিনে মঙ্গলবারও ইরানের রাজধানী তেহরানে ব্যাপক বোমাবর্ষণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনার সময় এখন পার হয়ে গেছে, এখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। এই চার দিনের সংঘাতে ইতোমধ্যে কয়েকশ ইরানি নাগরিক নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ১৬৫ জন শিশু ও স্কুলকর্মী রয়েছেন। অন্যদিকে, ছয়জন মার্কিন সেনাও প্রাণ হারিয়েছেন।

পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরানও উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল স্থাপনা এবং মার্কিন কূটনৈতিক মিশনগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়েছে তেহরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ায়। এর প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েল লেবাননের আরও ভেতরে সেনা পাঠিয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও সাংবাদিকদের জানান, বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৬০০ মার্কিন নাগরিক সহায়তার জন্য আবেদন করেছেন। তিনি দুবাইয়ে মার্কিন কনস্যুলেটের পাশে ড্রোন হামলার খবরও নিশ্চিত করেন। ড্রোনটি কনস্যুলেট ভবনের পাশে একটি পার্কিং লটে আঘাত হানলে সেখানে আগুন ধরে যায়, তবে দূতাবাসের সব কর্মী নিরাপদ আছেন।

এদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টারা কংগ্রেস সদস্যদের সামনে ইরান যুদ্ধের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। রুবিও ছাড়াও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ এবং জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন প্রথমে ১০০ সদস্যের সিনেট এবং পরে ৪৩২ সদস্যের হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে এ বিষয়ে ব্রিফিং করবেন।

সিনেট এবং হাউস উভয় কক্ষেই রিপাবলিকানদের সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে এবং তারা ট্রাম্পের নীতিগুলোর প্রতি জোরালো সমর্থন দিয়ে আসছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে এই যুদ্ধ শুরুর পর রিপাবলিকানদের কেউ কেউ ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে একমত হয়ে বলছেন, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্টের বিদেশে সেনা পাঠানো উচিত নয়।