ঢাকা ০৬:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

দক্ষ মানবসম্পদ গড়ায় কারিগরি শিক্ষায় যুগান্তকারী পরিবর্তনের আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর

দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরিত করার লক্ষ্যে কারিগরি শিক্ষাকে যুগোপযোগী ও বাজারমুখী করার ওপর জোর দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বুধবার (৪ মার্চ) কারিগরি শিক্ষা অধিদফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ আহ্বান জানান।

শিক্ষা অধিদফতরের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এই সভায় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “আধুনিক বিশ্বের চাহিদা পূরণে এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষাকে আরও কার্যকর করতে হবে। এজন্য সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (PPP) জোরদার করা, শিল্প খাত ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দৃঢ় সংযোগ স্থাপন এবং পাঠ্যক্রম ও সিলেবাসের আধুনিকায়ন অপরিহার্য।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, কারিগরি শিক্ষার বিভিন্ন সূচক প্রাথমিকভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে আরও গভীর অধ্যয়ন করে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হবে। সভায় সভাপতিত্ব করেন কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম।

মন্ত্রী স্বীকার করেন যে, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ, শিল্প খাতের সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সমন্বয় এবং বাজারমুখী পাঠ্যক্রম প্রণয়নের ক্ষেত্রে কিছু দুর্বলতা এখনো বিদ্যমান। তিনি দ্রুত এই দুর্বলতাগুলো কাটিয়ে ওঠার নির্দেশ দেন। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে ড. মিলন বলেন, “মন্ত্রণালয়ের নির্দেশের অপেক্ষায় না থেকে প্রত্যেককে নিজ নিজ বিভাগ, প্রকল্প ও প্রতিষ্ঠানে উন্নয়নমূলক উদ্যোগ চিহ্নিত করতে হবে এবং সৃজনশীলতা ও উদ্যমের সঙ্গে কাজ করতে হবে।”

শিক্ষামন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় দেশের মানবসম্পদ তৈরির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। প্রায় ১৮ কোটি মানুষের এই দেশে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা একটি বিশাল দায়িত্ব। এই বিপুল জনগোষ্ঠীকে সঠিকভাবে দক্ষতায় রূপান্তরিত করা গেলে তা দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে। তিনি কারিগরি, ভোকেশনাল এবং পলিটেকনিকসহ সকল কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত তাত্ত্বিক শিক্ষার পরিবর্তে ব্যবহারিক ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং এজন্য কারিকুলাম ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার যথাযথ পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার প্রসঙ্গে ড. মিলন বলেন, “প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর সুযোগ আরও সম্প্রসারণ করা হবে।” তিনি যোগ করেন, উন্নত বিশ্বের অনেক দেশে জনসংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশ জনসংখ্যার দিক থেকে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। এই জনশক্তিকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করা গেলে বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে একটি শক্তিশালী ও মানবসম্পদসমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানালেন খলিলুর রহমান

দক্ষ মানবসম্পদ গড়ায় কারিগরি শিক্ষায় যুগান্তকারী পরিবর্তনের আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর

আপডেট সময় : ০৫:১৩:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬

দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরিত করার লক্ষ্যে কারিগরি শিক্ষাকে যুগোপযোগী ও বাজারমুখী করার ওপর জোর দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বুধবার (৪ মার্চ) কারিগরি শিক্ষা অধিদফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ আহ্বান জানান।

শিক্ষা অধিদফতরের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এই সভায় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “আধুনিক বিশ্বের চাহিদা পূরণে এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষাকে আরও কার্যকর করতে হবে। এজন্য সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (PPP) জোরদার করা, শিল্প খাত ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দৃঢ় সংযোগ স্থাপন এবং পাঠ্যক্রম ও সিলেবাসের আধুনিকায়ন অপরিহার্য।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, কারিগরি শিক্ষার বিভিন্ন সূচক প্রাথমিকভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে আরও গভীর অধ্যয়ন করে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হবে। সভায় সভাপতিত্ব করেন কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম।

মন্ত্রী স্বীকার করেন যে, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ, শিল্প খাতের সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সমন্বয় এবং বাজারমুখী পাঠ্যক্রম প্রণয়নের ক্ষেত্রে কিছু দুর্বলতা এখনো বিদ্যমান। তিনি দ্রুত এই দুর্বলতাগুলো কাটিয়ে ওঠার নির্দেশ দেন। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে ড. মিলন বলেন, “মন্ত্রণালয়ের নির্দেশের অপেক্ষায় না থেকে প্রত্যেককে নিজ নিজ বিভাগ, প্রকল্প ও প্রতিষ্ঠানে উন্নয়নমূলক উদ্যোগ চিহ্নিত করতে হবে এবং সৃজনশীলতা ও উদ্যমের সঙ্গে কাজ করতে হবে।”

শিক্ষামন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় দেশের মানবসম্পদ তৈরির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। প্রায় ১৮ কোটি মানুষের এই দেশে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা একটি বিশাল দায়িত্ব। এই বিপুল জনগোষ্ঠীকে সঠিকভাবে দক্ষতায় রূপান্তরিত করা গেলে তা দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে। তিনি কারিগরি, ভোকেশনাল এবং পলিটেকনিকসহ সকল কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত তাত্ত্বিক শিক্ষার পরিবর্তে ব্যবহারিক ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং এজন্য কারিকুলাম ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার যথাযথ পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার প্রসঙ্গে ড. মিলন বলেন, “প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর সুযোগ আরও সম্প্রসারণ করা হবে।” তিনি যোগ করেন, উন্নত বিশ্বের অনেক দেশে জনসংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশ জনসংখ্যার দিক থেকে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। এই জনশক্তিকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করা গেলে বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে একটি শক্তিশালী ও মানবসম্পদসমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে।