তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি দীর্ঘ ও প্রভাবশালী অধ্যায়ের অবসান ঘটল। গত ৩০ ডিসেম্বর ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮০ বছর বয়সে তাঁর মহাপ্রয়াণ ঘটে। ৩১ ডিসেম্বর ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে অনুষ্ঠিত তাঁর জানাজায় লক্ষ লক্ষ মানুষের ঢল নামে, যেখানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা এবং বিদেশি কূটনীতিকরা উপস্থিত থেকে এই ‘আপসহীন নেত্রী’র প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান। তবে এই শোকের আবহ কাটিয়ে ওঠার আগেই বিএনপির সামনে দাঁড়িয়েছে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় নির্বাচনের বিশাল চ্যালেঞ্জ।
বিশ্লেষকদের মতে, খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতি বিএনপিকে এক অনিশ্চিত কিন্তু নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি করেছে। এখন দলের সম্পূর্ণ কর্তৃত্ব ও দায়ভার বর্তেছে তাঁর পুত্র এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওপর, যিনি দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরেছেন। খালেদা জিয়া যেমন দলের ঐক্যের প্রতীক ছিলেন, তারেক রহমানের সামনে এখন সেই ঐক্য ধরে রেখে ২০২৬-এর নির্বাচনে জয় ছিনিয়ে আনার কঠিন পরীক্ষা। দলটির নীতি-নির্ধারকরা দাবি করছেন যে, তারেক রহমান ইতিমধ্যেই নিজেকে দলের অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে প্রমাণ করেছেন এবং তাঁর ‘৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কার’ এজেন্ডার মাধ্যমে তরুণ ও সাধারণ ভোটারদের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছেন।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমেদের মতে, খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত ক্যারিশমা ও আপসহীন ইমেজ যে শক্তি বিএনপিকে জোগাত, তার অভাব দলকে কিছুটা হলেও ভোগাবে। তারেক রহমানকে এখন ময়দানের রাজনীতিতে নিজের নেতৃত্বের দক্ষতা প্রমাণ করতে হবে। ২০২৬-এর নির্বাচন তাঁর জন্য এক অগ্নিপরীক্ষা; যেখানে জয়ী হলে তিনি সফল রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবেন, আর ব্যর্থ হলে দলের ভেতরে তাঁর নেতৃত্বের ওপর চাপ বাড়তে পারে। মূলত খালেদা জিয়ার প্রয়াণের মধ্য দিয়ে বিএনপি এখন পুরোপুরি ‘তারেক যুগে’ প্রবেশ করল, যার লক্ষ্য কেবল ক্ষমতায় যাওয়া নয়, বরং একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনর্গঠন করা।
রিপোর্টারের নাম 























