ঢাকা ০৯:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল: ধাপে ধাপে চালুর পরিকল্পনা, জাপানের সঙ্গে চুক্তি বাংলাদেশের স্বার্থে

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পর্যায়ক্রমে চালু করার পরিকল্পনা নিয়ে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, টার্মিনাল পরিচালনায় জাপানের সঙ্গে যে চুক্তি হতে চলেছে, তা বাংলাদেশের স্বার্থ সম্পূর্ণভাবে রক্ষা করেই সম্পাদিত হবে।

সোমবার এভিয়েশন ও ট্যুরিজম বিটের সাংবাদিকদের সংগঠন এভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম জার্নালিস্টস ফোরাম বাংলাদেশ (এটিজেএফবি) আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব তথ্য জানান। চেয়ারম্যান বলেন, চুক্তিটি সম্পূর্ণ ন্যায্য হবে এবং দেশের স্বার্থ রক্ষায় যা যা প্রয়োজন, তা নিশ্চিত করা হবে। এ পর্যন্ত নয় দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং তিনি আশ্বাস দেন যে, দেশের স্বার্থ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে।

তিনি আরও জানান, কিছু বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত হলেও, এখনো কিছু অমীমাংসিত বিষয় রয়ে গেছে। তবে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার ব্যাপারে তিনি আশাবাদী। চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার পর, এটি বাস্তবায়নের জন্য ছয় মাস থেকে এক বছরের একটি ‘টেস্ট রান’ বা পরীক্ষামূলক পরিচালনা পর্ব থাকবে। এই পরীক্ষামূলক পর্যায় শেষ হওয়ার প্রায় ছয় মাস পর সীমিত আকারে তৃতীয় টার্মিনাল চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ১৬ ডিসেম্বর তারিখকে একটি লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে সামনে রেখে কাজ এগিয়ে চলেছে। বিমানবন্দর স্থানান্তরের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ঝুঁকিগুলো উল্লেখ করে চেয়ারম্যান বলেন, বিশ্বের অনেক বিশেষজ্ঞের গবেষণা অনুযায়ী, একটি বিমানবন্দর থেকে অন্যটিতে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া প্রায় ৭৪ শতাংশ ক্ষেত্রেই ব্যর্থ হয়। তাই তারা সময় নিয়ে এগোচ্ছেন এবং কোনো প্রকার অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে সচেষ্ট আছেন।

দীর্ঘদিন ধরে তৃতীয় টার্মিনাল অব্যবহৃত থাকায় সেখানে স্থাপিত যন্ত্রপাতির মেয়াদ এবং রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে চেয়ারম্যান জানান, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এডিসি-এর সাথে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এডিসি জানিয়েছে যে, তারা নিয়মিতভাবে যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ করছে এবং ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এই পরিষেবা চালিয়ে যেতে পারবে। মৌখিকভাবে তারা ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত সহায়তা প্রদানের কথাও জানিয়েছে। যদি জাপানি প্রতিষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্ব পায়, তবে তাদের সাথেও এ বিষয়ে আলোচনা করা হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

তাওহীদ হৃদয়ের ব্যাটে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুর্দান্ত জয় বাংলাদেশের

শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল: ধাপে ধাপে চালুর পরিকল্পনা, জাপানের সঙ্গে চুক্তি বাংলাদেশের স্বার্থে

আপডেট সময় : ০৮:১৮:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পর্যায়ক্রমে চালু করার পরিকল্পনা নিয়ে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, টার্মিনাল পরিচালনায় জাপানের সঙ্গে যে চুক্তি হতে চলেছে, তা বাংলাদেশের স্বার্থ সম্পূর্ণভাবে রক্ষা করেই সম্পাদিত হবে।

সোমবার এভিয়েশন ও ট্যুরিজম বিটের সাংবাদিকদের সংগঠন এভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম জার্নালিস্টস ফোরাম বাংলাদেশ (এটিজেএফবি) আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব তথ্য জানান। চেয়ারম্যান বলেন, চুক্তিটি সম্পূর্ণ ন্যায্য হবে এবং দেশের স্বার্থ রক্ষায় যা যা প্রয়োজন, তা নিশ্চিত করা হবে। এ পর্যন্ত নয় দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং তিনি আশ্বাস দেন যে, দেশের স্বার্থ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে।

তিনি আরও জানান, কিছু বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত হলেও, এখনো কিছু অমীমাংসিত বিষয় রয়ে গেছে। তবে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার ব্যাপারে তিনি আশাবাদী। চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার পর, এটি বাস্তবায়নের জন্য ছয় মাস থেকে এক বছরের একটি ‘টেস্ট রান’ বা পরীক্ষামূলক পরিচালনা পর্ব থাকবে। এই পরীক্ষামূলক পর্যায় শেষ হওয়ার প্রায় ছয় মাস পর সীমিত আকারে তৃতীয় টার্মিনাল চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ১৬ ডিসেম্বর তারিখকে একটি লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে সামনে রেখে কাজ এগিয়ে চলেছে। বিমানবন্দর স্থানান্তরের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ঝুঁকিগুলো উল্লেখ করে চেয়ারম্যান বলেন, বিশ্বের অনেক বিশেষজ্ঞের গবেষণা অনুযায়ী, একটি বিমানবন্দর থেকে অন্যটিতে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া প্রায় ৭৪ শতাংশ ক্ষেত্রেই ব্যর্থ হয়। তাই তারা সময় নিয়ে এগোচ্ছেন এবং কোনো প্রকার অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে সচেষ্ট আছেন।

দীর্ঘদিন ধরে তৃতীয় টার্মিনাল অব্যবহৃত থাকায় সেখানে স্থাপিত যন্ত্রপাতির মেয়াদ এবং রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে চেয়ারম্যান জানান, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এডিসি-এর সাথে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এডিসি জানিয়েছে যে, তারা নিয়মিতভাবে যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ করছে এবং ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এই পরিষেবা চালিয়ে যেতে পারবে। মৌখিকভাবে তারা ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত সহায়তা প্রদানের কথাও জানিয়েছে। যদি জাপানি প্রতিষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্ব পায়, তবে তাদের সাথেও এ বিষয়ে আলোচনা করা হবে।