ঢাকা ০৬:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সংগীতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি: ‘শাওন গানওয়ালা’ এখন ডক্টর শাওন

ভালো গায়ক হিসেবে সাজ্জাদ হোসেন শাওনের পরিচিতি গড়ে উঠেছে শাওন গানওয়ালা নামে। তবে সেই পরিচিতি ছাপিয়ে এবার তিনি অর্জন করেছেন এক নতুন পরিচয়। এখন তিনি ডক্টর শাওন। সম্প্রতি তাকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করেছে গ্লোবাল হিউম্যান পিস ইউনিভার্সিটি।

সংগীতের নন্দনতত্ত্ব ও বাস্তবিক সংগীত পরিবেশনা, সংগীত শিক্ষায় পশ্চিমা ব্যাকরণের সমন্বয়, সংগীত পরিচালনা এবং বাংলাদেশের সংগীতে অনন্য ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে এই মর্যাদা দেওয়া হয়।

১৭ অক্টোবর শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোর আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টার বিএমআইসিএইচ হলে আয়োজিত এক বিশেষ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে শাওন গানওয়ালার হাতে ডক্টরেট ডিগ্রির সম্মাননা তুলে দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষাবিদবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে শ্রীলঙ্কা, ভারতসহ বিভিন্ন দেশের আমন্ত্রিত অতিথি, নীতিনির্ধারক, গবেষক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিতদের মধ্যে ছিলেন—শ্রীলঙ্কার প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি মৈত্রীপালা সিরিসেনা, শ্রীলঙ্কার কিংবদন্তি ক্রিকেটার চামিন্দা ভাস প্রমুখ।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের মূল্যায়নে বলেন, ‘সংগীত, সংস্কৃতি ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আন্তর্জাতিক মান প্রতিষ্ঠা করে এবং মানুষের কল্যাণে বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরবার জন্য উদাহরণ তৈরি করেছেন সাজ্জাদ হোসেন শাওন। তিনি দেশের ভবিষ্যৎ সাংস্কৃতিক অঙ্গনের জন্য একটি রোল মডেল।’

সম্মাননা গ্রহণের পর আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় ড. শাওন বলেন, ‘আমি গ্লোবাল হিউম্যান পিস ইউনিভার্সিটির কাছে কৃতজ্ঞ। এই স্বীকৃতি আমার দায়িত্ববোধ আরও বাড়িয়ে দিলো। আমি বিশ্বাস করি সংগীত শুধু বিনোদন নয়—মানুষের সেবা, শান্তি ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠায় অনেক বড় প্রভাব রয়েছে। দেশের বাইরে এমন মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি পাওয়া আমার জীবনের অন্যতম বড় অর্জন, যা আমাকে ভবিষ্যতে আরও বড় দায়িত্বে অনুপ্রাণিত করবে সংগীতের পরিবৃদ্ধি তথা সংগীত শিক্ষার ক্ষেত্রে।’

গ্লোবাল হিউম্যান পিস ইউনিভার্সিটির এই আন্তর্জাতিক সম্মাননার মাধ্যমে বাংলাদেশের সংগীত শিল্প বৈশ্বিক মঞ্চে নতুনভাবে চিহ্নিত হলো বলে মনে করছেন শাওন গানওয়ালা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অর্জন ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক অঙ্গনের গবেষণা ও সহযোগিতার নতুন দুয়ার খুলে দিতে সহায়তা করবে।

ড. শাওন গানওয়ালা বলেন, ‘এই অর্জন আমার একার নয়। দেশের প্রতিটি সংগীতশিল্পী ও পৃষ্ঠপোষকবৃন্দের জন্য। আমি কৃতজ্ঞ আমার পরিবারের কাছে, বিশেষত আমার স্ত্রী ত্রয়ী ইসলামের প্রতি। আমাকে এই সুদীর্ঘ যাত্রায় প্রণোদিত করার জন্য।’

একই সাথে ড. সাজ্জাদ হোসেন শাওনকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক অভিনন্দন জানিয়েছেন দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ। তাদের মধ্যে রেনেসাঁ ব্যান্ড-এর নকীব খান, কণ্ঠশিল্পী এলিটা করিম ও কোনাল, সংগীত পরিচালক আরমান খান, জুয়েল মোরশেদ, ইমন চৌধুরী, জাহিদ বাশার পংকজ, অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া, তানজিকা আমিন, গীতিকার শাহান কবন্ধসহ অনেকেই।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসরাইলি হামলায় ইরানের বালিকা বিদ্যালয়ে ৪০ ছাত্রী নিহত: শোকের ছায়া

সংগীতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি: ‘শাওন গানওয়ালা’ এখন ডক্টর শাওন

আপডেট সময় : ১০:১৭:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৫

ভালো গায়ক হিসেবে সাজ্জাদ হোসেন শাওনের পরিচিতি গড়ে উঠেছে শাওন গানওয়ালা নামে। তবে সেই পরিচিতি ছাপিয়ে এবার তিনি অর্জন করেছেন এক নতুন পরিচয়। এখন তিনি ডক্টর শাওন। সম্প্রতি তাকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করেছে গ্লোবাল হিউম্যান পিস ইউনিভার্সিটি।

সংগীতের নন্দনতত্ত্ব ও বাস্তবিক সংগীত পরিবেশনা, সংগীত শিক্ষায় পশ্চিমা ব্যাকরণের সমন্বয়, সংগীত পরিচালনা এবং বাংলাদেশের সংগীতে অনন্য ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে এই মর্যাদা দেওয়া হয়।

১৭ অক্টোবর শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোর আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টার বিএমআইসিএইচ হলে আয়োজিত এক বিশেষ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে শাওন গানওয়ালার হাতে ডক্টরেট ডিগ্রির সম্মাননা তুলে দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষাবিদবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে শ্রীলঙ্কা, ভারতসহ বিভিন্ন দেশের আমন্ত্রিত অতিথি, নীতিনির্ধারক, গবেষক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিতদের মধ্যে ছিলেন—শ্রীলঙ্কার প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি মৈত্রীপালা সিরিসেনা, শ্রীলঙ্কার কিংবদন্তি ক্রিকেটার চামিন্দা ভাস প্রমুখ।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের মূল্যায়নে বলেন, ‘সংগীত, সংস্কৃতি ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আন্তর্জাতিক মান প্রতিষ্ঠা করে এবং মানুষের কল্যাণে বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরবার জন্য উদাহরণ তৈরি করেছেন সাজ্জাদ হোসেন শাওন। তিনি দেশের ভবিষ্যৎ সাংস্কৃতিক অঙ্গনের জন্য একটি রোল মডেল।’

সম্মাননা গ্রহণের পর আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় ড. শাওন বলেন, ‘আমি গ্লোবাল হিউম্যান পিস ইউনিভার্সিটির কাছে কৃতজ্ঞ। এই স্বীকৃতি আমার দায়িত্ববোধ আরও বাড়িয়ে দিলো। আমি বিশ্বাস করি সংগীত শুধু বিনোদন নয়—মানুষের সেবা, শান্তি ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠায় অনেক বড় প্রভাব রয়েছে। দেশের বাইরে এমন মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি পাওয়া আমার জীবনের অন্যতম বড় অর্জন, যা আমাকে ভবিষ্যতে আরও বড় দায়িত্বে অনুপ্রাণিত করবে সংগীতের পরিবৃদ্ধি তথা সংগীত শিক্ষার ক্ষেত্রে।’

গ্লোবাল হিউম্যান পিস ইউনিভার্সিটির এই আন্তর্জাতিক সম্মাননার মাধ্যমে বাংলাদেশের সংগীত শিল্প বৈশ্বিক মঞ্চে নতুনভাবে চিহ্নিত হলো বলে মনে করছেন শাওন গানওয়ালা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অর্জন ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক অঙ্গনের গবেষণা ও সহযোগিতার নতুন দুয়ার খুলে দিতে সহায়তা করবে।

ড. শাওন গানওয়ালা বলেন, ‘এই অর্জন আমার একার নয়। দেশের প্রতিটি সংগীতশিল্পী ও পৃষ্ঠপোষকবৃন্দের জন্য। আমি কৃতজ্ঞ আমার পরিবারের কাছে, বিশেষত আমার স্ত্রী ত্রয়ী ইসলামের প্রতি। আমাকে এই সুদীর্ঘ যাত্রায় প্রণোদিত করার জন্য।’

একই সাথে ড. সাজ্জাদ হোসেন শাওনকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক অভিনন্দন জানিয়েছেন দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ। তাদের মধ্যে রেনেসাঁ ব্যান্ড-এর নকীব খান, কণ্ঠশিল্পী এলিটা করিম ও কোনাল, সংগীত পরিচালক আরমান খান, জুয়েল মোরশেদ, ইমন চৌধুরী, জাহিদ বাশার পংকজ, অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া, তানজিকা আমিন, গীতিকার শাহান কবন্ধসহ অনেকেই।