ঢাকা ০৬:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

নির্যাতনের শিকার ভ্যানচালকের কারা হেফাজতে মৃত্যু, ৫ দিন পর মামলা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৯:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহীর বাগমারায় চুরির অভিযোগে নির্যাতন চালিয়ে ভ্যানচালক ওমর ফারুককে (৩৯) হত্যার অভিযোগে মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) রাতে নিহতের বাবা মোসলেম সরদার বাদী হয়ে বাগমারা থানায় এ মামলা করেন।

মামলায় ১২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত পরিচয়ে আরও ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন– উপজেলার দেউলা গ্রামের রেজাউল করিম (৪৭), বিপ্লব ওরফে ভুট্টো ড্রাইভার (৩৫), রহিদুল ইসলাম (৪৫), হাবিবুর রহমান (৫৫), মাঝিগ্রামের আবদুল মতিন (৪০), দানগাছি গ্রামের মুকুল হোসেন (মুরগি মুকুল) (৪৪), জুয়েল রানা (ভাংড়ি জুয়েল) (৩৫), দরগামাড়িয়া গ্রামের রফিকুল ইসলাম (৪০), ভবানীগঞ্জের আসাদুল ইসলাম (৩৬), আবদুস সালাম (৪৮), মোজাম্মেল হক (৪২) ও আবদুল হান্নান (৩৮)।

আসামিদের মধ্যে তিন জনকে ২৩ ডিসেম্বর দুপুরে আটক করে পুলিশ। মুকুল হোসেনকে থানায় এনে ৫০ হাজার টাকা উৎকোচের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগে ওঠে এবং অন্য দুজনকে কারাগারে পাঠানো হয়।

বাগমারা থানার ওসি সাইদুল আলম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। টাকার বিনিময়ে মুকুল হোসেনকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ ভিত্তিহীন।’

এদিকে মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেছেন, গত ১৭ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ভবানীগঞ্জ সিএনজিস্ট্যান্ডে তার ছেলে ওমর ফারুক অটোভ্যান রেখে প্রস্রাব করতে যান। ফিরে এলে সিএনজি মালিক সমিতির সভাপতি রেজাউল করিম ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল মতিন তাকে সিএনজির ব্যাটারি চুরির অভিযোগে আটক করেন। তাদের নির্দেশে সমিতির সদস্যরা ওমর ফারুককে লোহার রড দিয়ে পেটাতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর ওমর ফারুককে একটি প্রাচীরের সঙ্গে দাঁড় করিয়ে দুই হাত ও পায়ে হাতুড়ি দিয়ে কয়েকটি লোহার পেরেক ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় তাকে মারপিট করতে থাকলে একপর্যায়ে পানি পান করতে চাইলে নদীতে নিয়ে বিবস্ত্র করে চোবানো হয়। একপর্যায়ে অন্যরা গিয়ে ওমর ফারুকের পায়ুপথে শুকনো মরিচের গুঁড়া ঢেলে দেন।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, নির্যাতনের একপর্যায়ে ওমর ফারুকের অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। পরে ওমর ফারুকের কাছ থেকে গাঁজা উদ্ধারের নাটক সাজিয়ে আসামিরা বাগমারা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইফুল ইসলাম ভুঞাকে জানান। তিনি ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ওমর ফারুককে ১০০ টাকা অর্থদণ্ড ও সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। এরপর ওমর ফারুককে বাগমারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রাজশাহী কারাগারে পাঠায় পুলিশ। সেখানে অসুস্থ হলে পরদিন রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ ডিসেম্বর ওমর ফারুকের মৃত্যু হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতিতে ইরানের পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের প্রতি কড়া বার্তা

নির্যাতনের শিকার ভ্যানচালকের কারা হেফাজতে মৃত্যু, ৫ দিন পর মামলা

আপডেট সময় : ০৯:৪৯:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫

রাজশাহীর বাগমারায় চুরির অভিযোগে নির্যাতন চালিয়ে ভ্যানচালক ওমর ফারুককে (৩৯) হত্যার অভিযোগে মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) রাতে নিহতের বাবা মোসলেম সরদার বাদী হয়ে বাগমারা থানায় এ মামলা করেন।

মামলায় ১২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত পরিচয়ে আরও ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন– উপজেলার দেউলা গ্রামের রেজাউল করিম (৪৭), বিপ্লব ওরফে ভুট্টো ড্রাইভার (৩৫), রহিদুল ইসলাম (৪৫), হাবিবুর রহমান (৫৫), মাঝিগ্রামের আবদুল মতিন (৪০), দানগাছি গ্রামের মুকুল হোসেন (মুরগি মুকুল) (৪৪), জুয়েল রানা (ভাংড়ি জুয়েল) (৩৫), দরগামাড়িয়া গ্রামের রফিকুল ইসলাম (৪০), ভবানীগঞ্জের আসাদুল ইসলাম (৩৬), আবদুস সালাম (৪৮), মোজাম্মেল হক (৪২) ও আবদুল হান্নান (৩৮)।

আসামিদের মধ্যে তিন জনকে ২৩ ডিসেম্বর দুপুরে আটক করে পুলিশ। মুকুল হোসেনকে থানায় এনে ৫০ হাজার টাকা উৎকোচের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগে ওঠে এবং অন্য দুজনকে কারাগারে পাঠানো হয়।

বাগমারা থানার ওসি সাইদুল আলম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। টাকার বিনিময়ে মুকুল হোসেনকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ ভিত্তিহীন।’

এদিকে মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেছেন, গত ১৭ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ভবানীগঞ্জ সিএনজিস্ট্যান্ডে তার ছেলে ওমর ফারুক অটোভ্যান রেখে প্রস্রাব করতে যান। ফিরে এলে সিএনজি মালিক সমিতির সভাপতি রেজাউল করিম ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল মতিন তাকে সিএনজির ব্যাটারি চুরির অভিযোগে আটক করেন। তাদের নির্দেশে সমিতির সদস্যরা ওমর ফারুককে লোহার রড দিয়ে পেটাতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর ওমর ফারুককে একটি প্রাচীরের সঙ্গে দাঁড় করিয়ে দুই হাত ও পায়ে হাতুড়ি দিয়ে কয়েকটি লোহার পেরেক ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় তাকে মারপিট করতে থাকলে একপর্যায়ে পানি পান করতে চাইলে নদীতে নিয়ে বিবস্ত্র করে চোবানো হয়। একপর্যায়ে অন্যরা গিয়ে ওমর ফারুকের পায়ুপথে শুকনো মরিচের গুঁড়া ঢেলে দেন।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, নির্যাতনের একপর্যায়ে ওমর ফারুকের অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। পরে ওমর ফারুকের কাছ থেকে গাঁজা উদ্ধারের নাটক সাজিয়ে আসামিরা বাগমারা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইফুল ইসলাম ভুঞাকে জানান। তিনি ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ওমর ফারুককে ১০০ টাকা অর্থদণ্ড ও সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। এরপর ওমর ফারুককে বাগমারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রাজশাহী কারাগারে পাঠায় পুলিশ। সেখানে অসুস্থ হলে পরদিন রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ ডিসেম্বর ওমর ফারুকের মৃত্যু হয়।