ঢাকা ০৪:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ সড়কের সংস্কার কাজ সাত মাসেও শেষ হয়নি, জনদুর্ভোগ চরমে

সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ-মোগলাবাজার সড়কের সংস্কার কাজ সাত মাসেও শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইউনুস অ্যান্ড বাদ্রার্স। সাত কিলোমিটার দীর্ঘ এই রাস্তার কাজ শেষ না হওয়ায়, সড়কটি দিয়ে চলাচলকারী হাজার হাজার যাত্রী চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। সড়ক জনপথ বিভাগ এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বহীনতার কারণে এলাকাবাসী অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

প্রায় সাত মাস আগে সড়কের কার্পেটিং তুলে খুঁড়ে ফেলা হয় সংস্কারের উদ্দেশ্যে। কিন্তু এরপর থেকেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চরম গাফিলতি পরিলক্ষিত হয়। মাঝে মধ্যে কিছু অংশে সামান্য কাজ করে, যেমন কিছু খুঁড়াখুঁড়ি, মেকাডম ও কার্পেটিং করে কাজ বন্ধ রাখা হয়। বর্ষা শুরু হওয়ার পর থেকে এই দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। খুঁড়ে রাখা রাস্তার বালুমাটি ও পাথর পানিতে ধুয়ে যাওয়ায় এবং এর ওপর দিয়ে যানবাহন চলাচল করায় বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে, যা একটি মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। পুরো রাস্তা জুড়ে কাদা ও গর্তের মধ্যে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। প্রায় প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স এবং রোগীদের জন্য এই সড়ক দিয়ে চলাচল করা এক দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।

এলাকাবাসী জানান, গত ১৭ জুন প্রধানমন্ত্রী সিলেট সফরে এসে এই সড়ক দিয়ে মৌলভীবাজার গিয়েছিলেন। তখন সাধারণ মানুষ আশা করেছিলেন যে প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে সড়কের কাজ দ্রুত শেষ হবে, অথবা তার নির্দেশে কাজটি দ্রুত সম্পন্ন হবে। কিন্তু তা হয়নি। কাদাভর্তি এই খানাখন্দে ভরা সড়ক দিয়েই প্রধানমন্ত্রীকে সিলেট হয়ে মৌলভীবাজার যাওয়া-আসা করতে হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরের পরও কাজের অগ্রগতি না হওয়ায়, গাড়ি চালক ও এলাকাবাসী হতাশ। পাশাপাশি কাজের মান নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

সিলেট সড়ক জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলী খায়রুল বাসার সাদ্দাম হোসেন বলেন, আমি সড়কটি পরিদর্শন করেছি। বৃষ্টির কারণে যাত্রীদের ভোগান্তি হচ্ছে। আমরা ঠিকাদারকে দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য চাপ দিচ্ছি, ভিটুমিনও চলে এসেছে। বৃষ্টি কমলেই দ্রুত কাজ সম্পন্ন করা হবে বলে তিনি জানান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ডিপফেইক ছবি তৈরি, গ্রক ব্যবহারকারীর বিরুদ্ধে মামলায় এক্সএআই

সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ সড়কের সংস্কার কাজ সাত মাসেও শেষ হয়নি, জনদুর্ভোগ চরমে

আপডেট সময় : ০৯:৫৯:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ-মোগলাবাজার সড়কের সংস্কার কাজ সাত মাসেও শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইউনুস অ্যান্ড বাদ্রার্স। সাত কিলোমিটার দীর্ঘ এই রাস্তার কাজ শেষ না হওয়ায়, সড়কটি দিয়ে চলাচলকারী হাজার হাজার যাত্রী চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। সড়ক জনপথ বিভাগ এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বহীনতার কারণে এলাকাবাসী অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

প্রায় সাত মাস আগে সড়কের কার্পেটিং তুলে খুঁড়ে ফেলা হয় সংস্কারের উদ্দেশ্যে। কিন্তু এরপর থেকেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চরম গাফিলতি পরিলক্ষিত হয়। মাঝে মধ্যে কিছু অংশে সামান্য কাজ করে, যেমন কিছু খুঁড়াখুঁড়ি, মেকাডম ও কার্পেটিং করে কাজ বন্ধ রাখা হয়। বর্ষা শুরু হওয়ার পর থেকে এই দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। খুঁড়ে রাখা রাস্তার বালুমাটি ও পাথর পানিতে ধুয়ে যাওয়ায় এবং এর ওপর দিয়ে যানবাহন চলাচল করায় বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে, যা একটি মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। পুরো রাস্তা জুড়ে কাদা ও গর্তের মধ্যে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। প্রায় প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স এবং রোগীদের জন্য এই সড়ক দিয়ে চলাচল করা এক দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।

এলাকাবাসী জানান, গত ১৭ জুন প্রধানমন্ত্রী সিলেট সফরে এসে এই সড়ক দিয়ে মৌলভীবাজার গিয়েছিলেন। তখন সাধারণ মানুষ আশা করেছিলেন যে প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে সড়কের কাজ দ্রুত শেষ হবে, অথবা তার নির্দেশে কাজটি দ্রুত সম্পন্ন হবে। কিন্তু তা হয়নি। কাদাভর্তি এই খানাখন্দে ভরা সড়ক দিয়েই প্রধানমন্ত্রীকে সিলেট হয়ে মৌলভীবাজার যাওয়া-আসা করতে হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরের পরও কাজের অগ্রগতি না হওয়ায়, গাড়ি চালক ও এলাকাবাসী হতাশ। পাশাপাশি কাজের মান নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

সিলেট সড়ক জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলী খায়রুল বাসার সাদ্দাম হোসেন বলেন, আমি সড়কটি পরিদর্শন করেছি। বৃষ্টির কারণে যাত্রীদের ভোগান্তি হচ্ছে। আমরা ঠিকাদারকে দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য চাপ দিচ্ছি, ভিটুমিনও চলে এসেছে। বৃষ্টি কমলেই দ্রুত কাজ সম্পন্ন করা হবে বলে তিনি জানান।