ঢাকা ০৬:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান: জীবন বাজি রেখে সাংবাদিকতা ও তথ্যপ্রবাহের অগ্নিপরীক্ষা

বাংলাদেশের সাংবাদিকতা নিয়ে অভিযোগ, ক্ষোভ ও হতাশা থাকলেও প্রতিটি মুক্তিসংগ্রামে সাংবাদিকরাই পথ দেখিয়েছেন এবং লড়াইয়ের অন্যতম নিয়ামক শক্তি হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন। হাজারো প্রতিকূলতা, দমন-পীড়ন ও রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে মানুষের কাছে তথ্য পৌঁছে দিয়ে তারা মুক্তিসংগ্রামকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে অনবদ্য দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসের অভূতপূর্ব ও রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সূত্র ধরে শুরু হওয়া বিক্ষোভ একপর্যায়ে রূপ নেয় একদফার সরকার পতনের আন্দোলনে। এই ঐতিহাসিক গণজাগরণের দিনগুলোতে অবরুদ্ধ বাংলাদেশে সাংবাদিকতা পেশাটি এক চরম অগ্নিপরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছিল। ফ্যাসিবাদের দোসর একশ্রেণির সাংবাদিকের ভূমিকা যেমন ছিল কলঙ্কময়, তেমনি অনেকের সাহসী ও গৌরবময় অবদানও অস্বীকার করার উপায় নেই। দফায় দফায় ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট বা শাটডাউন করে তথ্যপ্রবাহ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। এমন শ্বাসরুদ্ধকর ও ভীতিকর পরিস্থিতিতে নিজের জীবন বাজি রেখে দায়িত্ব পালন করেছেন বাংলাদেশের মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকেরা।

একটি আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে তথ্য পাওয়ার অধিকার মানুষের মৌলিক অধিকারের শামিল। কিন্তু জুলাই আন্দোলনের সময় তৎকালীন সরকার আন্দোলন দমনের কৌশল হিসেবে ইন্টারনেটকে হাতিয়ার বানায়। প্রথমে মোবাইল ইন্টারনেট এবং পরে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটও সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। বাংলাদেশের আধুনিক ইন্টারনেটের ইতিহাসে এমন দীর্ঘমেয়াদি ও পরিকল্পিত ‘ব্ল্যাকআউট’ এর আগে কখনো দেখা যায়নি। ডিজিটাল যুগে সাংবাদিকতার অন্যতম সহায়ক হলো ইন্টারনেট। ইন্টারনেট শাটডাউনের ফলে দেশের সংবাদমাধ্যমগুলো প্রায় পঙ্গু হয়ে পড়ে। মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকেরা কী ঘটছে তা তাৎক্ষণিকভাবে অফিসে পাঠাতে পারছিলেন না। আবার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোও বাংলাদেশ থেকে কোনো খবর পাচ্ছিল না। এই তথ্যহীনতার সুযোগে একদিকে যেমন গুজব ডালপালা মেলেছিল, অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় বাহিনী এবং তৎকালীন শাসকদলের ক্যাডারদের চালানো নির্মম নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞের খবর চাপা পড়ে গিয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে সাহসী সাংবাদিকেরা নিজস্ব বুদ্ধিমত্তা ও ঝুঁকি নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে দেশ ও বিদেশের কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন, যা ছিল তাদের পেশাগত সততা ও দায়িত্ববোধের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সৈয়দপুরে শিল্পমেলায় র‍্যাফেল ড্র ও লটারি বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ

জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান: জীবন বাজি রেখে সাংবাদিকতা ও তথ্যপ্রবাহের অগ্নিপরীক্ষা

আপডেট সময় : ১১:০২:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশের সাংবাদিকতা নিয়ে অভিযোগ, ক্ষোভ ও হতাশা থাকলেও প্রতিটি মুক্তিসংগ্রামে সাংবাদিকরাই পথ দেখিয়েছেন এবং লড়াইয়ের অন্যতম নিয়ামক শক্তি হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন। হাজারো প্রতিকূলতা, দমন-পীড়ন ও রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে মানুষের কাছে তথ্য পৌঁছে দিয়ে তারা মুক্তিসংগ্রামকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে অনবদ্য দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসের অভূতপূর্ব ও রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সূত্র ধরে শুরু হওয়া বিক্ষোভ একপর্যায়ে রূপ নেয় একদফার সরকার পতনের আন্দোলনে। এই ঐতিহাসিক গণজাগরণের দিনগুলোতে অবরুদ্ধ বাংলাদেশে সাংবাদিকতা পেশাটি এক চরম অগ্নিপরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছিল। ফ্যাসিবাদের দোসর একশ্রেণির সাংবাদিকের ভূমিকা যেমন ছিল কলঙ্কময়, তেমনি অনেকের সাহসী ও গৌরবময় অবদানও অস্বীকার করার উপায় নেই। দফায় দফায় ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট বা শাটডাউন করে তথ্যপ্রবাহ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। এমন শ্বাসরুদ্ধকর ও ভীতিকর পরিস্থিতিতে নিজের জীবন বাজি রেখে দায়িত্ব পালন করেছেন বাংলাদেশের মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকেরা।

একটি আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে তথ্য পাওয়ার অধিকার মানুষের মৌলিক অধিকারের শামিল। কিন্তু জুলাই আন্দোলনের সময় তৎকালীন সরকার আন্দোলন দমনের কৌশল হিসেবে ইন্টারনেটকে হাতিয়ার বানায়। প্রথমে মোবাইল ইন্টারনেট এবং পরে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটও সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। বাংলাদেশের আধুনিক ইন্টারনেটের ইতিহাসে এমন দীর্ঘমেয়াদি ও পরিকল্পিত ‘ব্ল্যাকআউট’ এর আগে কখনো দেখা যায়নি। ডিজিটাল যুগে সাংবাদিকতার অন্যতম সহায়ক হলো ইন্টারনেট। ইন্টারনেট শাটডাউনের ফলে দেশের সংবাদমাধ্যমগুলো প্রায় পঙ্গু হয়ে পড়ে। মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকেরা কী ঘটছে তা তাৎক্ষণিকভাবে অফিসে পাঠাতে পারছিলেন না। আবার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোও বাংলাদেশ থেকে কোনো খবর পাচ্ছিল না। এই তথ্যহীনতার সুযোগে একদিকে যেমন গুজব ডালপালা মেলেছিল, অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় বাহিনী এবং তৎকালীন শাসকদলের ক্যাডারদের চালানো নির্মম নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞের খবর চাপা পড়ে গিয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে সাহসী সাংবাদিকেরা নিজস্ব বুদ্ধিমত্তা ও ঝুঁকি নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে দেশ ও বিদেশের কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন, যা ছিল তাদের পেশাগত সততা ও দায়িত্ববোধের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।