ঢাকা ০৬:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থান: শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে অস্ত্রবাজির অভিযোগ, দুই বছর পরও অধরা হামলাকারীরা

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্ণ হতে চলেছে। এই দুই বছরে দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট যেমন বদলেছে, তেমনি পরিবর্তিত হয়েছে নারায়ণগঞ্জের ক্ষমতার চিত্রও। তবে শহরবাসীর স্মৃতিতে এখনো টাটকা হয়ে আছে ১৯ জুলাইয়ের সেই রক্তাক্ত বিকাল, যখন তৎকালীন সংসদ সদস্য শামীম ওসমান ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে সশস্ত্র হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে। দুই বছর পেরিয়ে গেলেও শামীম ওসমানের অস্ত্রবাজদের একজনকেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, যা বিচারহীনতার প্রশ্ন তৈরি করেছে।

দীর্ঘ দেড় দশক ধরে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারকারী ওসমান পরিবারের পতনের সূচনা হয়েছিল ওই জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই। বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে প্রকাশ্যে হুমকি দিলেও, আন্দোলন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানোর পর শামীম ওসমান ও তার পরিবারের সদস্যরা এলাকা ছেড়ে চলে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।

২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ছিল শুক্রবার। সেদিন জুমার নামাজের পর শহরের চাষাঢ়া নূর মসজিদ, ডিআইটি মসজিদসহ বিভিন্ন স্থান থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার মিছিল বের হওয়ার কথা ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, জুমার নামাজের আগেই বঙ্গবন্ধু সড়কের নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের ভেতরে ও নির্মাণাধীন ভবনে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের সশস্ত্র নেতাকর্মীরা অবস্থান নিতে শুরু করেন। জুমার নামাজ শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ আগে সেখানে উপস্থিত হন শামীম ওসমান এবং তার ছেলে অয়ন ওসমান।

এদিকে, ডিআইটি এলাকা ও চাষাঢ়া থেকে ছাত্র-জনতার মিছিল এগিয়ে আসতে থাকলে হঠাৎ নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের ভেতর থেকে হামলা চালানো হয়। এতে মিছিল ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় এবং মুহূর্তেই পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। অভিযোগ রয়েছে, সেদিন শামীম ওসমানের সঙ্গে তার ছেলে অয়ন ওসমান, শ্যালক তানভীর আহমেদ টিটু, বেয়াই সালাউদ্দিন লাভলু, অয়নের শ্যালক ভিকি, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান রিয়াদসহ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের কয়েকশ নেতাকর্মী ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেন, তাদের হাতে পিস্তল, শটগান ও অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র দেখা যায়। একপর্যায়ে তারা গুলি ছুড়তে ছুড়তে ডিআইটি এলাকার দিকে অগ্রসর হন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে শামীম ওসমানকে অস্ত্র হাতে দেখা যায়। চাষাঢ়া থেকে ডিআইটি এবং পরে জালকুড়ি এলাকায়ও গুলিবর্ষণের অভিযোগ ওঠে শামীম ওসমান ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাগুলো নারায়ণগঞ্জের ইতিহাসে এক কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে, যার বিচার এখনো অধরা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার জেরে বিশ্বব্যাপী মার্কিন নাগরিকদের জন্য ভ্রমণ সতর্কতা জারি

জুলাই গণঅভ্যুত্থান: শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে অস্ত্রবাজির অভিযোগ, দুই বছর পরও অধরা হামলাকারীরা

আপডেট সময় : ১০:৫২:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্ণ হতে চলেছে। এই দুই বছরে দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট যেমন বদলেছে, তেমনি পরিবর্তিত হয়েছে নারায়ণগঞ্জের ক্ষমতার চিত্রও। তবে শহরবাসীর স্মৃতিতে এখনো টাটকা হয়ে আছে ১৯ জুলাইয়ের সেই রক্তাক্ত বিকাল, যখন তৎকালীন সংসদ সদস্য শামীম ওসমান ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে সশস্ত্র হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে। দুই বছর পেরিয়ে গেলেও শামীম ওসমানের অস্ত্রবাজদের একজনকেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, যা বিচারহীনতার প্রশ্ন তৈরি করেছে।

দীর্ঘ দেড় দশক ধরে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারকারী ওসমান পরিবারের পতনের সূচনা হয়েছিল ওই জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই। বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে প্রকাশ্যে হুমকি দিলেও, আন্দোলন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানোর পর শামীম ওসমান ও তার পরিবারের সদস্যরা এলাকা ছেড়ে চলে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।

২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ছিল শুক্রবার। সেদিন জুমার নামাজের পর শহরের চাষাঢ়া নূর মসজিদ, ডিআইটি মসজিদসহ বিভিন্ন স্থান থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার মিছিল বের হওয়ার কথা ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, জুমার নামাজের আগেই বঙ্গবন্ধু সড়কের নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের ভেতরে ও নির্মাণাধীন ভবনে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের সশস্ত্র নেতাকর্মীরা অবস্থান নিতে শুরু করেন। জুমার নামাজ শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ আগে সেখানে উপস্থিত হন শামীম ওসমান এবং তার ছেলে অয়ন ওসমান।

এদিকে, ডিআইটি এলাকা ও চাষাঢ়া থেকে ছাত্র-জনতার মিছিল এগিয়ে আসতে থাকলে হঠাৎ নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের ভেতর থেকে হামলা চালানো হয়। এতে মিছিল ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় এবং মুহূর্তেই পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। অভিযোগ রয়েছে, সেদিন শামীম ওসমানের সঙ্গে তার ছেলে অয়ন ওসমান, শ্যালক তানভীর আহমেদ টিটু, বেয়াই সালাউদ্দিন লাভলু, অয়নের শ্যালক ভিকি, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান রিয়াদসহ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের কয়েকশ নেতাকর্মী ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেন, তাদের হাতে পিস্তল, শটগান ও অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র দেখা যায়। একপর্যায়ে তারা গুলি ছুড়তে ছুড়তে ডিআইটি এলাকার দিকে অগ্রসর হন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে শামীম ওসমানকে অস্ত্র হাতে দেখা যায়। চাষাঢ়া থেকে ডিআইটি এবং পরে জালকুড়ি এলাকায়ও গুলিবর্ষণের অভিযোগ ওঠে শামীম ওসমান ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাগুলো নারায়ণগঞ্জের ইতিহাসে এক কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে, যার বিচার এখনো অধরা।