গত জুলাই বিপ্লবে রাজধানীর উত্তরায় মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধসহ সাতজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধে ২৬ জনের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও, শহীদ মুগ্ধর পরিবার ন্যায়বিচারের দীর্ঘসূত্রতায় গভীর হতাশা প্রকাশ করেছে। মুগ্ধর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রভাবশালীরা প্রশাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকায় বিভিন্ন ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে এবং এখনো তারা নানা মাধ্যমে হুমকি পাচ্ছেন।
মুগ্ধর ভাই মীর মাহমুদুর রহমান দীপ্ত এক সাক্ষাৎকারে জানান, মুগ্ধ হত্যাকাণ্ডের দুই বছর পূর্ণ হয়েছে এই জুলাই মাসে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে চার্জশিট জমা, ওয়ারেন্ট ইস্যু এবং পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশসহ বিচার কার্যক্রমে গতি এসেছিল। কিন্তু নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই মাস ধরে শুনানি পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতেই ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হলেও এখন কেন বিলম্ব হচ্ছে, তার কোনো ব্যাখ্যা নেই। এই পরিস্থিতিতে পরিবার খুবই হতাশ।
দীপ্ত আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মামলার বিচার কার্যক্রমে যে গতি ছিল, নির্বাচিত সরকার আসার পর সেই গতি আরও বাড়বে বলে তারা আশা করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবে বিচার প্রক্রিয়া আরও মন্থর হয়ে গেছে। চিফ প্রসিকিউটর ও তার টিমে পরিবর্তন এলেও সে কারণে শুনানি পিছিয়ে দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা দেখেন না তারা।
বিচার প্রক্রিয়ায় বিলম্বের কারণ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ৫ আগস্টের পর তারা বুঝতে পেরেছিলেন যে পুলিশ স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারবে না। তাই পরিবারের সদস্যরা নিজেরাই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে একটি পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রতিবেদন তৈরি করে দিয়েছিলেন। কোথা থেকে গুলি হয়েছে, কারা করেছে, কীভাবে মুগ্ধ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন—সবকিছুর ভিডিও প্রমাণ তাদের হাতে রয়েছে এবং তা পুলিশকে সরবরাহ করা হয়েছে।
দীপ্ত জানান, তথ্যপ্রমাণ জমা দেওয়ার প্রায় ২০ দিন পর তদন্ত সংশ্লিষ্টরা তাদের জানিয়েছিলেন যে মুগ্ধ হত্যার মামলায় এত বেশি তথ্যপ্রমাণ রয়েছে, যা ১৮ ও ১৯ জুলাই উত্তরায় নিহত ও গুরুতর আহত অন্যদের বিচারেও ব্যবহার করা যাবে। অন্য শহীদ পরিবারের কথা বিবেচনা করে তারা বিষয়টি ইতিবাচকভাবে নিলেও, বর্তমান বিচারিক দীর্ঘসূত্রতা তাদের নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে।
রিপোর্টারের নাম 
























