ঢাকা ০৬:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

জুলাই আন্দোলনে শহীদ নাজিম: মায়ের বুকফাটা কান্না থামছে না, স্বপ্নভঙ্গের করুণ আখ্যান

নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার চিরাম ইউনিয়নের ভাটগাঁও গ্রামের নাজিম উদ্দিন, যিনি জুলাই আন্দোলনে নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন, তার মা শিমুলা আক্তারের কান্না আজও থামেনি। একমাত্র সন্তান হারানোর বেদনা এখনো তাদের পরিবারকে তাড়া করে ফিরছে। সন্তান হারিয়ে বাকরুদ্ধ নাজিমের মা-বাবা ও স্বজনরা।

শ্রমিক বাবা রোস্তম আলী ও মা শিমুলা আক্তারের একমাত্র ছেলে নাজিম উদ্দিনের স্বপ্ন ছিল পড়াশোনা করে মানুষের মতো মানুষ হয়ে বাবার কষ্ট লাঘব করা। জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে তিনি বারহাট্টা সরকারি কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন। নাজিমের মা-বাবা ঢাকায় থাকতেন; মা একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করতেন আর বাবা ছিলেন শ্রমিক। তাদের একমাত্র বড় মেয়ে নাজমার বিয়ে হয়ে গেছে এবং তিনি স্বামী-সন্তান নিয়ে টঙ্গীতে থাকেন।

ঢাকায় থেকে সংসার চালাতে নাজিমের মা-বাবা হিমশিম খাচ্ছিলেন এবং ছেলের পড়াশোনা নিয়েও চিন্তিত ছিলেন। ভেবেছিলেন নাজিমকে বারহাট্টায় তার নানাবাড়িতে রেখে পড়াশোনা করাবেন। সেই চিন্তা থেকেই নাজিম বারহাট্টা সরকারি কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন। পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে ঢাকায় এসে নাজিম জড়িয়ে পড়েন জুলাই আন্দোলনে। গত ৫ আগস্ট বিকাল আনুমানিক ৪টার দিকে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা যখন গণভবন, সংসদ ভবন ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ সারা দেশে বিজয়ের উল্লাস করছিল, তখনও বিভিন্ন স্থানে পুলিশের বর্বরতা চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় উত্তরা পূর্ব থানার সামনে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান নাজিম উদ্দিন, রাজপথে নিজের তাজা রক্ত ঢেলে শহীদ হন তিনি।

একমাত্র আদরের ছেলেকে হারিয়ে মা শিমুলা আক্তার এখন পাগলপ্রায়। নাজিমকে হারিয়ে যেন সব হারিয়ে ফেলেছেন তার মা-বাবা, বোন ও ভাগনে। শহীদ নাজিমের পরিবার জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন, আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন, উপজেলা পরিষদ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, নাজিমের স্কুলের বন্ধুরাসহ বিভিন্ন পর্যায় থেকে অনুদান ও সাহায্য সহযোগিতা পেয়েছেন। তবে কোনো সাহায্যই সন্তান হারানোর শূন্যতা পূরণ করতে পারেনি। আবেগঘন কণ্ঠে মা শিমুলা আক্তার বলেন, “আমার পুতরে কতোদিন ধইরা দেখি না! আমার পুত কই? এখন কেলা আমারে আম্মা বইলা ডাকবো? আমি আমার ছেলের শার্ট-প্যান্ট দেইখা দেইখা সময় কাটাই।”

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কুয়েতের বিদ্যুৎ ও পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রে দ্বিতীয় দিনেও হামলা, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

জুলাই আন্দোলনে শহীদ নাজিম: মায়ের বুকফাটা কান্না থামছে না, স্বপ্নভঙ্গের করুণ আখ্যান

আপডেট সময় : ১১:০০:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার চিরাম ইউনিয়নের ভাটগাঁও গ্রামের নাজিম উদ্দিন, যিনি জুলাই আন্দোলনে নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন, তার মা শিমুলা আক্তারের কান্না আজও থামেনি। একমাত্র সন্তান হারানোর বেদনা এখনো তাদের পরিবারকে তাড়া করে ফিরছে। সন্তান হারিয়ে বাকরুদ্ধ নাজিমের মা-বাবা ও স্বজনরা।

শ্রমিক বাবা রোস্তম আলী ও মা শিমুলা আক্তারের একমাত্র ছেলে নাজিম উদ্দিনের স্বপ্ন ছিল পড়াশোনা করে মানুষের মতো মানুষ হয়ে বাবার কষ্ট লাঘব করা। জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে তিনি বারহাট্টা সরকারি কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন। নাজিমের মা-বাবা ঢাকায় থাকতেন; মা একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করতেন আর বাবা ছিলেন শ্রমিক। তাদের একমাত্র বড় মেয়ে নাজমার বিয়ে হয়ে গেছে এবং তিনি স্বামী-সন্তান নিয়ে টঙ্গীতে থাকেন।

ঢাকায় থেকে সংসার চালাতে নাজিমের মা-বাবা হিমশিম খাচ্ছিলেন এবং ছেলের পড়াশোনা নিয়েও চিন্তিত ছিলেন। ভেবেছিলেন নাজিমকে বারহাট্টায় তার নানাবাড়িতে রেখে পড়াশোনা করাবেন। সেই চিন্তা থেকেই নাজিম বারহাট্টা সরকারি কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন। পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে ঢাকায় এসে নাজিম জড়িয়ে পড়েন জুলাই আন্দোলনে। গত ৫ আগস্ট বিকাল আনুমানিক ৪টার দিকে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা যখন গণভবন, সংসদ ভবন ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ সারা দেশে বিজয়ের উল্লাস করছিল, তখনও বিভিন্ন স্থানে পুলিশের বর্বরতা চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় উত্তরা পূর্ব থানার সামনে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান নাজিম উদ্দিন, রাজপথে নিজের তাজা রক্ত ঢেলে শহীদ হন তিনি।

একমাত্র আদরের ছেলেকে হারিয়ে মা শিমুলা আক্তার এখন পাগলপ্রায়। নাজিমকে হারিয়ে যেন সব হারিয়ে ফেলেছেন তার মা-বাবা, বোন ও ভাগনে। শহীদ নাজিমের পরিবার জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন, আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন, উপজেলা পরিষদ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, নাজিমের স্কুলের বন্ধুরাসহ বিভিন্ন পর্যায় থেকে অনুদান ও সাহায্য সহযোগিতা পেয়েছেন। তবে কোনো সাহায্যই সন্তান হারানোর শূন্যতা পূরণ করতে পারেনি। আবেগঘন কণ্ঠে মা শিমুলা আক্তার বলেন, “আমার পুতরে কতোদিন ধইরা দেখি না! আমার পুত কই? এখন কেলা আমারে আম্মা বইলা ডাকবো? আমি আমার ছেলের শার্ট-প্যান্ট দেইখা দেইখা সময় কাটাই।”