ঢাকা ০৭:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

ইসরাইলে ইরানের গুপ্তচরবৃত্তি ঠেকাতে ধর্মগুরুদের মাঠে নামালো নিরাপত্তা বাহিনী

ইসরাইলের ভেতরে ইরানের গুপ্তচরবৃত্তি এবং নাগরিক নিয়োগের প্রক্রিয়া রুখতে এবার দেশটির প্রভাবশালী ইহুদি ধর্মগুরু বা রাব্বিদের সাহায্য নিচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনী। ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে ইরানি এজেন্টরা যেভাবে ইসরাইলিদের ফাঁদে ফেলছে, তা প্রতিরোধে রাব্বিদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে।

ইসরাইলের প্রধান রাব্বিনিকাল কাউন্সিলের সদস্য ও জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া ব্যক্তিত্ব রাব্বি ইগ্যাল কোহেন তার অনুসারীদের সতর্ক করে একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন। তিনি সেখানে বলেছেন, ইরানি এজেন্টরা ছবি তোলা, অস্ত্র লুকিয়ে রাখা বা হত্যাকাণ্ডের মতো কাজের জন্য ইসরাইলের ভেতরে লোক নিয়োগের চেষ্টা করছে। তিনি এই ফাঁদে পা না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে এটিকে চরম ধর্মদ্রোহিতা এবং এর পরিণতি হিসেবে জেল ও জীবন ধ্বংসের হুমকি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের অনুরোধেই তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন।

কট্টর রক্ষণশীল (হারিদি) সম্প্রদায়ের পরিচিত মুখ ও সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ইসরাইল কোহেনও রাব্বিদের সঙ্গে নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের যোগাযোগ করিয়ে দিয়ে এই প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন। এর আগে জুলাইয়ের শুরুতে হারিদি সম্প্রদায়ের আরেক সাংবাদিক উইদ্দিশ ভাষায় একই সতর্কবার্তা প্রচার করেন।

ইসরাইলি পুলিশ ও প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সেনা, বেসামরিক নাগরিক, ধর্মীয় ও ধর্মনিরপেক্ষ ইহুদি এবং আরবদের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ৬০টিরও বেশি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ তদন্তকারী আমিচাই প্যানেট্টা জানান, সন্দেহভাজনদের অনেকেই যুদ্ধের সময়েও শত্রুপক্ষকে সহায়তা করেছেন।

২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের হামলা এবং ২০২৫ সালের জুনে ইরানের ওপর ইসরাইলের প্রথম হামলার পর তেহরান তাদের গুপ্তচরবৃত্তির তৎপরতা বাড়িয়েছে। মূলত টেলিগ্রাম অ্যাপ ও ভুয়া নামে এসএমএস পাঠিয়ে সাধারণ মানুষকে টার্গেট করা হয়। প্রথমে নিজের এলাকার সাধারণ ছবি বা ভিডিওর বিনিময়ে সহজ উপায়ে টাকা দেওয়ার লোভ দেখানো হয়। পরে ধীরে ধীরে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মতো সংবেদনশীল তথ্য চাওয়া হয়। সাবেক শিন বেত কর্মকর্তা শালোম বেন হানান জানান, তার স্ত্রীও প্রতিনিয়ত বড় পুরস্কারের লোভ দেখিয়ে ইরানি গোয়েন্দাদের কাছ থেকে এমন বার্তা পান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কুয়েতে বিদ্যুৎ ও পানি শোধন কেন্দ্রে ফের হামলা, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা

ইসরাইলে ইরানের গুপ্তচরবৃত্তি ঠেকাতে ধর্মগুরুদের মাঠে নামালো নিরাপত্তা বাহিনী

আপডেট সময় : ১১:৪৫:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

ইসরাইলের ভেতরে ইরানের গুপ্তচরবৃত্তি এবং নাগরিক নিয়োগের প্রক্রিয়া রুখতে এবার দেশটির প্রভাবশালী ইহুদি ধর্মগুরু বা রাব্বিদের সাহায্য নিচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনী। ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে ইরানি এজেন্টরা যেভাবে ইসরাইলিদের ফাঁদে ফেলছে, তা প্রতিরোধে রাব্বিদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে।

ইসরাইলের প্রধান রাব্বিনিকাল কাউন্সিলের সদস্য ও জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া ব্যক্তিত্ব রাব্বি ইগ্যাল কোহেন তার অনুসারীদের সতর্ক করে একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন। তিনি সেখানে বলেছেন, ইরানি এজেন্টরা ছবি তোলা, অস্ত্র লুকিয়ে রাখা বা হত্যাকাণ্ডের মতো কাজের জন্য ইসরাইলের ভেতরে লোক নিয়োগের চেষ্টা করছে। তিনি এই ফাঁদে পা না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে এটিকে চরম ধর্মদ্রোহিতা এবং এর পরিণতি হিসেবে জেল ও জীবন ধ্বংসের হুমকি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের অনুরোধেই তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন।

কট্টর রক্ষণশীল (হারিদি) সম্প্রদায়ের পরিচিত মুখ ও সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ইসরাইল কোহেনও রাব্বিদের সঙ্গে নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের যোগাযোগ করিয়ে দিয়ে এই প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন। এর আগে জুলাইয়ের শুরুতে হারিদি সম্প্রদায়ের আরেক সাংবাদিক উইদ্দিশ ভাষায় একই সতর্কবার্তা প্রচার করেন।

ইসরাইলি পুলিশ ও প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সেনা, বেসামরিক নাগরিক, ধর্মীয় ও ধর্মনিরপেক্ষ ইহুদি এবং আরবদের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ৬০টিরও বেশি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ তদন্তকারী আমিচাই প্যানেট্টা জানান, সন্দেহভাজনদের অনেকেই যুদ্ধের সময়েও শত্রুপক্ষকে সহায়তা করেছেন।

২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের হামলা এবং ২০২৫ সালের জুনে ইরানের ওপর ইসরাইলের প্রথম হামলার পর তেহরান তাদের গুপ্তচরবৃত্তির তৎপরতা বাড়িয়েছে। মূলত টেলিগ্রাম অ্যাপ ও ভুয়া নামে এসএমএস পাঠিয়ে সাধারণ মানুষকে টার্গেট করা হয়। প্রথমে নিজের এলাকার সাধারণ ছবি বা ভিডিওর বিনিময়ে সহজ উপায়ে টাকা দেওয়ার লোভ দেখানো হয়। পরে ধীরে ধীরে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মতো সংবেদনশীল তথ্য চাওয়া হয়। সাবেক শিন বেত কর্মকর্তা শালোম বেন হানান জানান, তার স্ত্রীও প্রতিনিয়ত বড় পুরস্কারের লোভ দেখিয়ে ইরানি গোয়েন্দাদের কাছ থেকে এমন বার্তা পান।