ঢাকা ০৬:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

জুলাই বিপ্লবের শহীদ মুগ্ধর বিচার: দুই বছর পরও দীর্ঘসূত্রতা, হতাশ পরিবার

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর উত্তরায় মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধসহ সাতজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধে ২৬ জনের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে, এই মামলার বিচারিক কার্যক্রমের দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে গভীর হতাশা প্রকাশ করেছে মুগ্ধর পরিবার। তাদের অভিযোগ, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের সঙ্গে প্রশাসনের সংশ্লিষ্টতার কারণে বিভিন্ন ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং এখনও তারা নানা মাধ্যমে হুমকি পাচ্ছেন।

মুগ্ধর ভাই মীর মাহমুদুর রহমান দীপ্ত এক সাক্ষাৎকারে জানান, মুগ্ধ হত্যাকাণ্ডের দুই বছর পূর্ণ হয়েছে এই জুলাইয়ে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মামলার চার্জশিট জমা হয়েছে, ওয়ারেন্ট ইস্যু হয়েছে এবং পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে দুই মাস ধরে শুনানি পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। দীপ্ত প্রশ্ন তোলেন, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতেই ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে, তাহলে এখন কেন এই বিলম্ব? এর কোনো ব্যাখ্যা না থাকায় তারা অত্যন্ত হতাশ।

তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মামলার বিচার কার্যক্রমে গতি ছিল। নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই গতি আরও বাড়বে বলে আশা করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে বিচার প্রক্রিয়া আরও মন্থর হয়ে গেছে। চিফ প্রসিকিউটর পরিবর্তন এবং তার টিমেও পরিবর্তন এলেও, সে কারণে শুনানি পিছিয়ে দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই বলে দীপ্ত মনে করেন।

বিচার প্রক্রিয়ায় বিলম্বের প্রসঙ্গ তুলে তিনি জানান, ৫ আগস্টের পর তারা বুঝতে পেরেছিলেন যে পুলিশ স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারবে না। তাই তারা নিজেরাই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে একটি পরিপূর্ণ তথ্য প্রতিবেদন প্রস্তুত করে তদন্তকারীদের কাছে জমা দেন। কোথা থেকে গুলি হয়েছে, কারা করেছে, কীভাবে মুগ্ধ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন—সবকিছুর ভিডিও প্রমাণ তাদের কাছে রয়েছে।

দীপ্ত বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের নাম ছাড়া তারা সব ফুটেজ দিয়ে তদন্তকারীদের অনুরোধ করেছিলেন যেন ফুটেজ থেকে চেহারাগুলো ক্লিয়ার করে পুলিশের ডেটাবেজ থেকে খুঁজে বের করা হয় এবং কারা তাদের নির্দেশ দিয়েছে, তা সাক্ষীদের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়। তথ্যপ্রমাণ জমা দেওয়ার প্রায় ২০ দিন পর তদন্ত সংশ্লিষ্টরা তাদের জানান, মুগ্ধ হত্যার মামলায় এত বেশি তথ্যপ্রমাণ রয়েছে যে ১৮ ও ১৯ জুলাই উত্তরায় নিহত ও গুরুতর আহত অন্যদের বিচারেও তা ব্যবহার করা যাবে। অন্য শহীদ পরিবারের কথা বিবেচনা করে তারা বিষয়টি ইতিবাচকভাবে নিয়েছিলেন, কিন্তু এখন এই দীর্ঘসূত্রতায় তারা গভীরভাবে হতাশ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সৈয়দপুরে শিল্পমেলায় র‍্যাফেল ড্র ও লটারি বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ

জুলাই বিপ্লবের শহীদ মুগ্ধর বিচার: দুই বছর পরও দীর্ঘসূত্রতা, হতাশ পরিবার

আপডেট সময় : ১০:৫১:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর উত্তরায় মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধসহ সাতজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধে ২৬ জনের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে, এই মামলার বিচারিক কার্যক্রমের দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে গভীর হতাশা প্রকাশ করেছে মুগ্ধর পরিবার। তাদের অভিযোগ, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের সঙ্গে প্রশাসনের সংশ্লিষ্টতার কারণে বিভিন্ন ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং এখনও তারা নানা মাধ্যমে হুমকি পাচ্ছেন।

মুগ্ধর ভাই মীর মাহমুদুর রহমান দীপ্ত এক সাক্ষাৎকারে জানান, মুগ্ধ হত্যাকাণ্ডের দুই বছর পূর্ণ হয়েছে এই জুলাইয়ে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মামলার চার্জশিট জমা হয়েছে, ওয়ারেন্ট ইস্যু হয়েছে এবং পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে দুই মাস ধরে শুনানি পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। দীপ্ত প্রশ্ন তোলেন, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতেই ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে, তাহলে এখন কেন এই বিলম্ব? এর কোনো ব্যাখ্যা না থাকায় তারা অত্যন্ত হতাশ।

তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মামলার বিচার কার্যক্রমে গতি ছিল। নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই গতি আরও বাড়বে বলে আশা করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে বিচার প্রক্রিয়া আরও মন্থর হয়ে গেছে। চিফ প্রসিকিউটর পরিবর্তন এবং তার টিমেও পরিবর্তন এলেও, সে কারণে শুনানি পিছিয়ে দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই বলে দীপ্ত মনে করেন।

বিচার প্রক্রিয়ায় বিলম্বের প্রসঙ্গ তুলে তিনি জানান, ৫ আগস্টের পর তারা বুঝতে পেরেছিলেন যে পুলিশ স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারবে না। তাই তারা নিজেরাই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে একটি পরিপূর্ণ তথ্য প্রতিবেদন প্রস্তুত করে তদন্তকারীদের কাছে জমা দেন। কোথা থেকে গুলি হয়েছে, কারা করেছে, কীভাবে মুগ্ধ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন—সবকিছুর ভিডিও প্রমাণ তাদের কাছে রয়েছে।

দীপ্ত বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের নাম ছাড়া তারা সব ফুটেজ দিয়ে তদন্তকারীদের অনুরোধ করেছিলেন যেন ফুটেজ থেকে চেহারাগুলো ক্লিয়ার করে পুলিশের ডেটাবেজ থেকে খুঁজে বের করা হয় এবং কারা তাদের নির্দেশ দিয়েছে, তা সাক্ষীদের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়। তথ্যপ্রমাণ জমা দেওয়ার প্রায় ২০ দিন পর তদন্ত সংশ্লিষ্টরা তাদের জানান, মুগ্ধ হত্যার মামলায় এত বেশি তথ্যপ্রমাণ রয়েছে যে ১৮ ও ১৯ জুলাই উত্তরায় নিহত ও গুরুতর আহত অন্যদের বিচারেও তা ব্যবহার করা যাবে। অন্য শহীদ পরিবারের কথা বিবেচনা করে তারা বিষয়টি ইতিবাচকভাবে নিয়েছিলেন, কিন্তু এখন এই দীর্ঘসূত্রতায় তারা গভীরভাবে হতাশ।