বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান ‘জুলাই সনদ’-কে একটি স্বচ্ছ, সুগঠিত ও সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক বন্দোবস্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা অতীতের যেকোনো ব্যবস্থার চেয়ে উন্নত। তিনি বলেন, “এই সনদ আইনের পাতায় স্মরণীয় একটি ইতিহাস হয়ে থাকবে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে যদি আমরা ব্যর্থ হই, তবে আমরা আগামী প্রজন্মের কাছে ভীরু কাপুরুষের উপমা হয়ে থাকবো।”
শনিবার এফডিসিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে গণতন্ত্র সুরক্ষিত হবে’ শীর্ষক ছায়া সংসদে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।
আসাদুজ্জামান বলেন, এই সনদ বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ থাকলেও তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। তিনি মন্তব্য করেন, “জুলাই সনদ নিয়ে তর্ক করা হলে তা হবে অনর্থক বিতর্ক।” তিনি আরও বলেন, “এটা কোরআন বা বাইবেল নয় যে পরিবর্তন করা সম্ভব হবে না। ৩৬ জুলাইয়ের পরাজিত শক্তির ন্যারেটিভ গ্রহণ করে যদি আমরা জুলাই সনদ বানচাল করতে চাই, তবে দেশ পিছিয়ে পড়বে।” তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ‘৭২-এর সংবিধানকে অনেক কাটাছেঁড়ার মাধ্যমে স্বৈরাচারী সরকার আইনের শাসন ব্যাহত করেছিল এবং মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল।
অ্যাটর্নি জেনারেল দৃঢ়ভাবে বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্বপ্ন বাস্তবায়ন হলে জনগণ তাদের ভোটের অধিকার ফিরে পাবে। জুলাই হত্যার বিচারও তার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় এগিয়ে যাবে এবং এই বিচারকার্য কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত হবে না। তিনি জানান, “বিগত ফ্যাসিস্টদের গুম-খুনের বিচারের সব প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে রাষ্ট্রীয়ভাবে নেওয়া হয়েছে, যুক্তি-তর্ক চলছে, এখন কেবল রায়ের অপেক্ষা।” তাঁর মতে, জুলাই চেতনার অঙ্গীকারই এই বিচারের মূল ভিত্তি।
ছায়া সংসদের ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, জুলাই সনদ জাতির এক ঐতিহাসিক দলিল, যার সফল বাস্তবায়নের ওপরই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। তিনি সতর্ক করে দেন যে, “এই সনদ ব্যর্থ হলে ফ্যাসিবাদী শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে, দেশে অস্থিতিশীলতা ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটবে, আর গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত হবে।”
তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদ জনগণের ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা ও মর্যাদার প্রতিফলন। এর বাস্তবায়নের মাধ্যমে স্বৈরাচারী কাঠামোর বিলোপ ঘটবে এবং ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের পথ সুস্পষ্ট হবে। তবে তিনি জোর দেন যে, কেবল নির্বাচন নয়, সুশাসন ও জবাবদিহির মাধ্যমেই প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব। তাঁর হুঁশিয়ারি, “যে দল এই সনদ বাস্তবায়নে ব্যর্থ হবে, জনগণ ভবিষ্যতে তাদের প্রত্যাখ্যান করবে।”
ছায়া সংসদে বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির বিতার্কিকদের পরাজিত করে প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির বিতার্কিকরা বিজয়ী হন। প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন অধ্যাপক আবু মুহাম্মদ রইস, ড. তাজুল ইসলাম চৌধুরী তুহিন, সাংবাদিক হাসান জাবেদ, সাংবাদিক মনিরুজ্জামান মিশন ও সাংবাদিক মাইদুর রহমান রুবেল। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র দেওয়া হয়।
রিপোর্টারের নাম 




















