ঢাকা ০৮:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

‘অনেকগুলো ছায়া মুজিব’ চব্বিশের আকাঙ্খা বেহাতের মাস্টারমাইন্ড: জেডিপি আহ্বায়ক

জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টি (জেডিপি)-এর আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ বলেছেন, একাত্তরের আকাঙ্খা বেহাতের মাস্টারমাইন্ড শেখ মুজিব ছিলেন, আর চব্বিশের আকাঙ্খা বেহাতের মাস্টারমাইন্ড হলো ‘অনেকগুলো ছায়া মুজিব’। তিনি এই কথিত মাস্টারমাইন্ডদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করে দেশ বিনির্মাণের দায়িত্ব মুক্তিকামী জনতার কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে জেডিপি আয়োজিত “জনযুদ্ধ থেকে গণঅভ্যুত্থান: প্রত্যাশা, প্রাপ্তি ও নতুন ধারার রাজনীতি” শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। নাঈম আহমাদ বলেন, ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণের সময় শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগারে বন্দী ছিলেন। শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত না থেকেও তিনি অস্থায়ী সরকারের রাষ্ট্রপতি হন। মুক্তিযোদ্ধারা দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রাম করে বাংলাদেশকে স্বাধীন করার পর তিনি দেশে ফিরে নেতৃত্বে আসীন হন।

জেডিপি আহ্বায়ক আরও বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সময় ফ্যাসিবাদের বিলোপ, নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠা এবং বৈষম্যহীন ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা বাস্তবায়িত হয়নি। তাঁর ভাষায়, অনেকগুলো ছায়া মুজিব সেই সম্ভাবনাকে নষ্ট করে পুরোনো রাজনৈতিক ধারাকেই পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছে।

নাঈম আহমাদ বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে আঁতাত করে এবং দুর্নীতির অর্থ ব্যবহার করে ‘কিংস পার্টি’ গড়ে তোলার চেষ্টা হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রত্যক্ষ ভূমিকা না থাকা সত্ত্বেও অনেকে পরবর্তীতে গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হয়ে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল করেছেন। তিনি এদের প্রত্যেককে একেকজন ‘ছায়া মুজিব’ হিসেবে অভিহিত করেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশকে উন্নয়ন, অগ্রগতি ও সামাজিক গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে নিতে হলে এসব সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর হাত থেকে দেশকে মুক্ত করে জনগণের কাছে ক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে হবে।

আলোচনা সভায় জেডিপির প্রধান সংগঠক মো. আহছান উল্লাহর সঞ্চালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব এডভোকেট সাদ্দাম হোসেন, মাহতাব হোসেন সাব্বির, ইঞ্জিনিয়ার আয়মান আন্দালিব, ইয়াসিন আরাফাত রাজ, কেন্দ্রীয় সদস্য জহিরুল ইসলাম অমি, সালমান শরীফ, সৈয়দ মাশরুর জিসান, আরিফুল হক চৌধুরী প্রমুখ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার ঘোষণা দিল ইরান

‘অনেকগুলো ছায়া মুজিব’ চব্বিশের আকাঙ্খা বেহাতের মাস্টারমাইন্ড: জেডিপি আহ্বায়ক

আপডেট সময় : ০৭:৩২:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টি (জেডিপি)-এর আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ বলেছেন, একাত্তরের আকাঙ্খা বেহাতের মাস্টারমাইন্ড শেখ মুজিব ছিলেন, আর চব্বিশের আকাঙ্খা বেহাতের মাস্টারমাইন্ড হলো ‘অনেকগুলো ছায়া মুজিব’। তিনি এই কথিত মাস্টারমাইন্ডদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করে দেশ বিনির্মাণের দায়িত্ব মুক্তিকামী জনতার কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে জেডিপি আয়োজিত “জনযুদ্ধ থেকে গণঅভ্যুত্থান: প্রত্যাশা, প্রাপ্তি ও নতুন ধারার রাজনীতি” শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। নাঈম আহমাদ বলেন, ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণের সময় শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগারে বন্দী ছিলেন। শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত না থেকেও তিনি অস্থায়ী সরকারের রাষ্ট্রপতি হন। মুক্তিযোদ্ধারা দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রাম করে বাংলাদেশকে স্বাধীন করার পর তিনি দেশে ফিরে নেতৃত্বে আসীন হন।

জেডিপি আহ্বায়ক আরও বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সময় ফ্যাসিবাদের বিলোপ, নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠা এবং বৈষম্যহীন ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা বাস্তবায়িত হয়নি। তাঁর ভাষায়, অনেকগুলো ছায়া মুজিব সেই সম্ভাবনাকে নষ্ট করে পুরোনো রাজনৈতিক ধারাকেই পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছে।

নাঈম আহমাদ বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে আঁতাত করে এবং দুর্নীতির অর্থ ব্যবহার করে ‘কিংস পার্টি’ গড়ে তোলার চেষ্টা হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রত্যক্ষ ভূমিকা না থাকা সত্ত্বেও অনেকে পরবর্তীতে গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হয়ে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল করেছেন। তিনি এদের প্রত্যেককে একেকজন ‘ছায়া মুজিব’ হিসেবে অভিহিত করেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশকে উন্নয়ন, অগ্রগতি ও সামাজিক গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে নিতে হলে এসব সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর হাত থেকে দেশকে মুক্ত করে জনগণের কাছে ক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে হবে।

আলোচনা সভায় জেডিপির প্রধান সংগঠক মো. আহছান উল্লাহর সঞ্চালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব এডভোকেট সাদ্দাম হোসেন, মাহতাব হোসেন সাব্বির, ইঞ্জিনিয়ার আয়মান আন্দালিব, ইয়াসিন আরাফাত রাজ, কেন্দ্রীয় সদস্য জহিরুল ইসলাম অমি, সালমান শরীফ, সৈয়দ মাশরুর জিসান, আরিফুল হক চৌধুরী প্রমুখ।