ঢাকা ০৯:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

মার্কিন অবরোধ সমর্থকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন পাস ভেনেজুয়েলায়

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:১৫:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৬ বার পড়া হয়েছে

মার্কিন অবরোধ ও জলদস্যুতামূলক কর্মকাণ্ডে সমর্থন বা অর্থায়নের সঙ্গে জড়িতদের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রেখে নতুন আইন পাস করেছে ভেনেজুয়েলা। দেশটির জাতীয় পরিষদে মঙ্গলবার আইনটি অনুমোদন পায়। এতে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।

আইনটি পাসের আগে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করে। প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সরকার এসব ঘটনাকে ‘আইনবহির্ভূত জলদস্যুতামূলক কাজ’ বলে নিন্দা জানিয়েছে।

আইনটি উপস্থাপন করে ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্য জিউসেপ্পে আলেসান্দ্রেলো বলেন, ‘এই আইন জাতীয় অর্থনীতিকে সুরক্ষা দেবে এবং জনগণের জীবনমানের অবক্ষয় রোধ করবে।’ মাদুরোর দল নিয়ন্ত্রিত জাতীয় পরিষদে তার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে আইনটি পাস হয়।

গত কয়েক মাসে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে আরও আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে লাতিন আমেরিকায় বড় আকারের সামরিক শক্তি মোতায়েন, তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ, মাদক পাচারকারী নৌযানে হামলার নামে সামরিক অভিযানে কয়েক ডজন মানুষ হত্যা এবং ভেনেজুয়েলায় স্থল হামলার হুমকি।

এসব কর্মকাণ্ডের আইনি বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আন্তর্জাতিক জলসীমায় তেলবাহী ট্যাংকার জব্দের মতো কিছু পদক্ষেপ বিতর্কিত। আর কথিত মাদক পাচারকারীদের লক্ষ্য করে চালানো হামলাগুলোকে ব্যাপকভাবে অবৈধ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে ভেনেজুয়েলার প্রতিনিধি সামুয়েল মনকাদা বলেন, ‘আমরা এমন একটি শক্তির মুখোমুখি, যারা আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করে এবং ভেনেজুয়েলাবাসীদের দেশ ছাড়তে ও দেশটি হস্তান্তরের দাবি জানায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘হুমকি ভেনেজুয়েলা নয়, হুমকি হলো যুক্তরাষ্ট্র সরকার।’

চীন ও রাশিয়াও যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভাসিলি নেবেনজিয়া বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন এমন একটি ‘ছক’ তৈরি করছে, যা ভবিষ্যতে অন্যান্য লাতিন আমেরিকার দেশের বিরুদ্ধেও বলপ্রয়োগের ভিত্তি হতে পারে।

জাতিসংঘ থেকে আলজাজিরার প্রতিবেদক গ্যাব্রিয়েল এলিজোন্দো জানান, রাশিয়া ও চীনের পাশাপাশি কলম্বিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশ ভেনেজুয়েলার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা ও উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছে। তবে আর্জেন্টিনা, পানামা ও চিলির মতো ডানপন্থি সরকার পরিচালিত কয়েকটি দেশ যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের পক্ষে রয়েছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল মঙ্গলবার জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এই সপ্তাহে বিশেষ অভিযানবিষয়ক বিমান ও সেনাবাহী কার্গো বিমান ক্যারিবীয় অঞ্চলে মোতায়েন করেছে। সোমবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নৌবহর গঠিত হয়েছে, যা দক্ষিণ আমেরিকায়ও সবচেয়ে বড়।’

মাদুরো বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তার সরকার উৎখাত করে ভেনেজুয়েলার বিপুল তেলসম্পদের নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইছে। ট্রাম্প প্রশাসনের সদস্যরা এসব তেল যুক্তরাষ্ট্রের ‘ন্যায্য মালিকানা’ বলে দাবি করলেও ভেনেজুয়েলা তা প্রত্যাখ্যান করেছে। ট্রাম্প সোমবার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র জব্দ করা তেল ও ট্যাংকার নিজেরাই রাখবে।

নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ বলেন, তেল বিক্রি মাদুরোর ‘অবৈধ সরকারের’ প্রধান অর্থনৈতিক জোগান। তিনি আবারও প্রমাণহীন দাবি করেন, মাদুরো যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচারকারী একটি বড় অপরাধচক্র তদারক করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লেবাননে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান যুক্তরাজ্যের, আলোচনার উদ্যোগকে স্বাগত

মার্কিন অবরোধ সমর্থকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন পাস ভেনেজুয়েলায়

আপডেট সময় : ১১:১৫:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫

মার্কিন অবরোধ ও জলদস্যুতামূলক কর্মকাণ্ডে সমর্থন বা অর্থায়নের সঙ্গে জড়িতদের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রেখে নতুন আইন পাস করেছে ভেনেজুয়েলা। দেশটির জাতীয় পরিষদে মঙ্গলবার আইনটি অনুমোদন পায়। এতে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।

আইনটি পাসের আগে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করে। প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সরকার এসব ঘটনাকে ‘আইনবহির্ভূত জলদস্যুতামূলক কাজ’ বলে নিন্দা জানিয়েছে।

আইনটি উপস্থাপন করে ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্য জিউসেপ্পে আলেসান্দ্রেলো বলেন, ‘এই আইন জাতীয় অর্থনীতিকে সুরক্ষা দেবে এবং জনগণের জীবনমানের অবক্ষয় রোধ করবে।’ মাদুরোর দল নিয়ন্ত্রিত জাতীয় পরিষদে তার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে আইনটি পাস হয়।

গত কয়েক মাসে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে আরও আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে লাতিন আমেরিকায় বড় আকারের সামরিক শক্তি মোতায়েন, তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ, মাদক পাচারকারী নৌযানে হামলার নামে সামরিক অভিযানে কয়েক ডজন মানুষ হত্যা এবং ভেনেজুয়েলায় স্থল হামলার হুমকি।

এসব কর্মকাণ্ডের আইনি বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আন্তর্জাতিক জলসীমায় তেলবাহী ট্যাংকার জব্দের মতো কিছু পদক্ষেপ বিতর্কিত। আর কথিত মাদক পাচারকারীদের লক্ষ্য করে চালানো হামলাগুলোকে ব্যাপকভাবে অবৈধ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে ভেনেজুয়েলার প্রতিনিধি সামুয়েল মনকাদা বলেন, ‘আমরা এমন একটি শক্তির মুখোমুখি, যারা আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করে এবং ভেনেজুয়েলাবাসীদের দেশ ছাড়তে ও দেশটি হস্তান্তরের দাবি জানায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘হুমকি ভেনেজুয়েলা নয়, হুমকি হলো যুক্তরাষ্ট্র সরকার।’

চীন ও রাশিয়াও যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভাসিলি নেবেনজিয়া বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন এমন একটি ‘ছক’ তৈরি করছে, যা ভবিষ্যতে অন্যান্য লাতিন আমেরিকার দেশের বিরুদ্ধেও বলপ্রয়োগের ভিত্তি হতে পারে।

জাতিসংঘ থেকে আলজাজিরার প্রতিবেদক গ্যাব্রিয়েল এলিজোন্দো জানান, রাশিয়া ও চীনের পাশাপাশি কলম্বিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশ ভেনেজুয়েলার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা ও উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছে। তবে আর্জেন্টিনা, পানামা ও চিলির মতো ডানপন্থি সরকার পরিচালিত কয়েকটি দেশ যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের পক্ষে রয়েছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল মঙ্গলবার জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এই সপ্তাহে বিশেষ অভিযানবিষয়ক বিমান ও সেনাবাহী কার্গো বিমান ক্যারিবীয় অঞ্চলে মোতায়েন করেছে। সোমবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নৌবহর গঠিত হয়েছে, যা দক্ষিণ আমেরিকায়ও সবচেয়ে বড়।’

মাদুরো বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তার সরকার উৎখাত করে ভেনেজুয়েলার বিপুল তেলসম্পদের নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইছে। ট্রাম্প প্রশাসনের সদস্যরা এসব তেল যুক্তরাষ্ট্রের ‘ন্যায্য মালিকানা’ বলে দাবি করলেও ভেনেজুয়েলা তা প্রত্যাখ্যান করেছে। ট্রাম্প সোমবার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র জব্দ করা তেল ও ট্যাংকার নিজেরাই রাখবে।

নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ বলেন, তেল বিক্রি মাদুরোর ‘অবৈধ সরকারের’ প্রধান অর্থনৈতিক জোগান। তিনি আবারও প্রমাণহীন দাবি করেন, মাদুরো যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচারকারী একটি বড় অপরাধচক্র তদারক করেন।