ঢাকা ০৯:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

পলয়ানরত বেসামরিকদের ওপর মিয়ানমার জান্তার বিমান হামলা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:২০:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

পিপলস ডিফেন্স ফোর্স (পিডিএফ)-এর কাছ থেকে মিয়ানমারের জান্তা বাহিনী উত্তর মান্দালয়ের সিঙ্গু শহর পুনর্দখলের পর ইরাবতী নদীর দুই পাশে সাগাইং ও মান্দালয়ে নিয়ন্ত্রণ জোরদার করেছে। এ সময় পালিয়ে যাওয়া বেসামরিক নাগরিকদের ওপর বিমান হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। মিয়ানমারবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ইরাবতী এ খবর জানিয়েছে।

জান্তা দাবি করেছে, সোমবার সকালে তাদের বাহিনী সিঙ্গু থেকে উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে ইয়াদানার থেইন খা সেতু পুনর্দখল করেছে। এই সেতু মান্দালয় অঞ্চলকে সাগাইংয়ের কিয়াউক মিয়ং শহরের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে।

গত অক্টোবরের শেষ দিকে পিডিএফ সেতুর কয়েকটি অংশ বিস্ফোরণে উড়িয়ে দিয়েছিল বলে খবর প্রকাশ হয়েছিল। জান্তা বাহিনী সিঙ্গুতে অগ্রসর হতে না পারে সেজন্য এই পদক্ষেপ নিয়েছিল বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি।

মান্দালয় পিডিএফ, জাতিগত তা’আং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (টিএনএলএ) এবং প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলো গত বছর জুলাইয়ে সিঙ্গু টাউনশিপ মুক্ত করেছিল। টিএনএলএ নেতৃত্বাধীন অভিযানে প্রতিবেশী থাবেইককিন ও মোগোক শহর এবং মান্দালয় শহরের কাছে মাদায়া ও পাথেইংগি অঞ্চলে জান্তার ঘাঁটিগুলোও দখল করা হয়।

তবে গত মাসে চীনের মধ্যস্থতায় জান্তার সঙ্গে যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে টিএনএলএ রুবি খনির কেন্দ্র মোগোক ফিরিয়ে দিয়েছে। সম্প্রতি জান্তা বাহিনী মাদায়া, পাথেইংগি এবং থাবেইককিন শহরও পুনর্দখল করেছে।

জান্তা জানিয়েছে, শুক্রবার পাঁচটি সামরিক ইউনিট বিমান হামলার সহায়তায় সিঙ্গু শহর ও আশপাশের এলাকা পুনর্দখল করেছে এবং ইরাবতী নদী পার হয়ে সাগাইং অঞ্চলে পিছু হটতে থাকা পিডিএফ বাহিনীকে তাড়া করে হামলা চালিয়েছে। স্থানীয় সূত্রের মতে, জান্তা মিঙ্গুন থেকে ওয়েটলেট টাউনশিপ পর্যন্ত সাগাইং তীরে হামলা চালাচ্ছে এবং গত সপ্তাহ থেকে শ্বেবো থেকে সাগাইং শহরে দক্ষিণমুখী রাস্তা বন্ধ করে রেখেছে।

বিমান হামলার সহায়তায় নতুন এই অভিযানের লক্ষ্য মান্দালয়ের মাদায়া ও সিঙ্গু থেকে নদী পার হয়ে প্রতিরোধ বাহিনীর যাতায়াত বন্ধ করা। এতে ব্যাপক বাস্তুচ্যুতি ও বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। শনিবার জান্তা বার্জে নদী পার হওয়া একদল যানবাহনের ওপর বিমান হামলার আলোকচিত্র প্রকাশ করেছে।

১৭ ডিসেম্বর সাগাইং অঞ্চলের খিন উ টাউনশিপে ইরাবতী নদীর দুটি জেটিতে জান্তার পাঁচটি যুদ্ধবিমান বোমাবর্ষণ করে। এতে প্রতিবেশী সিঙ্গু টাউনশিপ থেকে নদী পার হয়ে পালিয়ে আসা সাতজন নিহত এবং ১৫ জন আহত হয়েছেন।

স্থানীয় এক সূত্র ইরাবতীকে বলেছেন, জান্তা ইউনিটগুলো নদীর পশ্চিম তীরে হামলা চালাচ্ছে যাতে পূর্ব পাশ থেকে পালানোর পথ বন্ধ হয়। ওয়েটলেটে জান্তা বাহিনী ও প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সংঘর্ষ চলছে।

সিঙ্গুর এক বিদ্রোহী সূত্র ইরাবতীকে জানিয়েছে, জান্তা শহরের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করায় পিডিএফ গোষ্ঠীগুলো পিছু হটছে।

বেসামরিক নাগরিকরা ব্যাপকহারে পালাচ্ছেন, কিন্তু সাগাইং অঞ্চলে নদী পার হওয়ার চেষ্টাকারীদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আবারও সরকারি ছুটি ফিরছে ৭ নভেম্বর: পালিত হবে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’

পলয়ানরত বেসামরিকদের ওপর মিয়ানমার জান্তার বিমান হামলা

আপডেট সময় : ১১:২০:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫

পিপলস ডিফেন্স ফোর্স (পিডিএফ)-এর কাছ থেকে মিয়ানমারের জান্তা বাহিনী উত্তর মান্দালয়ের সিঙ্গু শহর পুনর্দখলের পর ইরাবতী নদীর দুই পাশে সাগাইং ও মান্দালয়ে নিয়ন্ত্রণ জোরদার করেছে। এ সময় পালিয়ে যাওয়া বেসামরিক নাগরিকদের ওপর বিমান হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। মিয়ানমারবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ইরাবতী এ খবর জানিয়েছে।

জান্তা দাবি করেছে, সোমবার সকালে তাদের বাহিনী সিঙ্গু থেকে উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে ইয়াদানার থেইন খা সেতু পুনর্দখল করেছে। এই সেতু মান্দালয় অঞ্চলকে সাগাইংয়ের কিয়াউক মিয়ং শহরের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে।

গত অক্টোবরের শেষ দিকে পিডিএফ সেতুর কয়েকটি অংশ বিস্ফোরণে উড়িয়ে দিয়েছিল বলে খবর প্রকাশ হয়েছিল। জান্তা বাহিনী সিঙ্গুতে অগ্রসর হতে না পারে সেজন্য এই পদক্ষেপ নিয়েছিল বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি।

মান্দালয় পিডিএফ, জাতিগত তা’আং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (টিএনএলএ) এবং প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলো গত বছর জুলাইয়ে সিঙ্গু টাউনশিপ মুক্ত করেছিল। টিএনএলএ নেতৃত্বাধীন অভিযানে প্রতিবেশী থাবেইককিন ও মোগোক শহর এবং মান্দালয় শহরের কাছে মাদায়া ও পাথেইংগি অঞ্চলে জান্তার ঘাঁটিগুলোও দখল করা হয়।

তবে গত মাসে চীনের মধ্যস্থতায় জান্তার সঙ্গে যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে টিএনএলএ রুবি খনির কেন্দ্র মোগোক ফিরিয়ে দিয়েছে। সম্প্রতি জান্তা বাহিনী মাদায়া, পাথেইংগি এবং থাবেইককিন শহরও পুনর্দখল করেছে।

জান্তা জানিয়েছে, শুক্রবার পাঁচটি সামরিক ইউনিট বিমান হামলার সহায়তায় সিঙ্গু শহর ও আশপাশের এলাকা পুনর্দখল করেছে এবং ইরাবতী নদী পার হয়ে সাগাইং অঞ্চলে পিছু হটতে থাকা পিডিএফ বাহিনীকে তাড়া করে হামলা চালিয়েছে। স্থানীয় সূত্রের মতে, জান্তা মিঙ্গুন থেকে ওয়েটলেট টাউনশিপ পর্যন্ত সাগাইং তীরে হামলা চালাচ্ছে এবং গত সপ্তাহ থেকে শ্বেবো থেকে সাগাইং শহরে দক্ষিণমুখী রাস্তা বন্ধ করে রেখেছে।

বিমান হামলার সহায়তায় নতুন এই অভিযানের লক্ষ্য মান্দালয়ের মাদায়া ও সিঙ্গু থেকে নদী পার হয়ে প্রতিরোধ বাহিনীর যাতায়াত বন্ধ করা। এতে ব্যাপক বাস্তুচ্যুতি ও বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। শনিবার জান্তা বার্জে নদী পার হওয়া একদল যানবাহনের ওপর বিমান হামলার আলোকচিত্র প্রকাশ করেছে।

১৭ ডিসেম্বর সাগাইং অঞ্চলের খিন উ টাউনশিপে ইরাবতী নদীর দুটি জেটিতে জান্তার পাঁচটি যুদ্ধবিমান বোমাবর্ষণ করে। এতে প্রতিবেশী সিঙ্গু টাউনশিপ থেকে নদী পার হয়ে পালিয়ে আসা সাতজন নিহত এবং ১৫ জন আহত হয়েছেন।

স্থানীয় এক সূত্র ইরাবতীকে বলেছেন, জান্তা ইউনিটগুলো নদীর পশ্চিম তীরে হামলা চালাচ্ছে যাতে পূর্ব পাশ থেকে পালানোর পথ বন্ধ হয়। ওয়েটলেটে জান্তা বাহিনী ও প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সংঘর্ষ চলছে।

সিঙ্গুর এক বিদ্রোহী সূত্র ইরাবতীকে জানিয়েছে, জান্তা শহরের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করায় পিডিএফ গোষ্ঠীগুলো পিছু হটছে।

বেসামরিক নাগরিকরা ব্যাপকহারে পালাচ্ছেন, কিন্তু সাগাইং অঞ্চলে নদী পার হওয়ার চেষ্টাকারীদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে।