ঢাকা ০৯:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

চীনের সাইলোতে শতাধিক আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের ইঙ্গিত পেন্টাগনের

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৫২:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৬ বার পড়া হয়েছে

চীন সম্ভবত তিনটি নতুন সাইলো এলাকায় ১০০টির বেশি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) মোতায়েন করেছে এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আলোচনায় কোনও আগ্রহ দেখাচ্ছে না। এমন তথ্য উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগনের এক খসড়া প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনে বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান সামরিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরা হয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

শিকাগোভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা বুলেটিন অব দ্য অ্যাটমিক সায়েন্টিস্টসের মতে, চীন অন্য যেকোনও পারমাণবিক শক্তিধর দেশের চেয়ে দ্রুততার সঙ্গে অস্ত্রভাণ্ডার সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন করছে। বেইজিং সামরিক শক্তিবৃদ্ধির খবরকে ‘চীনকে কলঙ্কিত করা ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বিভ্রান্ত করার প্রচেষ্টা’ বলে বর্ণনা করেছে।

গত মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে একটি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করতে পারেন। কিন্তু রয়টার্সের প্রত্যক্ষ করা খসড়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেইজিংয়ের এ ব্যাপারে কোনও আগ্রহ নেই।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে এ ধরনের পদক্ষেপ বা আরও বিস্তৃত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আলোচনায় কোনও আগ্রহ আমরা দেখছি না।

প্রতিবেদনে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, চীন মঙ্গোলিয়ার সীমান্তের কাছে সাইলো ফিল্ডে ১০০টির বেশি সলিড ফিউেলচালিত ডিএফ৩১ আইসিবিএম মোতায়েন করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এটি সাইলো সাইটগুলোর সর্বশেষ সিরিজ। এর আগে পেন্টাগন এসব ফিল্ডের অস্তিত্বের কথা জানিয়েছিল, কিন্তু মোতায়েনকৃত ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা জানায়নি।

পেন্টাগন এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

ওয়াশিংটন ডিসিতে চীনা দূতাবাস জানিয়েছে, চীন ‘প্রতিরক্ষামূলক পারমাণবিক কৌশল’ অনুসরণ করে, জাতীয় নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় সর্বনিম্ন পর্যায়ে পারমাণবিক শক্তি বজায় রাখে এবং পারমাণবিক পরীক্ষা বন্ধের প্রতিশ্রুতি মেনে চলে।

খসড়া প্রতিবেদনে এই নতুন মোতায়েনকৃত ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করা হয়নি। মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, আইনপ্রণেতাদের কাছে পাঠানোর আগে প্রতিবেদনটিতে পরিবর্তন আসতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে চীনের পারমাণবিক ওয়ারহেডের মজুত ছিল প্রায় ৬০০ এর মতো। যা আগের বছরগুলোর তুলনায় উৎপাদনের ধীর গতি তুলে ধরে। তবে চীনের পারমাণবিক সম্প্রসারণ অব্যাহত রয়েছে এবং ২০৩০ সাল নাগাদ এক হাজারের বেশি ওয়ারহেড থাকার পথে রয়েছে দেশটি।

চীন জানিয়েছে, তারা ‘আত্মরক্ষামূলক পারমাণবিক কৌশল’ অনুসরণ করে এবং প্রথমে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার না করার নীতি মেনে চলে।

ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা পুনরায় শুরু করতে চান তিনি, তবে তার রূপ কী হবে, তা স্পষ্ট নয়।

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও ট্রাম্প নিজের প্রথম মেয়াদে চীন ও রাশিয়াকে নিউ স্টার্ট চুক্তির পরিবর্তে ত্রিপক্ষীয় কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তিতে যুক্ত করার চেষ্টা করেছিলেন।

পেন্টাগনের খসড়া প্রতিবেদনে চীনের সামরিক শক্তিবৃদ্ধির বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে বলা হয়েছে, চীন ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ তাইওয়ানে যুদ্ধ করে জয়লাভ করতে সক্ষম হবে বলে আশা করে।

গণতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড মনে করে চীন, কখনোই দ্বীপটির সঙ্গে ‘পুনরেকত্রীকরণে’ শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনা ত্যাগ করেনি।

প্রতিবেদনে অনুসারে, বেইজিং তাইওয়ান দখলের জন্য ‘নির্মম শক্তি’ প্রয়োগের সামরিক বিকল্পগুলো পরিমার্জন করছে। এর মধ্যে একটি বিকল্প হতে পারে চীন থেকে ১৫০০ থেকে ২০০০ নটিক্যাল মাইল দূরে আঘাত হানা।

চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ব্যাপক দুর্নীতিবিরোধী অভিযান চালাচ্ছেন, যার মূল লক্ষ্যবস্তু পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ)। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ অভিযান স্বল্পমেয়াদে পারমাণবিক প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে পিএলএর সার্বিক উন্নয়নের ভিত্তি তৈরি করবে।

একটি শীর্ষস্থানীয় সংঘাত গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মতে, দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের কারণে অস্ত্র চুক্তি ও ক্রয় প্রক্রিয়া ধীরগতি হওয়ায় গত বছর চীনের বিশাল সামরিক কোম্পানিগুলোর আয় কমেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা, তাইওয়ান ও দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে উত্তেজনার মধ্যেও তিন দশকের ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা বাজেট সত্ত্বেও চীনের অস্ত্র আয় কমেছে।

পেন্টাগনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৮ মাসে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন অস্ত্র কোম্পানিগুলোর অন্তত ২৬ জন শীর্ষ ও সাবেক ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে তদন্ত হয়েছে বা তাদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আবারও সরকারি ছুটি ফিরছে ৭ নভেম্বর: পালিত হবে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’

চীনের সাইলোতে শতাধিক আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের ইঙ্গিত পেন্টাগনের

আপডেট সময় : ০৮:৫২:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫

চীন সম্ভবত তিনটি নতুন সাইলো এলাকায় ১০০টির বেশি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) মোতায়েন করেছে এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আলোচনায় কোনও আগ্রহ দেখাচ্ছে না। এমন তথ্য উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগনের এক খসড়া প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনে বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান সামরিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরা হয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

শিকাগোভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা বুলেটিন অব দ্য অ্যাটমিক সায়েন্টিস্টসের মতে, চীন অন্য যেকোনও পারমাণবিক শক্তিধর দেশের চেয়ে দ্রুততার সঙ্গে অস্ত্রভাণ্ডার সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন করছে। বেইজিং সামরিক শক্তিবৃদ্ধির খবরকে ‘চীনকে কলঙ্কিত করা ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বিভ্রান্ত করার প্রচেষ্টা’ বলে বর্ণনা করেছে।

গত মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে একটি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করতে পারেন। কিন্তু রয়টার্সের প্রত্যক্ষ করা খসড়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেইজিংয়ের এ ব্যাপারে কোনও আগ্রহ নেই।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে এ ধরনের পদক্ষেপ বা আরও বিস্তৃত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আলোচনায় কোনও আগ্রহ আমরা দেখছি না।

প্রতিবেদনে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, চীন মঙ্গোলিয়ার সীমান্তের কাছে সাইলো ফিল্ডে ১০০টির বেশি সলিড ফিউেলচালিত ডিএফ৩১ আইসিবিএম মোতায়েন করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এটি সাইলো সাইটগুলোর সর্বশেষ সিরিজ। এর আগে পেন্টাগন এসব ফিল্ডের অস্তিত্বের কথা জানিয়েছিল, কিন্তু মোতায়েনকৃত ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা জানায়নি।

পেন্টাগন এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

ওয়াশিংটন ডিসিতে চীনা দূতাবাস জানিয়েছে, চীন ‘প্রতিরক্ষামূলক পারমাণবিক কৌশল’ অনুসরণ করে, জাতীয় নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় সর্বনিম্ন পর্যায়ে পারমাণবিক শক্তি বজায় রাখে এবং পারমাণবিক পরীক্ষা বন্ধের প্রতিশ্রুতি মেনে চলে।

খসড়া প্রতিবেদনে এই নতুন মোতায়েনকৃত ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করা হয়নি। মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, আইনপ্রণেতাদের কাছে পাঠানোর আগে প্রতিবেদনটিতে পরিবর্তন আসতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে চীনের পারমাণবিক ওয়ারহেডের মজুত ছিল প্রায় ৬০০ এর মতো। যা আগের বছরগুলোর তুলনায় উৎপাদনের ধীর গতি তুলে ধরে। তবে চীনের পারমাণবিক সম্প্রসারণ অব্যাহত রয়েছে এবং ২০৩০ সাল নাগাদ এক হাজারের বেশি ওয়ারহেড থাকার পথে রয়েছে দেশটি।

চীন জানিয়েছে, তারা ‘আত্মরক্ষামূলক পারমাণবিক কৌশল’ অনুসরণ করে এবং প্রথমে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার না করার নীতি মেনে চলে।

ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা পুনরায় শুরু করতে চান তিনি, তবে তার রূপ কী হবে, তা স্পষ্ট নয়।

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও ট্রাম্প নিজের প্রথম মেয়াদে চীন ও রাশিয়াকে নিউ স্টার্ট চুক্তির পরিবর্তে ত্রিপক্ষীয় কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তিতে যুক্ত করার চেষ্টা করেছিলেন।

পেন্টাগনের খসড়া প্রতিবেদনে চীনের সামরিক শক্তিবৃদ্ধির বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে বলা হয়েছে, চীন ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ তাইওয়ানে যুদ্ধ করে জয়লাভ করতে সক্ষম হবে বলে আশা করে।

গণতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড মনে করে চীন, কখনোই দ্বীপটির সঙ্গে ‘পুনরেকত্রীকরণে’ শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনা ত্যাগ করেনি।

প্রতিবেদনে অনুসারে, বেইজিং তাইওয়ান দখলের জন্য ‘নির্মম শক্তি’ প্রয়োগের সামরিক বিকল্পগুলো পরিমার্জন করছে। এর মধ্যে একটি বিকল্প হতে পারে চীন থেকে ১৫০০ থেকে ২০০০ নটিক্যাল মাইল দূরে আঘাত হানা।

চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ব্যাপক দুর্নীতিবিরোধী অভিযান চালাচ্ছেন, যার মূল লক্ষ্যবস্তু পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ)। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ অভিযান স্বল্পমেয়াদে পারমাণবিক প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে পিএলএর সার্বিক উন্নয়নের ভিত্তি তৈরি করবে।

একটি শীর্ষস্থানীয় সংঘাত গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মতে, দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের কারণে অস্ত্র চুক্তি ও ক্রয় প্রক্রিয়া ধীরগতি হওয়ায় গত বছর চীনের বিশাল সামরিক কোম্পানিগুলোর আয় কমেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা, তাইওয়ান ও দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে উত্তেজনার মধ্যেও তিন দশকের ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা বাজেট সত্ত্বেও চীনের অস্ত্র আয় কমেছে।

পেন্টাগনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৮ মাসে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন অস্ত্র কোম্পানিগুলোর অন্তত ২৬ জন শীর্ষ ও সাবেক ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে তদন্ত হয়েছে বা তাদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।