ঢাকা ০৫:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

রেড স্কয়ারে কেন আত্মদাহ করলেন রুশ প্রতিরক্ষা কারখানার প্রধান?

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৪৫:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

ইউক্রেনে রাশিয়ার সর্বাত্মক আগ্রাসন শুরু হলে ভ্লাদিমির আরসেনিয়েভের জন্য তা যেন সম্ভাব্য এক সোনার খনিতে পরিণত হয়েছিল। ৭৫ বছর বয়সী এই বিজ্ঞানী মস্কোভিত্তিক ভলনা সেন্ট্রাল সায়েন্টিফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটএর প্রধান। প্রতিষ্ঠানটি ট্যাংকের ক্রুদের ব্যবহৃত একটি যোগাযোগযন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ তৈরি করত। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রুশ ট্যাংক প্রবেশের পর প্রতিরক্ষা খাতের বিপুল অর্ডারে ভরে যায় তার কারখানা।

কিন্তু যে অর্ডারগুলো প্রথমে আশীর্বাদ বলে মনে হয়েছিল, সেগুলোই পরে হয়ে ওঠে অভিশাপ। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া একাধিক সাক্ষাৎকারে আরসেনিয়েভ বলেছিলেন, অস্বাভাবিক দ্রুতগতিতে উৎপাদন বাড়াতে হয় তাকে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নির্ধারিত দামে, কঠোর সময়সীমার মধ্যে পণ্য সরবরাহের চাপ ছিল প্রবল। ব্যর্থ হওয়ার কোনও সুযোগ ছিল না। সোভিয়েত শাসক জোসেফ স্তালিনের দৃষ্টান্ত টেনে রুশ সরকার প্রতিরক্ষা ঠিকাদারদের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যে, চুক্তি পূরণে ব্যর্থ হলে জেল হতে পারে। এই সাক্ষাৎকারগুলোর এই প্রথম প্রকাশ করলো রয়টার্স।

২০২৩ সালের বসন্তে এসে ভলনার উৎপাদন নির্ধারিত সময়সূচি থেকে পিছিয়ে পড়ে। শীর্ষ ব্যবস্থাপকদের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। আদালতের নথি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকারে সেই চিত্র উঠে এসেছে। সংখ্যালঘু শেয়ারহোল্ডার সের্গেই মোসিয়েনকো জানান, সময়মতো সরবরাহ সম্ভব হবে না বুঝে তিনি বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানান। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ই ক্রেতা। তারা সব সময় ঠিক।

আরসেনিয়েভ বলেন, সহায়তার জন্য যেসব কর্মকর্তার দ্বারস্থ হয়েছিলেন, তারা তাকে উপেক্ষা করেছেন। দেউলিয়া হওয়ার মুখে দাঁড়িয়ে শেষ পর্যন্ত ২০২৪ সালের ২৬ জুলাই তিনি মস্কোর রেড স্কয়ারে যান। ক্রেমলিনের বাইরে, সোভিয়েত রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা ভ্লাদিমির লেনিনের সমাধিসৌধের কাছে নিজের শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন তিনি। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে সপ্তাহের পর সপ্তাহ হাসপাতালে কাটাতে হয়।

হাসপাতাল থেকে রয়টার্সকে দেওয়া বক্তব্যে আরসেনিয়েভ বলেন, তার চুক্তিগুলো সমস্যায় পড়েনি। বরং যারা তাকে দুর্বল করতে চেয়েছেন, তারাই ভিত্তিহীন অভিযোগ করেছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, যে কোম্পানি ক্রমেই বেশি অর্ডার পাচ্ছে এবং সেগুলো পূরণ করছে, সে কীভাবে ধ্বংসের পথে যায়? নিশ্চয়ই কোথাও বড় সমস্যা আছে।

ক্রেমলিন ও রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই ঘটনা বা প্রতিরক্ষা চুক্তি ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত প্রশ্নের কোনও জবাব দেয়নি।

ভলনা কারখানার সংকট রাশিয়ার প্রতিরক্ষা শিল্পের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপের চিত্র স্পষ্ট করে। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর উৎপাদন বাড়ানোর চাপ বেড়েছে বহু গুণ। রয়টার্সের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, যুদ্ধ শুরুর পর রাষ্ট্রীয় প্রতিরক্ষা আদেশ ব্যাহত করার অভিযোগে অন্তত ৩৪ জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১১ জন কোম্পানি প্রধান ও দুইজন শীর্ষ নির্বাহী রয়েছেন।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে সেনা পাঠানোর পর রাশিয়া গোলা, ক্ষেপণাস্ত্র, ট্যাংক ও ড্রোন উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। তবে লন্ডনের চ্যাথাম হাউজের বিশ্লেষক মাথিউ বুলেগের মতে, অদক্ষতা ও দুর্নীতির কারণে খরচ বেড়েছে, উৎপাদনে দেরি হয়েছে এবং কোটা পূরণ হয়নি। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও রাষ্ট্রীয় কনগ্লোমারেট রোস্টেকের হাতে সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীভূত করা এবং কঠোর নিয়ম চাপিয়ে দেওয়া উদ্ভাবন ও আধুনিকীকরণে বাধা সৃষ্টি করছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

রোস্টেক অবশ্য এসব অভিযোগকে ‘প্রচারমূলক মিথ’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের দাবি, রুশ প্রতিরক্ষা শিল্প পুরোপুরি সুস্থ এবং পশ্চিমা দেশগুলো এমন প্রবৃদ্ধির কেবল স্বপ্নই দেখতে পারে।

ভলনা সরবরাহ করতে না পারায় সেনাবাহিনী সময়মতো প্রয়োজনীয় যোগাযোগযন্ত্র পায়নি বলে জানিয়েছে যন্ত্রাংশ সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠান লুচ ফ্যাক্টরি, এটি রোস্টেকের সঙ্গে সংযুক্ত। যদিও আরসেনিয়েভ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, সরকারের সঙ্গে যন্ত্রাংশের দামের বিরোধে প্রতিষ্ঠানটি অর্থসংকটে পড়ে। পরে কর না দেওয়ার অভিযোগে ব্যাংক হিসাব জব্দ হয়, বেতন দেওয়া যায়নি, শুরু হয় মামলা।

২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ভলনার যন্ত্রাংশের দাম প্রায় অর্ধেক কমানো হবে। যুক্তি ছিল উৎপাদন প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয় হওয়ায় খরচ কমেছে। এর ফলে লুচ এখন ভলনার কাছ থেকে আগাম দেওয়া ৬৫ মিলিয়ন রুবলের বেশি ফেরত চাইছে।

এক মামলায় বিচারক মন্তব্য করেন, দাম কমানোর সিদ্ধান্ত ইউক্রেনে রাশিয়ার সরবরাহ ব্যবস্থায় ক্ষতি করেছে এবং ২০২৪ সালের রাষ্ট্রীয় প্রতিরক্ষা ক্রয় কর্মসূচি ব্যাহত হয়েছে। আদালত ভলনার পক্ষে রায় দিলেও সংশ্লিষ্ট একাধিক মামলা এখনও নিষ্পত্তিহীন।

প্রতিরক্ষা শিল্পে সরকারের কড়া অবস্থানের ইঙ্গিত মেলে সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভের বক্তব্যে। ২০২৩ সালের মার্চে শিল্পনেতাদের বৈঠকে তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন স্তালিনের একটি বার্তা পড়ে শোনান। এতে সময়মতো অস্ত্র সরবরাহে ব্যর্থদের ‘অপরাধীর মতো চূর্ণ’ করার কথা বলা হয়েছিল।

২০১৭ সালের এক আইনে প্রতিরক্ষা চুক্তি ক্ষতিগ্রস্ত করা গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। ২০২২ সালে আইন সংশোধন করে চুক্তিতে স্বাক্ষর না করা বা তা পূরণে অক্ষমতাকেও অপরাধের আওতায় আনা হয়। এরপর একাধিক কারখানা মালিক ও নির্বাহী গ্রেফতার হন।

রেড স্কয়ারে আত্মদাহের পরও আরসেনিয়েভ হাসপাতাল থেকেই সমস্যার সমাধানে কাজ চালিয়ে গেছেন। তার প্রতিষ্ঠান টিকে থাকলেও আকার ছোট হয়েছে, অর্ডার কমেছে। এখন বেশির ভাগ সময় তাকে কাটাতে হচ্ছে আদালতে।

এই চরম প্রতিবাদের একমাত্র আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসে ২০২৪ সালের অক্টোবরে। অননুমোদিত বিক্ষোভ করার দায়ে একটি আদালত তাকে অঘোষিত অঙ্কের জরিমানা করে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গাজার আদলে লেবাননেও ইসরাইলি ‘হলুদ রেখা’ আরোপের প্রস্তুতি

রেড স্কয়ারে কেন আত্মদাহ করলেন রুশ প্রতিরক্ষা কারখানার প্রধান?

আপডেট সময় : ০৬:৪৫:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫

ইউক্রেনে রাশিয়ার সর্বাত্মক আগ্রাসন শুরু হলে ভ্লাদিমির আরসেনিয়েভের জন্য তা যেন সম্ভাব্য এক সোনার খনিতে পরিণত হয়েছিল। ৭৫ বছর বয়সী এই বিজ্ঞানী মস্কোভিত্তিক ভলনা সেন্ট্রাল সায়েন্টিফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটএর প্রধান। প্রতিষ্ঠানটি ট্যাংকের ক্রুদের ব্যবহৃত একটি যোগাযোগযন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ তৈরি করত। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রুশ ট্যাংক প্রবেশের পর প্রতিরক্ষা খাতের বিপুল অর্ডারে ভরে যায় তার কারখানা।

কিন্তু যে অর্ডারগুলো প্রথমে আশীর্বাদ বলে মনে হয়েছিল, সেগুলোই পরে হয়ে ওঠে অভিশাপ। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া একাধিক সাক্ষাৎকারে আরসেনিয়েভ বলেছিলেন, অস্বাভাবিক দ্রুতগতিতে উৎপাদন বাড়াতে হয় তাকে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নির্ধারিত দামে, কঠোর সময়সীমার মধ্যে পণ্য সরবরাহের চাপ ছিল প্রবল। ব্যর্থ হওয়ার কোনও সুযোগ ছিল না। সোভিয়েত শাসক জোসেফ স্তালিনের দৃষ্টান্ত টেনে রুশ সরকার প্রতিরক্ষা ঠিকাদারদের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যে, চুক্তি পূরণে ব্যর্থ হলে জেল হতে পারে। এই সাক্ষাৎকারগুলোর এই প্রথম প্রকাশ করলো রয়টার্স।

২০২৩ সালের বসন্তে এসে ভলনার উৎপাদন নির্ধারিত সময়সূচি থেকে পিছিয়ে পড়ে। শীর্ষ ব্যবস্থাপকদের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। আদালতের নথি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকারে সেই চিত্র উঠে এসেছে। সংখ্যালঘু শেয়ারহোল্ডার সের্গেই মোসিয়েনকো জানান, সময়মতো সরবরাহ সম্ভব হবে না বুঝে তিনি বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানান। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ই ক্রেতা। তারা সব সময় ঠিক।

আরসেনিয়েভ বলেন, সহায়তার জন্য যেসব কর্মকর্তার দ্বারস্থ হয়েছিলেন, তারা তাকে উপেক্ষা করেছেন। দেউলিয়া হওয়ার মুখে দাঁড়িয়ে শেষ পর্যন্ত ২০২৪ সালের ২৬ জুলাই তিনি মস্কোর রেড স্কয়ারে যান। ক্রেমলিনের বাইরে, সোভিয়েত রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা ভ্লাদিমির লেনিনের সমাধিসৌধের কাছে নিজের শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন তিনি। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে সপ্তাহের পর সপ্তাহ হাসপাতালে কাটাতে হয়।

হাসপাতাল থেকে রয়টার্সকে দেওয়া বক্তব্যে আরসেনিয়েভ বলেন, তার চুক্তিগুলো সমস্যায় পড়েনি। বরং যারা তাকে দুর্বল করতে চেয়েছেন, তারাই ভিত্তিহীন অভিযোগ করেছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, যে কোম্পানি ক্রমেই বেশি অর্ডার পাচ্ছে এবং সেগুলো পূরণ করছে, সে কীভাবে ধ্বংসের পথে যায়? নিশ্চয়ই কোথাও বড় সমস্যা আছে।

ক্রেমলিন ও রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই ঘটনা বা প্রতিরক্ষা চুক্তি ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত প্রশ্নের কোনও জবাব দেয়নি।

ভলনা কারখানার সংকট রাশিয়ার প্রতিরক্ষা শিল্পের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপের চিত্র স্পষ্ট করে। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর উৎপাদন বাড়ানোর চাপ বেড়েছে বহু গুণ। রয়টার্সের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, যুদ্ধ শুরুর পর রাষ্ট্রীয় প্রতিরক্ষা আদেশ ব্যাহত করার অভিযোগে অন্তত ৩৪ জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১১ জন কোম্পানি প্রধান ও দুইজন শীর্ষ নির্বাহী রয়েছেন।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে সেনা পাঠানোর পর রাশিয়া গোলা, ক্ষেপণাস্ত্র, ট্যাংক ও ড্রোন উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। তবে লন্ডনের চ্যাথাম হাউজের বিশ্লেষক মাথিউ বুলেগের মতে, অদক্ষতা ও দুর্নীতির কারণে খরচ বেড়েছে, উৎপাদনে দেরি হয়েছে এবং কোটা পূরণ হয়নি। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও রাষ্ট্রীয় কনগ্লোমারেট রোস্টেকের হাতে সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীভূত করা এবং কঠোর নিয়ম চাপিয়ে দেওয়া উদ্ভাবন ও আধুনিকীকরণে বাধা সৃষ্টি করছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

রোস্টেক অবশ্য এসব অভিযোগকে ‘প্রচারমূলক মিথ’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের দাবি, রুশ প্রতিরক্ষা শিল্প পুরোপুরি সুস্থ এবং পশ্চিমা দেশগুলো এমন প্রবৃদ্ধির কেবল স্বপ্নই দেখতে পারে।

ভলনা সরবরাহ করতে না পারায় সেনাবাহিনী সময়মতো প্রয়োজনীয় যোগাযোগযন্ত্র পায়নি বলে জানিয়েছে যন্ত্রাংশ সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠান লুচ ফ্যাক্টরি, এটি রোস্টেকের সঙ্গে সংযুক্ত। যদিও আরসেনিয়েভ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, সরকারের সঙ্গে যন্ত্রাংশের দামের বিরোধে প্রতিষ্ঠানটি অর্থসংকটে পড়ে। পরে কর না দেওয়ার অভিযোগে ব্যাংক হিসাব জব্দ হয়, বেতন দেওয়া যায়নি, শুরু হয় মামলা।

২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ভলনার যন্ত্রাংশের দাম প্রায় অর্ধেক কমানো হবে। যুক্তি ছিল উৎপাদন প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয় হওয়ায় খরচ কমেছে। এর ফলে লুচ এখন ভলনার কাছ থেকে আগাম দেওয়া ৬৫ মিলিয়ন রুবলের বেশি ফেরত চাইছে।

এক মামলায় বিচারক মন্তব্য করেন, দাম কমানোর সিদ্ধান্ত ইউক্রেনে রাশিয়ার সরবরাহ ব্যবস্থায় ক্ষতি করেছে এবং ২০২৪ সালের রাষ্ট্রীয় প্রতিরক্ষা ক্রয় কর্মসূচি ব্যাহত হয়েছে। আদালত ভলনার পক্ষে রায় দিলেও সংশ্লিষ্ট একাধিক মামলা এখনও নিষ্পত্তিহীন।

প্রতিরক্ষা শিল্পে সরকারের কড়া অবস্থানের ইঙ্গিত মেলে সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভের বক্তব্যে। ২০২৩ সালের মার্চে শিল্পনেতাদের বৈঠকে তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন স্তালিনের একটি বার্তা পড়ে শোনান। এতে সময়মতো অস্ত্র সরবরাহে ব্যর্থদের ‘অপরাধীর মতো চূর্ণ’ করার কথা বলা হয়েছিল।

২০১৭ সালের এক আইনে প্রতিরক্ষা চুক্তি ক্ষতিগ্রস্ত করা গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। ২০২২ সালে আইন সংশোধন করে চুক্তিতে স্বাক্ষর না করা বা তা পূরণে অক্ষমতাকেও অপরাধের আওতায় আনা হয়। এরপর একাধিক কারখানা মালিক ও নির্বাহী গ্রেফতার হন।

রেড স্কয়ারে আত্মদাহের পরও আরসেনিয়েভ হাসপাতাল থেকেই সমস্যার সমাধানে কাজ চালিয়ে গেছেন। তার প্রতিষ্ঠান টিকে থাকলেও আকার ছোট হয়েছে, অর্ডার কমেছে। এখন বেশির ভাগ সময় তাকে কাটাতে হচ্ছে আদালতে।

এই চরম প্রতিবাদের একমাত্র আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসে ২০২৪ সালের অক্টোবরে। অননুমোদিত বিক্ষোভ করার দায়ে একটি আদালত তাকে অঘোষিত অঙ্কের জরিমানা করে।