ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে আবারও বিক্ষোভ শুরু করেছে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো। বাংলাদেশে এক হিন্দু ব্যক্তিকে বেআইনিভাবে হত্যার প্রতিবাদে মঙ্গলবার ( ২৩ ডিসেম্বর) এই বিক্ষোভের ডাক দেয় হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) এবং বজরং দল। এসময় পতাকা ও পোস্টার হাতে নানা স্লোগান দিতে থাকে সংগঠনগুলোর সমর্থকরা। ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু এ খবর জানিয়েছে।
বিক্ষোভ সামনে রেখে সকাল থেকেই নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন প্রাঙ্গণ ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। তারপরও ব্যারিকেড ভেঙে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে সমর্থকরা।
বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে কয়েক দিন ধরে ভারতে বিক্ষোভ চলছে। বিশেষ করে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে গত ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের ভালুকায় পোশাক কারখানার শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে হত্যার পর তার মরদেহ আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার পর হিন্দুত্ববাদীরা বিক্ষোভ শুরু করে।
প্রতিবেশী দেশের এধরনের হিংসাত্মক ঘটনায় হিন্দুদের নিরাপত্তাহীনতার বিরুদ্ধে রোষ প্রকাশ করে প্রতিবাদে অংশ নেওয়া হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া নেতারা বলেন, ‘এক হিন্দু মানুষের রক্তের প্রতিটি ফোঁটার হিসাব চাই।’
এক প্রতিবাদকারী বলেন, ‘একজন হিন্দুকে বর্বরভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা আমাদের সরকারকে অনুরোধ করছি যারা এই হত্যার পেছনে রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। আমরা চাই বাংলাদেশ পুলিশও এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিক।’
আরেক প্রতিবাদী বলেন, ‘আমরা ভারতীয়রা প্রতিটি সম্প্রদায়কে ভাইবোন মনে করি। তেমনি, অন্য কোনও দেশে থাকা হিন্দুদেরও যথাযথ সুরক্ষা এবং মর্যাদা পাওয়া উচিত।’
হাইকমিশনের সামনে ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড উঁচু করে বাংলাদেশের সরকারের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দেয় বিক্ষোভকারীরা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুরো এলাকা তিন স্তরের ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রচুর পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়। তারপরও বিক্ষোভকারীরা কয়েকটি ব্যারিকেড ভেঙে ফেলে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছিল পুলিশ।
অবশ্য দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে সব ধরনের কনস্যুলার সেবা ও ভিসা প্রদান স্থগিত ঘোষণা করা হয়। পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত এসব সেবা বন্ধ রাখা হবে বলে জানানো হয়।
রিপোর্টারের নাম 























