বাংলাদেশ-সংক্রান্ত বিভিন্ন ইস্যুতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এবার কলকাতায় বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা পোড়ানোর ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রোববার সন্ধ্যায় হাওড়া ময়দান মেট্রো স্টেশনের কাছে ‘অঞ্জনীপুত্র সেনা’ নামক একটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে এই ধৃষ্টতা দেখানো হয়। বিক্ষোভকারীরা এ সময় বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা পোড়ানোর পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কুশপুত্তলিকাও দাহ করে। সমাবেশে তারা বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে নানা উসকানিমূলক স্লোগান দেয়।
সংগঠনটির সম্পাদক সুরেন্দ্র ভার্মা বিক্ষোভে অংশ নিয়ে দাবি করেন, দীপু দাস নামে এক হিন্দু যুবকের ওপর নির্যাতন ও হত্যার প্রতিবাদেই তারা রাজপথে নেমেছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে তারা চাপ সৃষ্টি করে যাবেন। এমনকি পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে আরও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। একই সঙ্গে তিনি হুমকি দেন যে, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার যদি এসব ঘটনা রোধে ব্যর্থ হয়, তবে কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন ঘেরাওসহ আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
দীপু চন্দ্র দাসের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন বর্তমানে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করছে। তৃণমূল কংগ্রেসের কয়েকটি শাখা সংগঠনের পাশাপাশি বিরোধী দলগুলোও এই ইস্যু নিয়ে রাজপথে সক্রিয় রয়েছে। এর আগে দিল্লি ও ত্রিপুরায় অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনের সামনেও একই ধরনের বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছিল। এসব অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 



















