ঢাকা ০৪:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

সিলেটে ভারতীয় হাইকমিশনে পুলিশের নিরাপত্তা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৩১:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

সিলেটে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের কার্যালয় ও ভিসা আবেদনকেন্দ্রে নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হয়েছে। কেউ যাতে কোনও সুযোগ না নিতে পারে- সেজন্য এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) অতিরিক্ত উপ-কমিশনার সাইফুল ইসলাম।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার সকাল থেকে নগরীর উপশহরের ‘ই’ ব্লকে অবস্থিত সহকারী কমিশনারের কার্যালয়, ওই এলাকায় অবস্থিত তার বাসভবন ও সোবহানী এলাকার ভিসা আবেদন কেন্দ্রের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। রাতেও সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন।

বৃহস্পতিবার ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের এমপি প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর সহকারী হাইকমিশনারের কার্যালয়ের ঘেরাওয়ের ডাক দেয় গণঅধিকার পরিষদ। শুক্রবার জুমার নামাজের পর বিক্ষোভ মিছিল করে ভারতীয় হাইকমিশন ঘেরাওয়ের ঘোষণা দিলেও এর আগ থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরাপত্তাবেষ্টনী দিয়ে রাখে। তবে বাদ জুমা নগরীতে পৃথক বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করে ছাত্রশিবির, এনসিপি, ছাত্র জমিয়ত ও ইনকিলাব মঞ্চ। তাদের কর্মসূচি নগরীর বন্দরবাজার, কোর্ট পয়েন্ট, সিটি পয়েন্ট, জিন্দাবাজার ও চৌহাট্টা এলাকায় সীমাবদ্ধ ছিল।

শুক্রবার বিকালে উপশহর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পুলিশ, সিআরটি ও সেনাবাহিনী ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের অফিসের সামনে অবস্থান করছে। নগরীর বিভিন্ন স্থানে সেনাবাহিনীর গাড়ি টহল দিচ্ছে। বন্দরবাজার ও শহীদ মিনার এলাকায় পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনীও ছিল।

বিকালে ছাত্রশিবির মিছিল করে। শহীদ মিনারের সামনে অবস্থান চলাকালে বিকাল ৩টায় দুই জনকে মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। এর মধ্যে একজন ৭১ টিভিকে দালাল বলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও অপরজন কর্মসূচি নিয়ে উল্টাপাল্টা কথা বলায় মারধর করা হয়।

গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে সিলেটের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও ভাঙচুর করে আন্দোলনকারীরা। মধ্যরাতে প্রথম আলো সিলেট অফিসে ঢিল ছুড়ে গ্লাস ভাঙচুর করা হয়। একই সময়ে নগরীর চৌহাট্রা এলাকায় বিক্ষোভকালে স্থানীয় আল পাইন রেস্টেুরেন্টেও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে আন্দোলনকারীরা।

এছাড়া শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তারা স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, পুলিশ প্রধান ও গোয়েন্দা সংস্থা প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেন।

ইনকিলাব মঞ্চ শাবিপ্রবি শাখার দপ্তর সম্পাদক শোয়াইব আহমেদ চৌধুরী বলেন, হাদি হত্যার বিচার বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সাথে সমন্বয় করে কর্মসূচি ঘোষণা করবো।

মহানগর পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রাত থেকে বিভিন্ন স্থানে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন রাখা হয়েছে। নাশকতা রুখতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

এসএমপির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার সাইফুল ইসলাম বলেন, দিনের বেলা ভারতীয় হাইকমিশনে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়। শুক্রবার রাতে নিয়মিত ডিউটি হিসেবে টহল দিচ্ছে পুলিশ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দুদকে গণপদত্যাগ: ‘নতুন সরকারের প্রত্যাশাকে পথ দিতেই’ — বললেন চেয়ারম্যান

সিলেটে ভারতীয় হাইকমিশনে পুলিশের নিরাপত্তা

আপডেট সময় : ০১:৩১:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫

সিলেটে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের কার্যালয় ও ভিসা আবেদনকেন্দ্রে নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হয়েছে। কেউ যাতে কোনও সুযোগ না নিতে পারে- সেজন্য এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) অতিরিক্ত উপ-কমিশনার সাইফুল ইসলাম।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার সকাল থেকে নগরীর উপশহরের ‘ই’ ব্লকে অবস্থিত সহকারী কমিশনারের কার্যালয়, ওই এলাকায় অবস্থিত তার বাসভবন ও সোবহানী এলাকার ভিসা আবেদন কেন্দ্রের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। রাতেও সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন।

বৃহস্পতিবার ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের এমপি প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর সহকারী হাইকমিশনারের কার্যালয়ের ঘেরাওয়ের ডাক দেয় গণঅধিকার পরিষদ। শুক্রবার জুমার নামাজের পর বিক্ষোভ মিছিল করে ভারতীয় হাইকমিশন ঘেরাওয়ের ঘোষণা দিলেও এর আগ থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরাপত্তাবেষ্টনী দিয়ে রাখে। তবে বাদ জুমা নগরীতে পৃথক বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করে ছাত্রশিবির, এনসিপি, ছাত্র জমিয়ত ও ইনকিলাব মঞ্চ। তাদের কর্মসূচি নগরীর বন্দরবাজার, কোর্ট পয়েন্ট, সিটি পয়েন্ট, জিন্দাবাজার ও চৌহাট্টা এলাকায় সীমাবদ্ধ ছিল।

শুক্রবার বিকালে উপশহর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পুলিশ, সিআরটি ও সেনাবাহিনী ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের অফিসের সামনে অবস্থান করছে। নগরীর বিভিন্ন স্থানে সেনাবাহিনীর গাড়ি টহল দিচ্ছে। বন্দরবাজার ও শহীদ মিনার এলাকায় পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনীও ছিল।

বিকালে ছাত্রশিবির মিছিল করে। শহীদ মিনারের সামনে অবস্থান চলাকালে বিকাল ৩টায় দুই জনকে মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। এর মধ্যে একজন ৭১ টিভিকে দালাল বলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও অপরজন কর্মসূচি নিয়ে উল্টাপাল্টা কথা বলায় মারধর করা হয়।

গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে সিলেটের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও ভাঙচুর করে আন্দোলনকারীরা। মধ্যরাতে প্রথম আলো সিলেট অফিসে ঢিল ছুড়ে গ্লাস ভাঙচুর করা হয়। একই সময়ে নগরীর চৌহাট্রা এলাকায় বিক্ষোভকালে স্থানীয় আল পাইন রেস্টেুরেন্টেও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে আন্দোলনকারীরা।

এছাড়া শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তারা স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, পুলিশ প্রধান ও গোয়েন্দা সংস্থা প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেন।

ইনকিলাব মঞ্চ শাবিপ্রবি শাখার দপ্তর সম্পাদক শোয়াইব আহমেদ চৌধুরী বলেন, হাদি হত্যার বিচার বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সাথে সমন্বয় করে কর্মসূচি ঘোষণা করবো।

মহানগর পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রাত থেকে বিভিন্ন স্থানে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন রাখা হয়েছে। নাশকতা রুখতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

এসএমপির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার সাইফুল ইসলাম বলেন, দিনের বেলা ভারতীয় হাইকমিশনে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়। শুক্রবার রাতে নিয়মিত ডিউটি হিসেবে টহল দিচ্ছে পুলিশ।