নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণার তিন দিন পর তা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর ও বন্দর) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মাসুদুজ্জামান মাসুদ। ফের নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন এই বিএনপি প্রার্থী।
শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মডেল ডি ক্যাপিটালস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের সামনে এ ঘোষণা দেন তিনি। এ দিন নেতাকর্মীদের অনুরোধে তিনি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছেন বলে জানান।
নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়ে মাসুদুজ্জামান মাসুদ বলেন, ‘আমি এই মঞ্চ থেকে ঘোষণা দিচ্ছি— ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও জাতীয়তাবাদী দল যে সিদ্ধান্ত দেবেন, আমি সেই সিদ্ধান্তের সাথেই একমত পোষণ করবো। আমাদের প্রাণপ্রিয় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মনে যদি কোনও কষ্ট দিয়ে থাকি, আমি সে জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছি। জনাব তারেক রহমান আগামীর বাংলাদেশ নিয়ে যে স্বপ্ন দেখেন আমরা সেখানে একসঙ্গে কাজ করবো। আমি ছিলাম, আমি আছি আপনাদের, আমি থাকবো। আমি জাতীয়তাবাদী দলের মনোনয়ন পেয়েছি এবং ইনশাআল্লাহ নির্বাচন করবো।’
নিরাপত্তা ইস্যুতে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘’আজ থেকে আপনারাই আমার পরিবার। আপনারাই আমাকে দেখে রাখবেন, আপনারাই আমার নিরাপত্তা। আজ থেকে আমার আর কোনও নিরাপত্তা শঙ্কা নেই।’
নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সেদিন সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দেওয়া আমার ঘোষণার কারণে জাতীয়তাবাদী দল, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, স্থায়ী কমিটির নেতৃবৃন্দসহ সারা দেশের বিএনপির নেতাকর্মীরা কষ্ট পেয়েছেন। আমি তাদের সবার কাছে নিঃস্বার্থভাবে ক্ষমা চাই।’
এর আগে, গত ১৬ ডিসেম্বর দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে নিরাপত্তা ইস্যু ও পরিবারের চাপের কথা উল্লেখ করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন এই মাসুদুজ্জামান মাসুদ।
ওই দিন সংবাদ সম্মেলনের এক অংশে মাসুদুজ্জামান মাসুদ বলেন, ‘সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, পারিবারিক চাপ ও ব্যক্তিগত কারণে আমি নির্বাচন করবো না, আমি মনোনয়ন কিনবো না। এ কারণে শহর ও বন্দরবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। আমি একজন সমাজকর্মী হিসেবে আজীবন আপনাদের পাশে থাকবো। আমি জানি কী কাজটা করতে যাচ্ছি। এ সিদ্ধান্তের কারণে আমার দলের ও শুভাকাঙ্ক্ষী অনেকের আশা-আকাঙ্ক্ষা আজ মাটি হয়ে গেলো। এ সিদ্ধান্ত অনেক শক্ত করেই নিয়েছি। গত পাঁচ-ছয় মাসে আমি অনেক স্থানে গিয়েছি ও নির্বাচনি প্রচারণা চালিয়েছি। সেখানে সবার সাড়া পেয়েছি। তবে ব্যক্তিগত কারণ ও কিছু পারিপার্শ্বিক কারণে এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে আমাকে। নিরাপত্তা সংক্রান্ত কারণে আমার পরিবার চাচ্ছে না আমি নির্বাচন করি। এজন্য আমি আপনাদের সবার কাছে ক্ষমা চাই। তবে আমি সবসময় আপনাদের পাশে থাকবো।’
তার এমন ঘোষণার পর থেকে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা টানা কয়েকদিন বিক্ষোভ করেন। এ সময় তারা ‘মাসুদ ভাইয়ের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হবে’, ‘মাসুদ ভাইয়ের সিদ্ধান্ত মানি না, মানবো না’—এমন স্লোগান দেন। বিক্ষোভে কয়েকজন নেতাকর্মীকে কান্না করতেও দেখা যায়। পাশাপাশি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না হলে তার মাসুদুজ্জামানের বাসা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ঘেরাও করার ঘোষণা দেন।
রিপোর্টারের নাম 
























