নির্বাচন কমিশনের নতুন পরিপত্রে পোস্টার ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং প্রচারণায় প্লাস্টিক বা পলিথিনের ব্যবহার রুখতে সাদা-কালো ও পরিবেশবান্ধব উপকরণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর প্রচারণার ধরনে আমূল পরিবর্তন এনেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। দীর্ঘদিনের প্রচলিত কাগজের পোস্টার দেওয়ালে সাঁটানো বা ঝুলানো এবার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে যা সম্ভাব্য প্রার্থীদের নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে। তবে বিকল্প হিসেবে প্রার্থীরা সাদা-কালো রঙের ব্যানার, লিফলেট, হ্যান্ডবিল ও ফেস্টুন ব্যবহার করতে পারবেন। পরিবেশ সুরক্ষায় রেক্সিন, পলিথিন বা প্লাস্টিকের মতো অপচনশীল উপকরণের ব্যবহার কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ তিনটি লাউড স্পিকার ব্যবহার করতে পারবেন এবং বিলবোর্ড স্থাপনের ক্ষেত্রে জন চলাচলে বিঘ্ন ঘটানো যাবে না। নির্ধারিত প্রচারণার সময়সীমা ২২ জানুয়ারি থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত রাখা হয়েছে।
নির্বাচনী ব্যয়ের ক্ষেত্রে ইসি এবার অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে। প্রার্থীদের তাদের আয়ের উৎস, আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে প্রাপ্ত ঋণ বা দান এবং বার্ষিক আয়-ব্যয়ের সঠিক বিবরণী মনোনয়নপত্রের সঙ্গেই জমা দিতে হবে। ভোটার প্রতি ব্যয়ের সীমা ১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আড়াই লাখের কম ভোটার সংবলিত আসনে সর্বোচ্চ ব্যয়সীমা ২৫ লাখ টাকা এবং ভোটার সংখ্যা বেশি হলে সেই অনুপাতে ব্যয় নির্ধারণ করা হবে। নির্বাচনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশের এক মাসের মধ্যে সব ব্যয়ের হিসাব জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। আয়ের উৎস গোপন করা বা নির্ধারিত সীমার বাইরে খরচ করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়েও পরিষ্কার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রঙিন কোনো প্রচারপত্র ব্যবহার করা যাবে না; ব্যানার ও ফেস্টুন হতে হবে নির্দিষ্ট মাপের ও সাদা-কালো। দলীয় প্রধানের ছবি ব্যবহার করা গেলেও তা কেবল পোট্রেট আকারে হতে হবে এবং কোনো বিশেষ ভঙ্গিমায় (যেমন মোনাজাত বা জনসভার দৃশ্য) ছবি ছাপানো যাবে না। এছাড়া দেয়াল লিখন, ডিজিটাল আলোকসজ্জা, জীবন্ত প্রাণীর ব্যবহার এবং ভোটারদের আপ্যায়ন করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব নিয়ম অমান্য করলে বা ব্যয়ের বিবরণী দাখিল না করলে সর্বনিম্ন দুই বছর থেকে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে মাঠ পর্যায়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কঠোর তদারকির নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।
রিপোর্টারের নাম 

























