সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের দুর্দশা এবং মানবপাচার চক্রের দৌরাত্ম্য নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা যা দেশের বৈদেশিক শ্রমবাজারকে সংকটে ফেলছে।
রংপুরের রফিকুল ইসলাম এক দশক ধরে সৌদি আরবের জেদ্দায় বসবাস করলেও দেশের দূতাবাস থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। তিনি জানান যে অন্যান্য দেশ যেভাবে তাদের নাগরিকদের সুবিধা অসুবিধার খবর নেয় বাংলাদেশ সেই তুলনায় পিছিয়ে আছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারগুলোর মধ্যে সৌদি আরব অন্যতম প্রধান গন্তব্য হলেও অদক্ষ শ্রমিকদের স্রোত এবং কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা প্রবাসীদের জীবনকে কঠিন করে তুলছে। প্রতিদিন হাজারো বাংলাদেশি কাজের আশায় দেশটিতে পাড়ি দিলেও প্রবাসী সেবার ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না।
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে সবচেয়ে বড় অবদান রাখা রেমিট্যান্সের সিংহভাগ সৌদি আরব থেকে আসলেও সেখানকার বাস্তবতা বেশ জটিল। ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা খরচ করে অনেক শ্রমিক দেশটিতে গেলেও সেখানে গিয়ে তারা চুক্তি অনুযায়ী কাজ পাচ্ছেন না। এর ফলে অনেকে অবৈধ হয়ে পড়ছেন এবং শেষ পর্যন্ত জেল জরিমানা মাথায় নিয়ে দেশে ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন যা আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে সংকটে ফেলছে। নিরাপদ অভিবাসনের বিষয়টি কেবল কাগজ কলমেই সীমাবদ্ধ থাকায় মানবপাচার চক্র দিন দিন আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে। সম্প্রতি নতুন নতুন রুটে মানবপাচারের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এমনকি যুক্তরাষ্ট্র থেকেও দুই শতাধিক বাংলাদেশিকে হাতকড়া পরিয়ে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদেশ ফেরতদের নিয়ে কাজ করা ব্র্যাক ওয়েলফেয়ার সেন্টারের ম্যানেজার আল আমিন নয়ন জানান যে সরকারি নজরদারির অভাবের কারণে মানবপাচারকারীরা বেপরোয়া হয়ে উঠছে। বিশেষ করে আফ্রিকার দেশগুলোতে যারা যাচ্ছেন তাদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে সরকারের কাছে কোনো সঠিক তথ্য নেই। তিনি মনে করেন অন্তত একশ লোক পাঠানোর পর তাদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে নীতিমালা প্রণয়ন করা জরুরি। অন্যদিকে অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনির নিরাপদ অভিবাসনের ক্ষেত্রে সরকারের উদাসীনতাকে দায়ী করেছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন যে কেন ভুয়া কাগজপত্র বিদেশে ধরা পড়ার আগে দেশের বিমানবন্দরেই যথাযথভাবে যাচাই করা হচ্ছে না। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর তথ্যানুযায়ী চলতি বছর এ পর্যন্ত ৪ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি কাজের উদ্দেশ্যে দেশ ছেড়েছেন কিন্তু তাদের নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থানের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
রিপোর্টারের নাম 

























