ঢাকা ০৫:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

ট্রাইব্যুনালে নিজের বিচার টিভিতে সরাসরি সম্প্রচার চেয়ে ইনুর আবেদন

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০২:২২:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ২৭ বার পড়া হয়েছে

বৈষম‍্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে জুলাই-আগস্টে কুষ্টিয়ায় ৬ হত্যা, উসকানি, ষড়যন্ত্রসহ ৮টি অভিযোগের দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু তার বিচারকার্য টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারের জন্য নিজের আইনজীবীর মাধ্যমে আবেদন জানিয়েছেন।

এ মামলায় তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণকালে বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এ আবেদন করা হয়।

ট্রাইব্যুনাল ইনুর পক্ষে আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী এ আবেদন করেন। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করছেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। সঙ্গে রয়েছেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদসহ অন্যরা।

এদিন পঞ্চম দিনের মতো ইনুর বিরুদ্ধে জবানবন্দি দেন কাশিমপুর কারাগার-২ এর সাবেক ডেপুটি জেলার সাখাওয়াত হোসেন। তিনি পঞ্চম নম্বর ও জব্দতালিকার সাক্ষী। গত ১৫ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে নিজের সাক্ষ্য পেশ করেন তিনি।

এর আগে গত ১৫ ডিসেম্বর জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে পঞ্চম দিনের মতো সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এদিন মামলার পঞ্চম সাক্ষী ও কাশিমপুর কারাগার-২ এর সাবেক ডেপুটি জেলার সাখাওয়াত হোসেন জব্দ তালিকার সাক্ষী হিসেবে ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি পেশ করেন। একই দিন অবশিষ্ট জবানবন্দি দেন সিআইডির ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবের উপপরিদর্শক শাহেদ জোবায়ের লরেন্স। তিনি এ মামলার চতুর্থ নম্বর সাক্ষী। তার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে জেরা করেন ইনুর আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী। গত ৮ ডিসেম্বর জবানবন্দি দেন এই উপপরিদর্শক।

তৃতীয় দিনের মতো সাক্ষ্য ও জেরা শেষ হয় ৭ ডিসেম্বর। ওই দিন জব্দ তালিকার সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন তদন্ত সংস্থার রেকর্ড সংরক্ষণকারী এসআই মো. কামরুল হোসেন। গত ২ ডিসেম্বর দ্বিতীয় দিনের জেরা শেষ হয়। ওই দিন দুই নম্বর সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেওয়া বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা ও প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহাকে জেরা করেন ইনুর আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী। এর আগের দিন ১ ডিসেম্বর সাক্ষ্য দেন তিনি।

প্রসঙ্গত, জুলাই-আগস্ট আন্দোলন ঘিরে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন জায়গায় ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালানো হয়। তাদের গুলিতে মারা যান শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী ও চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ। আহত হন বহু নিরীহ মানুষ। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইনুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা হয়। পরে তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ৮টি অভিযোগ এনে ফরমাল চার্জ (আনুষ্ঠানিক অভিযোগ) জমা দেয় প্রসিকিউশন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দক্ষ মানবসম্পদ গড়ায় কারিগরি শিক্ষায় যুগান্তকারী পরিবর্তনের আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর

ট্রাইব্যুনালে নিজের বিচার টিভিতে সরাসরি সম্প্রচার চেয়ে ইনুর আবেদন

আপডেট সময় : ০২:২২:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫

বৈষম‍্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে জুলাই-আগস্টে কুষ্টিয়ায় ৬ হত্যা, উসকানি, ষড়যন্ত্রসহ ৮টি অভিযোগের দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু তার বিচারকার্য টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারের জন্য নিজের আইনজীবীর মাধ্যমে আবেদন জানিয়েছেন।

এ মামলায় তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণকালে বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এ আবেদন করা হয়।

ট্রাইব্যুনাল ইনুর পক্ষে আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী এ আবেদন করেন। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করছেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। সঙ্গে রয়েছেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদসহ অন্যরা।

এদিন পঞ্চম দিনের মতো ইনুর বিরুদ্ধে জবানবন্দি দেন কাশিমপুর কারাগার-২ এর সাবেক ডেপুটি জেলার সাখাওয়াত হোসেন। তিনি পঞ্চম নম্বর ও জব্দতালিকার সাক্ষী। গত ১৫ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে নিজের সাক্ষ্য পেশ করেন তিনি।

এর আগে গত ১৫ ডিসেম্বর জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে পঞ্চম দিনের মতো সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এদিন মামলার পঞ্চম সাক্ষী ও কাশিমপুর কারাগার-২ এর সাবেক ডেপুটি জেলার সাখাওয়াত হোসেন জব্দ তালিকার সাক্ষী হিসেবে ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি পেশ করেন। একই দিন অবশিষ্ট জবানবন্দি দেন সিআইডির ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবের উপপরিদর্শক শাহেদ জোবায়ের লরেন্স। তিনি এ মামলার চতুর্থ নম্বর সাক্ষী। তার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে জেরা করেন ইনুর আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী। গত ৮ ডিসেম্বর জবানবন্দি দেন এই উপপরিদর্শক।

তৃতীয় দিনের মতো সাক্ষ্য ও জেরা শেষ হয় ৭ ডিসেম্বর। ওই দিন জব্দ তালিকার সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন তদন্ত সংস্থার রেকর্ড সংরক্ষণকারী এসআই মো. কামরুল হোসেন। গত ২ ডিসেম্বর দ্বিতীয় দিনের জেরা শেষ হয়। ওই দিন দুই নম্বর সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেওয়া বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা ও প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহাকে জেরা করেন ইনুর আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী। এর আগের দিন ১ ডিসেম্বর সাক্ষ্য দেন তিনি।

প্রসঙ্গত, জুলাই-আগস্ট আন্দোলন ঘিরে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন জায়গায় ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালানো হয়। তাদের গুলিতে মারা যান শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী ও চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ। আহত হন বহু নিরীহ মানুষ। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইনুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা হয়। পরে তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ৮টি অভিযোগ এনে ফরমাল চার্জ (আনুষ্ঠানিক অভিযোগ) জমা দেয় প্রসিকিউশন।