ঢাকা ০৯:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

জবি প্রশাসনিক ভবনে সাড়ে ১৫ ঘণ্টা অবরোধ: দাবি পূরণের আশ্বাসে উপাচার্যকে মুক্ত করলেন শিক্ষার্থীরা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৪৫:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৩ বার পড়া হয়েছে

তিন দফা দাবিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) প্রশাসনিক ভবন সাড়ে ১৫ ঘণ্টার বেশি সময় অবরোধ করেছিলেন আস–সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের ‘মেধাবী প্রকল্পের’ আওতায় থাকা শিক্ষার্থীরা। এই অবরোধের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক রেজাউল করিম প্রায় আট ঘণ্টা ভবনের ভেতরে আটকা পড়েছিলেন। প্রশাসন দাবি পূরণের আশ্বাস দিলে সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেন।

সোমবার সকাল ৯টা থেকে শিক্ষার্থীরা এই কর্মসূচি শুরু করেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাবিনা শরমীন, প্রক্টর অধ্যাপক তাজাম্মুল হকসহ অন্য কর্মকর্তারা ভবনের ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। বিকেল চারটার দিকে একটি নিয়োগ বোর্ডের সভায় অংশ নিতে উপাচার্য ভবনে প্রবেশ করলে শিক্ষার্থীরা তাঁকেও অবরুদ্ধ করেন।

অবরোধে অংশ নেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোস্তাকিম আহম্মেদ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করা হয়। আন্দোলনকারীরা জানান, দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকা এবং স্লোগান দেওয়ার কারণে তিনি অসুস্থ হন।

শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবি

গত বুধবার থেকে শিক্ষার্থীরা এই তিন দফা দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন। তাঁদের মূল দাবিগুলো হলো:

  • আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন পরিচালিত ‘মেধাবী প্রকল্পে’র আওতায় থাকা শিক্ষার্থীদের সাধারণ আবাসন বৃত্তি নীতিমালার অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
  • আবাসন বৃত্তিকে ‘মেধাভিত্তিক’ না করে ‘প্রয়োজনভিত্তিক’ করতে হবে।
  • এ জন্য আরোপিত ৭০ শতাংশ উপস্থিতি ও সিজিপিএ-নির্ভর শর্ত বাতিল করতে হবে।

আন্দোলনকারী ও আইন বিভাগের ২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সিদ্দিক ইমরোজ জানান, গত বুধবার প্রথম ঘেরাও এবং বৃহস্পতিবার আলটিমেটাম দেওয়ার পরও প্রশাসন কর্ণপাত না করায় তারা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হন।

প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার

পরে সোমবার দিবাগত রাত ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় যে, আগামী ২১ কর্মদিবসের মধ্যে আস–সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের মেধাবী প্রকল্পের শিক্ষার্থীদের বৃত্তি নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করে যৌক্তিক সমাধান করা হবে। লিখিত ঘোষণা আসার পর রাত সাড়ে ১২টায় শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের ফটক খুলে দেন এবং অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

নরসিংদীতে ওবায়দুল্লাহ হত্যা: ঢাকায় খণ্ডিত লাশ উদ্ধার, গ্রামের বাড়িতে শোকের ছায়া

জবি প্রশাসনিক ভবনে সাড়ে ১৫ ঘণ্টা অবরোধ: দাবি পূরণের আশ্বাসে উপাচার্যকে মুক্ত করলেন শিক্ষার্থীরা

আপডেট সময় : ১২:৪৫:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫

তিন দফা দাবিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) প্রশাসনিক ভবন সাড়ে ১৫ ঘণ্টার বেশি সময় অবরোধ করেছিলেন আস–সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের ‘মেধাবী প্রকল্পের’ আওতায় থাকা শিক্ষার্থীরা। এই অবরোধের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক রেজাউল করিম প্রায় আট ঘণ্টা ভবনের ভেতরে আটকা পড়েছিলেন। প্রশাসন দাবি পূরণের আশ্বাস দিলে সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেন।

সোমবার সকাল ৯টা থেকে শিক্ষার্থীরা এই কর্মসূচি শুরু করেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাবিনা শরমীন, প্রক্টর অধ্যাপক তাজাম্মুল হকসহ অন্য কর্মকর্তারা ভবনের ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। বিকেল চারটার দিকে একটি নিয়োগ বোর্ডের সভায় অংশ নিতে উপাচার্য ভবনে প্রবেশ করলে শিক্ষার্থীরা তাঁকেও অবরুদ্ধ করেন।

অবরোধে অংশ নেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোস্তাকিম আহম্মেদ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করা হয়। আন্দোলনকারীরা জানান, দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকা এবং স্লোগান দেওয়ার কারণে তিনি অসুস্থ হন।

শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবি

গত বুধবার থেকে শিক্ষার্থীরা এই তিন দফা দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন। তাঁদের মূল দাবিগুলো হলো:

  • আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন পরিচালিত ‘মেধাবী প্রকল্পে’র আওতায় থাকা শিক্ষার্থীদের সাধারণ আবাসন বৃত্তি নীতিমালার অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
  • আবাসন বৃত্তিকে ‘মেধাভিত্তিক’ না করে ‘প্রয়োজনভিত্তিক’ করতে হবে।
  • এ জন্য আরোপিত ৭০ শতাংশ উপস্থিতি ও সিজিপিএ-নির্ভর শর্ত বাতিল করতে হবে।

আন্দোলনকারী ও আইন বিভাগের ২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সিদ্দিক ইমরোজ জানান, গত বুধবার প্রথম ঘেরাও এবং বৃহস্পতিবার আলটিমেটাম দেওয়ার পরও প্রশাসন কর্ণপাত না করায় তারা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হন।

প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার

পরে সোমবার দিবাগত রাত ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় যে, আগামী ২১ কর্মদিবসের মধ্যে আস–সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের মেধাবী প্রকল্পের শিক্ষার্থীদের বৃত্তি নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করে যৌক্তিক সমাধান করা হবে। লিখিত ঘোষণা আসার পর রাত সাড়ে ১২টায় শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের ফটক খুলে দেন এবং অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন।