নতুন পঞ্জিকা বছরের জন্য এলএনজি কার্গো, সার ও চাল আমদানিসহ ১০টি প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে ‘সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি’। এতে মোট ব্যয় হবে ১ হাজার ৯৬৭ কোটি ৮৫ লাখ ৫১ হাজার টাকা। গতকাল সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত ক্রয় কমিটির সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ।
বৈঠক শেষে জানানো হয়, আসন্ন নতুন বছরের জানুয়ারিতে ব্যবহারের জন্য স্পট মার্কেট থেকে আন্তর্জাতিক কোটেশনের মাধ্যমে এক কার্গো এলএনজি আমদানি করা হবে। এটি ২০২৬ সালের জন্য দ্বিতীয় এলএনজি কার্গো আমদানি। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স পসকো ইন্টারন্যাশনাল কর্পোরেশন’ এ কার্গোটি সরবরাহ করবে। প্রতি এমএমবিটিইউ ৯ দশমিক ৯৯ ডলার দরে বাংলাদেশি মুদ্রায় এতে ব্যয় হবে ৪২০ কোটি ৯ লাখ ৬৯ হাজার টাকা।
বৈঠকে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত চুক্তির আওতায় সউদী আরবের ‘সাবিক এগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি’ থেকে দুটি লটে (লট নং ১২ ও ১৩) চল্লিশ হাজার মেট্রিক টন করে মোট ৮০ হাজার মেট্রিক টন সার আমদানির দুটি পৃথক প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রতি মেট্রিক টন ৪১৩ দশমিক ৪৬ ডলার দরে বাংলাদেশি মুদ্রায় এতে ব্যয় হবে ৪০৬ কোটি ১৮ লাখ ৩১ হাজার টাকা।
এছাড়াও চলতি অর্থবছরের জন্য আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে প্যাকেজ-০৮-এর আওতায় ৫০ হাজার মেট্রিক টন নন-বাসমতি সিদ্ধ চাল ক্রয়ের একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স বাগাদিয়া ব্রাদার্স প্রাইভেট লিমিটেড’ এ চাল সরবরাহ করবে। প্রতি মেট্রিক টন ৩৫১ দশমিক ১১ ডলার দরে বাংলাদেশি মুদ্রায় এতে ব্যয় হবে ২১৪ কোটি ৭০ লাখ ৩৭ হাজার টাকা।
বৈঠকে ‘সার সংরক্ষণ ও বিতরণের সুবিধার্থে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ৩৪টি বাফার গুদাম নির্মাণ (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্পের আওতায় দুটি পৃথক লটে নওগাঁয় একটি সাইটে ২৫ হাজার মেট্রিক টন এবং বগুড়ায় একটি সাইটে ২০ হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন দুটি পৃথক গোডাউন নির্মাণের দুটি পৃথক প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নওগাঁর গোডাউনটি নির্মাণ করবে নৌ বাহিনীর ‘ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেড’ (ব্যয় ৫৪ কোটি ৭০ লাখ ৫১ হাজার টাকা) এবং বগুড়ার গোডাউনটি নির্মাণ করবে ‘এসএস রহমান ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড’ (ব্যয় ৫৯ কোটি ২৮ লাখ ৪৫ হাজার টাকা)।
বৈঠকে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ‘স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর’ (এলজিইডি) কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘হোস্ট অ্যান্ড এফডিএমএন এনহ্যান্সমেন্ট অব লাইভস থ্রোয়াউ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট (এইচইএলপি)’-এর আওতায় একটি প্যাকেজ (হেল্প/ইউএন-১) কাজ সম্পাদনে ‘ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন’ (আইওএম)-এর বাংলাদেশ কান্ট্রি অফিসকে ঠিকাদার হিসেবে নিয়োগের একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
অন্যান্যের মধ্যে বৈঠকে ‘সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ’ বাস্তবায়নাধীন কুমিল্লা সড়ক জোনে চারলেনের একটি আঞ্চলিক মহাসড়ক উন্নয়ন এবং কুমিল্লা সড়ক বিভাগের অধীন ৪টি জেলা মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীত করতে দুটি পৃথক পূর্তকাজ সম্পাদনে ঠিকাদার নিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ‘কুমিল্লা-লালমাই-চাঁদপুর-লক্ষ্মীপুর-বেগমগঞ্জ (আর-১৪০) এবং বেগমগঞ্জ-সোনাইমুড়ী-রামগঞ্জ (আর-১৪২) আঞ্চলিক মহাসড়ক ৪-লেন সড়ক উন্নয়ন’ প্রকল্পের প্যাকেজ নং ডব্লিউপি-০২-এর পূর্তকাজ সম্পাদনে ব্যয় হবে ১৫৬ কোটি ৪২ লাখ ৬০ হাজার টাকা, যা যৌথভাবে পেয়েছে ‘এমএএইচ কনস্ট্রাকশন লিমিটেড’ ও ‘মেসার্স রহমান ইঞ্জিনিয়ারিং’। অন্যদিকে ‘কুমিল্লা সড়ক বিভাগাধীন ৪টি জেলা সহাসড়ক যথাযথমান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ’ প্রকল্পের প্যকেজ নং ডব্লিউডি-০৩-এর পূর্তকাজ সম্পাদনে ব্যয় হবে ১২৯ কোটি ৪০ লাখ ৭৪ হাজার টাকা, যা যৌথভাবে পেয়েছে ‘এস-ইউ কনসোর্টিয়াম’ (‘শামীম এন্টারপ্রাইজ প্রাইভেট লিমিটেড’ ও ‘ইউডিসি কনস্ট্রাকশন লিমিটেড’)।
এছাড়া বৈঠকে পটুয়াখালী সড়ক বিভাগ-এর অধীন ‘লেবুখালী-বাউফল-গলাচিপা-আমড়াগাছিয়া জেলা মহাসড়কের (জেড-৮৮০৬) ৭০তম কিলোমিটারে রাবনাবাদ নদীর উপর ‘রাবনাবাদ সেতু নির্মাণ’ প্রকল্পের প্যাকেজ নং ডব্লিউপি-১-এর পূর্তকাজ সম্পাদনে ঠিকাদার নিয়োগের একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সর্বনি¤œ দরদাতা হিসেবে এ কাজটি পেয়েছে যৌথভাবে- ‘এমএম বিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড’, ‘মেসার্স জন্মভূমি নির্মাতা’ ও ‘ওহিদুজ্জামান চৌধুরী’ (এমএনও)। এতে ব্যয় হবে ১৬৪ কোটি ৪ লাখ ৮২ হাজার টাকা।
রিপোর্টারের নাম 























