ঢাকা ১২:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

হাঙ্গেরিতে প্রধানমন্ত্রীর অপসারণের দাবিতে ব্যাপক বিক্ষোভ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৭:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৩ বার পড়া হয়েছে

হাঙ্গেরিতে রাষ্ট্র পরিচালিত সংশোধনাগারে শিশু নির্যাতনের অভিযোগে সরকারের পদক্ষেপে সন্তুষ্ট নয় সাধারণ মানুষ। সরকারের ‘নিষ্ক্রিয়তার’ কারণে প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর ওরবানের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) বুদাপেস্টে বিক্ষোভ করেছে হাজারো মানুষ।

শনিবারের এই বিক্ষোভের ডাক দেন বিরোধী নেতা পিটার ম্যাগয়ার। আসন্ন বসন্তে অনুষ্ঠেয় পার্লামেন্টারি নির্বাচনের আগে জনমত জরিপে এগিয়ে থাকা তার দল টিসজা সম্প্রতি রাজধানীর একটি কিশোর সংশোধনাগারে নতুন অভিযোগ সামনে আসার পর এই কর্মসূচির ঘোষণা দেয়।

এএফপির সাংবাদিকদের হিসাব অনুযায়ী, অন্তত ৫০ হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। অনেক বিক্ষোভকারী হাতে শিশুদের খেলনা বহন করছিলেন। পিটার ম্যাগয়ার নিজে মিছিলের নেতৃত্ব দেন। তিনি ‘চলুন, শিশুদের রক্ষা করি’ লেখা একটি ব্যানার বহন করছিলেন।

সম্প্রতি প্রকাশিত এক সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সজলো স্ট্রিট কিশোর সংশোধনাগারের তৎকালীন পরিচালক এক কিশোরের মাথায় লাথি মারছে। ওই ঘটনায় চলতি সপ্তাহে চারজন কর্মীকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকার দেশের সব সংশোধনাগারকে পুলিশি তত্ত্বাবধানে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এর আগে ভিন্ন অভিযোগে সংশোধনাগারের আরও তিন কর্মী গ্রেফতার হয়েছিল, যাদের মধ্যে ছিল আরেক সাবেক পরিচালক। তার বিরুদ্ধে একটি পতিতাবৃত্তির চক্র পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে।

২০১০ সালে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে জাতীয়তাবাদী প্রধানমন্ত্রী ওরবান শিশুদের সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এলেও সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক উচ্চপর্যায়ের শিশু নির্যাতন কেলেঙ্কারিতে তার সরকার চরম চাপে পড়েছে।

এএফপিকে বলেন ১৬ বছর বয়সি বিক্ষোভকারী ডেভিড কোজাক বলেন, ওদের কাছে সমস্যা নির্যাতন হওয়া নয়, সমস্যা হলো এসব ঘটনা সামনে চলে আসা। সাধারণত এমন একটি ঘটনার পর কোনও সরকার টিকে থাকা উচিত না।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ৭৩ বছর বয়সি পেনশনভোগী জুজসা সালাই বলেন, সবচেয়ে অসহায় শিশুদের সঙ্গে যা করা হচ্ছে, তাতে আমাদের ক্ষুব্ধ হওয়া উচিত।

শুক্রবার পিটার ম্যাগয়ার ২০২১ সালের একটি আগে প্রকাশ না হওয়া সরকারি প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। সেখানে বলা হয়, রাষ্ট্র পরিচালিত পরিচর্যা কেন্দ্রে শিশুদের পাঁচ ভাগের এক ভাগেরও বেশি নির্যাতনের শিকার হয়েছে।

অবশ্য সরকারের দাবি, শিশু নির্যাতনের অভিযোগগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ওই প্রতিবেদনটি ২০২২ সালে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছিল, যাতে তারা তদন্তকাজে সহায়তা পায়।

প্রধানমন্ত্রী ওরবান সর্বশেষ নির্যাতনের ঘটনাটি নিন্দা করে বলেন, অল্পবয়সী অপরাধীরাও এরকম আচরণের শিকার হতে পারে না।

গত বছর দেশটির প্রেসিডেন্ট কাতালিন নোভাক পদত্যাগে বাধ্য হন। অভিযোগ ওঠে, তিনি এক দণ্ডিত শিশু নির্যাতনকারীর সহযোগীকে ক্ষমা করে দিয়েছিলেন।

ওই কেলেঙ্কারি ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর জন্য বড় ধরনের ধাক্কা ছিল। এরপরই সাবেক সরকারঘনিষ্ঠ রাজনীতিবিদ পিটার ম্যাগয়ারের উত্থান আরও ত্বরান্বিত হয়।

সূত্র: এএফপি

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ ও ভারত প্রশ্নে অনড় হাসিনা

হাঙ্গেরিতে প্রধানমন্ত্রীর অপসারণের দাবিতে ব্যাপক বিক্ষোভ

আপডেট সময় : ০৯:৩৭:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫

হাঙ্গেরিতে রাষ্ট্র পরিচালিত সংশোধনাগারে শিশু নির্যাতনের অভিযোগে সরকারের পদক্ষেপে সন্তুষ্ট নয় সাধারণ মানুষ। সরকারের ‘নিষ্ক্রিয়তার’ কারণে প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর ওরবানের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) বুদাপেস্টে বিক্ষোভ করেছে হাজারো মানুষ।

শনিবারের এই বিক্ষোভের ডাক দেন বিরোধী নেতা পিটার ম্যাগয়ার। আসন্ন বসন্তে অনুষ্ঠেয় পার্লামেন্টারি নির্বাচনের আগে জনমত জরিপে এগিয়ে থাকা তার দল টিসজা সম্প্রতি রাজধানীর একটি কিশোর সংশোধনাগারে নতুন অভিযোগ সামনে আসার পর এই কর্মসূচির ঘোষণা দেয়।

এএফপির সাংবাদিকদের হিসাব অনুযায়ী, অন্তত ৫০ হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। অনেক বিক্ষোভকারী হাতে শিশুদের খেলনা বহন করছিলেন। পিটার ম্যাগয়ার নিজে মিছিলের নেতৃত্ব দেন। তিনি ‘চলুন, শিশুদের রক্ষা করি’ লেখা একটি ব্যানার বহন করছিলেন।

সম্প্রতি প্রকাশিত এক সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সজলো স্ট্রিট কিশোর সংশোধনাগারের তৎকালীন পরিচালক এক কিশোরের মাথায় লাথি মারছে। ওই ঘটনায় চলতি সপ্তাহে চারজন কর্মীকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকার দেশের সব সংশোধনাগারকে পুলিশি তত্ত্বাবধানে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এর আগে ভিন্ন অভিযোগে সংশোধনাগারের আরও তিন কর্মী গ্রেফতার হয়েছিল, যাদের মধ্যে ছিল আরেক সাবেক পরিচালক। তার বিরুদ্ধে একটি পতিতাবৃত্তির চক্র পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে।

২০১০ সালে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে জাতীয়তাবাদী প্রধানমন্ত্রী ওরবান শিশুদের সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এলেও সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক উচ্চপর্যায়ের শিশু নির্যাতন কেলেঙ্কারিতে তার সরকার চরম চাপে পড়েছে।

এএফপিকে বলেন ১৬ বছর বয়সি বিক্ষোভকারী ডেভিড কোজাক বলেন, ওদের কাছে সমস্যা নির্যাতন হওয়া নয়, সমস্যা হলো এসব ঘটনা সামনে চলে আসা। সাধারণত এমন একটি ঘটনার পর কোনও সরকার টিকে থাকা উচিত না।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ৭৩ বছর বয়সি পেনশনভোগী জুজসা সালাই বলেন, সবচেয়ে অসহায় শিশুদের সঙ্গে যা করা হচ্ছে, তাতে আমাদের ক্ষুব্ধ হওয়া উচিত।

শুক্রবার পিটার ম্যাগয়ার ২০২১ সালের একটি আগে প্রকাশ না হওয়া সরকারি প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। সেখানে বলা হয়, রাষ্ট্র পরিচালিত পরিচর্যা কেন্দ্রে শিশুদের পাঁচ ভাগের এক ভাগেরও বেশি নির্যাতনের শিকার হয়েছে।

অবশ্য সরকারের দাবি, শিশু নির্যাতনের অভিযোগগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ওই প্রতিবেদনটি ২০২২ সালে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছিল, যাতে তারা তদন্তকাজে সহায়তা পায়।

প্রধানমন্ত্রী ওরবান সর্বশেষ নির্যাতনের ঘটনাটি নিন্দা করে বলেন, অল্পবয়সী অপরাধীরাও এরকম আচরণের শিকার হতে পারে না।

গত বছর দেশটির প্রেসিডেন্ট কাতালিন নোভাক পদত্যাগে বাধ্য হন। অভিযোগ ওঠে, তিনি এক দণ্ডিত শিশু নির্যাতনকারীর সহযোগীকে ক্ষমা করে দিয়েছিলেন।

ওই কেলেঙ্কারি ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর জন্য বড় ধরনের ধাক্কা ছিল। এরপরই সাবেক সরকারঘনিষ্ঠ রাজনীতিবিদ পিটার ম্যাগয়ারের উত্থান আরও ত্বরান্বিত হয়।

সূত্র: এএফপি