ভারতের রাজধানী দিল্লি ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় বায়ুদূষণের মাত্রা চলতি মৌসুমে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর কঠোর দূষণনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জোরদার করেছে কর্তৃপক্ষ।
দিল্লির বায়ুমান রবিবার (১৩ ডিসেম্বর) ‘চরম’ পর্যায়ে পৌঁছায়। কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, একাধিক পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স ৪৫০ পার করেছে। চলতি শীত মৌসুমে এটিই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ মাত্রা। শনিবার এই সূচক ছিল ৪৩০।
উল্লেখ্য, একিউআই ৫০ এর নিচে থাকলে তা ‘ভালো’ হিসেবে বিবেচিত হয়।
শনিবার সন্ধ্যায় পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দিল্লি ও আশপাশের অঞ্চলের জন্য গ্রেডেড রেসপন্স অ্যাকশন প্ল্যানের সর্বোচ্চ স্তর, চতুর্থ ধাপ কার্যকর করেছে বায়ুমান ব্যবস্থাপনা কমিশন।
নতুন বিধিনিষেধের আওতায় পুরোনো ডিজেলচালিত ট্রাকের প্রবেশ নিষিদ্ধ, সরকারি প্রকল্পসহ সব ধরনের নির্মাণকাজ স্থগিত এবং হাইব্রিড পদ্ধতিতে শিক্ষা কার্যক্রম চালুর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রায় তিন কোটি মানুষের আবাস দিল্লি শীতকালে প্রায়ই ধোঁয়াশায় ঢেকে যায়। ঠান্ডা ও ঘন বাতাসে নির্মাণকাজের ধুলো এবং যানবাহন ও পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলোয় ফসলের অবশিষ্টাংশ পোড়ানো থেকে সৃষ্ট ধোঁয়া আটকে রাখে। এর ফলে দূষণের মাত্রা বিশ্বের সর্বোচ্চগুলোর একটি পর্যায়ে পৌঁছে যায় এবং বাসিন্দারা মারাত্মক শ্বাসতন্ত্রজনিত ঝুঁকিতে পড়েন।
চলমান অবস্থায় শিশু, শ্বাসকষ্ট বা হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তি এবং বয়স্কদের বিশেষভাবে ঘরে থাকার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। প্রয়োজন ছাড়া বের হওয়া এড়াতে এবং বাইরে গেলে মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বায়ুমান ব্যবস্থাপনা কমিশনের মতে, বাতাসে বাড়তি আর্দ্রতা এবং বাতাসের দিক পরিবর্তনের ফলে দূষণ ছড়িয়ে পড়তে না পেরে ধোঁয়াশা ঘনীভূত হয়েছে, যা পরিস্থিতির আরও অবনতির কারণ।
সূত্র: রয়টার্স
রিপোর্টারের নাম 






















