নারী জাগরণের পথিকৃৎ রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনকে ‘কাফির-মুরতাদ’ বলে মন্তব্য করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক। এ ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক। তারা বলেছে, এটি দায়িত্বজ্ঞানহীন, ঘৃণাত্মক এবং নারী অধিকার আন্দোলনের প্রতি অবমাননাকর আচরণ।
বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) এক বিবৃতিতে তারা জানান, আমরা বিস্ময় ও ক্ষোভের সঙ্গে লক্ষ করছি, নারী জাগরণ ও নারী অধিকার আন্দোলনের অগ্রদূত রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনকে মুরতাদ কাফির আখ্যা দিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক খন্দকার মুহাম্মদ মাহমুদুল হাসান। একজন শিক্ষক এ রকম দায়িত্বহীন মন্তব্য করতে পারেন এটা অবিশ্বাস্য। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) রোকেয়া দিবসে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পোস্ট শেয়ার করে তিনি লেখেন, ‘আজ মুরতাদ কাফির বেগম রোকেয়ার জন্মদিন।’
বিবৃতিতে রোকেয়ার জীবন, সাহিত্যচর্চা, সমাজসংস্কার ও নারীশিক্ষা বিস্তারে তার অবদান তুলে ধরে বলা হয়, তিনি ছিলেন সাহিত্যিক, শিক্ষাব্রতী, সমাজ-সংস্কারক এবং নারী অধিকার আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ। ১৯০৯ সালে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল এবং ১৯১৬ সালে আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি নারী জাগরণে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তাকে কাফির মুরতাদ বলা ঘোরতর অন্যায়, অসম্মানজনক এবং শিক্ষক সমাজের জন্য গ্লানিকর। এ ধরনের বক্তব্য ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা বাড়ায় ও নারীর প্রতি অনলাইন-অফলাইনে সহিংসতা উসকে দেয়, যা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নয় বরং হেইটস্পিস। এমন মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে ওই উসকানিমূলক বাক্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক।
রিপোর্টারের নাম 

























