রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে নিয়ে বিয়ের প্রলোভনে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে ক্রিকেটার তোফায়েল আহমেদ রায়হানের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও গুলশান থানার উপ-পরিদর্শক মো. সামিউল ইসলাম এ তথ্য জানান। এ বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ধর্ষণের ঘটনাটি মামলার ছয় মাস আগে হয়েছে বলে কোনও আলামত জব্দ করা সম্ভব হয়নি। মামলার বাদী নিজেও কোনও আলামত উপস্থাপন করতে পারেননি। হোটেলে রক্ষিত রেজিস্ট্রার বুকের গেস্ট বুকিং সংক্রান্ত রেজিস্ট্রেশন স্লিপ, তরুণী ও আসামির পাসপোর্ট কপি জব্দ করা হয়। ডিএনএ রিপোর্টে কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। সার্বিক তদন্তে প্রথম দিনের ঘটনা, হোটেল বুকিং কপি, ধর্ষণের মেডিক্যাল রিপোর্টসহ অন্যান্য বিষয় পর্যালোচনায় আসামি তোফায়েলের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রাথমিকভাবে সত্য বলে প্রমাণিত হয়।
ভুক্তভোগী তরুণী বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, রায়হান বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেন। তিনি প্রথমে সামাজিক, পারিবারিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করেন কিন্তু কোনও কাজ হয়নি। বিসিবিতে অভিযোগও দিয়েছিলেন। কিন্তু কোনও ব্যবস্থা না নেওয়ায় আদালতের শরণাপন্ন হন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে রায়হানের সঙ্গে ওই তরুণীর ফেসবুকে পরিচয় হয়। এরপর থেকে তারা মেসেঞ্জারে নিজেরা কথা বলতেন। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক হলে রায়হান ওই তরুণীকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। তবে তিনি রাজি না হলে বিয়ের প্রলোভনে প্রেমের প্রস্তাবে রাজি করেন। চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি তাকে স্ত্রী পরিচয়ে গুলশানের একটি হোটেলে নিয়ে ধর্ষণ করেন রায়হান। পরে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। এরপর থেকে ওই তরুণী বিয়ের কথা বললে রায়হান অস্বীকৃতি জানান।
এ ঘটনায় গত ১ আগস্ট ওই তরুণী বাদী হয়ে গুলশান থানায় ধর্ষণ মামলা করেন। মামলার পর গত ২৪ সেপ্টেম্বর রায়হানকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন দেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে তাকে এই জামিন শেষ হওয়ার আগেই ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে আগাম জামিনের মেয়াদ শেষ হলেও তিনি এখনও ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেননি।
রিপোর্টারের নাম 





















