ঢাকা ০৯:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গণভোটের পদ্ধতি নিয়ে ধোঁয়াশায় নির্বাচন কমিশন

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:১১:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৫
  • ২৯ বার পড়া হয়েছে

গণভোট আয়োজনের পদ্ধতিগত উপায় জানা না থাকার কারণে নির্বাচন কমিশন (ইসি) এক ধরনের জটিলতার মুখে পড়েছে। অন্যদিকে, ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির মধ্যে হঠাৎ করেই গণভোটের বিষয়টি সামনে আসায় কমিশন কিছুটা ধোঁয়াশার মধ্যে রয়েছে।

ইসি এখনো নিশ্চিত নয় যে সরকার এই ইস্যুতে তাদের কী ধরনের দিকনির্দেশনা দেবে। কমিশনের মতে, সবকিছু এখনও আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তাই কমিশন পর্যায়ে এ নিয়ে কোনো আলোচনা না হলেও গত রোববার অতিরিক্ত সচিবের কক্ষে একটি অনানুষ্ঠানিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। ইসির দায়িত্বশীল কর্মকর্তা সূত্র জানিয়েছে, সেখানে প্রাথমিক আলোচনা শেষে জটিলতার বিষয়গুলো নিয়ে সভা শেষ হয়।

ইসির তথ্যমতে, গণভোটের পদ্ধতি নিয়ে দুটি প্রধান জটিলতা রয়েছে। যদি হ্যাঁ বা না ভোট একাধিক মানদণ্ড বা ‘ক্রাইটেরিয়া’য় হয়, তবে ইসি ধোঁয়াশায় থাকবে। ব্যালটে একটি পদ্ধতি হলে গণভোট এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচন একদিনে করা সহজ হবে। কিন্তু পদ্ধতির ধরন যদি একাধিক (যেমন পাঁচটি বা সাতটি) হয়, তাহলে ইসিকে মহাজটিলতায় পড়তে হবে। কারণ, গণভোটের ব্যালটে একাধিক পদ্ধতি থাকলে সাধারণ, স্বশিক্ষিত বা অক্ষরজ্ঞানহীন মানুষের জন্য ভোট দেওয়া কঠিন হবে। এমনকি এই পদ্ধতিতে শুধুমাত্র গণভোটের ব্যালটে মতামত প্রকাশেই কমপক্ষে দুই থেকে তিন মিনিট সময় লাগবে। এরপর সংসদ নির্বাচনের সাধারণ ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের ব্যালটে ভোট দেওয়ার বিষয় তো আছেই।

গত দুদিনে এ বিষয়ে ইসির একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা গণভোটের পদ্ধতি নিয়ে জটিলতার কথা জানিয়ে বলেছেন, সবকিছু সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। গণভোট আদৌ হবে কি হবে না, সরকার এখনো কমিশনকে কিছুই জানায়নি। তবে কমিশনের অতিরিক্ত সচিব কেএম আলী নেওয়াজ কয়েকজন কর্মকর্তাকে নিয়ে বসেছিলেন। ওই সভায়, যদি দুটি ভোট একত্রে হয়, তাহলে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স কতটি লাগবে, সেটির ব্যবস্থা কীভাবে হবে, প্রবাসী ভোটারদের এই গণভোটে অন্তর্ভুক্ত করা হবে কি না এবং বাজেট কেমন লাগতে পারে—এমন ১০ থেকে ১২টি বিষয় নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে।

ইসির একজন কর্মকর্তা জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য কেনা স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স দিয়েই নির্বাচন করা সম্ভব, নতুন করে কেনার প্রয়োজন নেই। তবে বাজেট নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। কারণ, এখন পর্যন্ত সংসদ নির্বাচনের জন্য দেওয়া দুই হাজার কোটি টাকার চাহিদার বিপরীতে এক হাজার কোটি টাকা পাওয়া গেছে। এখনও এআই এবং আউট-কান্ট্রি ভোটারদের বাজেট যুক্ত করা হয়নি।

অপর একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, গণভোটের বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত তারা কেউ কিছু বুঝতে পারছেন না যে এটি একটি মাত্র ‘ফিল্টারে’ (পয়েন্টে) হবে, নাকি সাতটি ‘ফিল্টারে’ হবে। গত ১৯৭৭, ৯৫ ও ৯১ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন একটি পয়েন্টে হয়েছিল। যেমন, রাষ্ট্রপতির কার্যক্রমটি ঠিক আছে বা বেঠিক আছে—অর্থাৎ ইয়েস অর নো। এই পদ্ধতিতে হলে জাতীয় সংসদ ও গণভোট একসাথে করা সহজ। কিন্তু যদি সাতটি পয়েন্টে হয়, তাহলে একদিনে করা কঠিন হবে।

তবে গণভোট নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ভিন্নমত এখন প্রকাশ্যে এসেছে। বিএনপি ও তাদের সমমনা কিছু রাজনৈতিক দল সংসদ ও গণভোট একদিনে করার পক্ষে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দুটি নির্বাচন ভিন্ন ভিন্ন তারিখে করার দাবি জানাচ্ছে।

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে কোনো গণভোটে তার দল রাজি নয়। তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচন যেদিন হবে, সেদিনই গণভোট অনুষ্ঠিত হতে হবে। বিএনপির অবস্থান হলো, গণভোট অবশ্যই জাতীয় নির্বাচনের দিন হতে হবে এবং একই ভোটকেন্দ্র, কর্মকর্তা ও ব্যালট বাক্স ব্যবহার করে তা অনুষ্ঠিত হতে হবে। এনসিপিও বিএনপির সঙ্গে একই মত দিয়েছে। এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, জাতীয় নির্বাচনের দিন সাধারণ ভোটের পাশাপাশি গণভোটের জন্য আলাদা ব্যালট থাকবে।

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, তারা চান গণভোট নির্বাচনের আগেই হোক। তিনি আরও বলেন, তারা মনে করেন জাতীয় নির্বাচনে কোনো ধরনের সমস্যা সৃষ্টি না করে নভেম্বর অথবা ডিসেম্বরে গণভোট হতে পারে। গতকাল সোমবার ইসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ মোহাম্মদ আবু তাহেরও নভেম্বরে গণভোটের প্রস্তাব দিয়েছেন।

অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় না করে একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট করা উচিত বলে মন্তব্য করেছিলেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আবদুর রহমানেল মাছউদ। গত বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানিয়েছিলেন, তার বক্তব্য কমিশনের মুখপাত্র হিসেবে নয়, বরং ব্যক্তিগত মতামত হিসেবেই গণ্য হবে।

ইসি আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, অতিরিক্ত অর্থ খরচ না করে একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট করা উচিত। নির্বাচন কমিশন একই দিনে দুটি ভোট করতে সক্ষম। জাতীয় নির্বাচনের মধ্যে গণভোট আয়োজনে ঘোষিত ফেব্রুয়ারির সময়ে কোনো প্রভাব ফেলবে না।

ইসি আরও বলেন, সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে গণভোট হলে বড় অঙ্কের অর্থ সাশ্রয় হবে। সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গেই সম্ভব। তবে ভোটকেন্দ্র ও ভোটকক্ষ কিছুটা বাড়াতে হতে পারে। এতে আইনগত কোনো সমস্যা থাকার কথা নয়। সরকার চাইলে গণভোটের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে ইসি।

এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক এবং চেয়ারম্যান দিলারা চৌধুরী বলেছেন, জনমতের সঠিক প্রতিফলন ঘটাতে চাইলে সংসদের আগে গণভোট হওয়া শ্রেয়। এর মাধ্যমে জুলাই সনদের ভিত্তি তৈরি হবে। আর গণভোট সংসদে পাস হওয়ার দরকার নেই। যারা বলছেন, না বুঝেই বলছেন। দুটি নির্বাচন পৃথক হলে ব্যালটে একাধিক পয়েন্টে মতামত প্রকাশ করতে পারবে জনগণ।

স্বাধীন বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত নানা রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মোট তিনবার গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে দুটি ছিল প্রশাসনিক বিষয়ে গণভোট, আর অন্যটি সাংবিধানিক গণভোট। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে ১৯৭৭ সালে প্রথম গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় গণভোট হয়েছিল রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামলে, ১৯৮৫ সালে। সবশেষ গণভোট ১৯৯১ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হয়েছিল।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সেমিফাইনালের স্বপ্ন জিইয়ে রাখার লড়াই: শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি পাকিস্তান, সামনে পাহাড়সম সমীকরণ

গণভোটের পদ্ধতি নিয়ে ধোঁয়াশায় নির্বাচন কমিশন

আপডেট সময় : ১০:১১:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৫

গণভোট আয়োজনের পদ্ধতিগত উপায় জানা না থাকার কারণে নির্বাচন কমিশন (ইসি) এক ধরনের জটিলতার মুখে পড়েছে। অন্যদিকে, ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির মধ্যে হঠাৎ করেই গণভোটের বিষয়টি সামনে আসায় কমিশন কিছুটা ধোঁয়াশার মধ্যে রয়েছে।

ইসি এখনো নিশ্চিত নয় যে সরকার এই ইস্যুতে তাদের কী ধরনের দিকনির্দেশনা দেবে। কমিশনের মতে, সবকিছু এখনও আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তাই কমিশন পর্যায়ে এ নিয়ে কোনো আলোচনা না হলেও গত রোববার অতিরিক্ত সচিবের কক্ষে একটি অনানুষ্ঠানিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। ইসির দায়িত্বশীল কর্মকর্তা সূত্র জানিয়েছে, সেখানে প্রাথমিক আলোচনা শেষে জটিলতার বিষয়গুলো নিয়ে সভা শেষ হয়।

ইসির তথ্যমতে, গণভোটের পদ্ধতি নিয়ে দুটি প্রধান জটিলতা রয়েছে। যদি হ্যাঁ বা না ভোট একাধিক মানদণ্ড বা ‘ক্রাইটেরিয়া’য় হয়, তবে ইসি ধোঁয়াশায় থাকবে। ব্যালটে একটি পদ্ধতি হলে গণভোট এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচন একদিনে করা সহজ হবে। কিন্তু পদ্ধতির ধরন যদি একাধিক (যেমন পাঁচটি বা সাতটি) হয়, তাহলে ইসিকে মহাজটিলতায় পড়তে হবে। কারণ, গণভোটের ব্যালটে একাধিক পদ্ধতি থাকলে সাধারণ, স্বশিক্ষিত বা অক্ষরজ্ঞানহীন মানুষের জন্য ভোট দেওয়া কঠিন হবে। এমনকি এই পদ্ধতিতে শুধুমাত্র গণভোটের ব্যালটে মতামত প্রকাশেই কমপক্ষে দুই থেকে তিন মিনিট সময় লাগবে। এরপর সংসদ নির্বাচনের সাধারণ ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের ব্যালটে ভোট দেওয়ার বিষয় তো আছেই।

গত দুদিনে এ বিষয়ে ইসির একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা গণভোটের পদ্ধতি নিয়ে জটিলতার কথা জানিয়ে বলেছেন, সবকিছু সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। গণভোট আদৌ হবে কি হবে না, সরকার এখনো কমিশনকে কিছুই জানায়নি। তবে কমিশনের অতিরিক্ত সচিব কেএম আলী নেওয়াজ কয়েকজন কর্মকর্তাকে নিয়ে বসেছিলেন। ওই সভায়, যদি দুটি ভোট একত্রে হয়, তাহলে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স কতটি লাগবে, সেটির ব্যবস্থা কীভাবে হবে, প্রবাসী ভোটারদের এই গণভোটে অন্তর্ভুক্ত করা হবে কি না এবং বাজেট কেমন লাগতে পারে—এমন ১০ থেকে ১২টি বিষয় নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে।

ইসির একজন কর্মকর্তা জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য কেনা স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স দিয়েই নির্বাচন করা সম্ভব, নতুন করে কেনার প্রয়োজন নেই। তবে বাজেট নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। কারণ, এখন পর্যন্ত সংসদ নির্বাচনের জন্য দেওয়া দুই হাজার কোটি টাকার চাহিদার বিপরীতে এক হাজার কোটি টাকা পাওয়া গেছে। এখনও এআই এবং আউট-কান্ট্রি ভোটারদের বাজেট যুক্ত করা হয়নি।

অপর একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, গণভোটের বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত তারা কেউ কিছু বুঝতে পারছেন না যে এটি একটি মাত্র ‘ফিল্টারে’ (পয়েন্টে) হবে, নাকি সাতটি ‘ফিল্টারে’ হবে। গত ১৯৭৭, ৯৫ ও ৯১ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন একটি পয়েন্টে হয়েছিল। যেমন, রাষ্ট্রপতির কার্যক্রমটি ঠিক আছে বা বেঠিক আছে—অর্থাৎ ইয়েস অর নো। এই পদ্ধতিতে হলে জাতীয় সংসদ ও গণভোট একসাথে করা সহজ। কিন্তু যদি সাতটি পয়েন্টে হয়, তাহলে একদিনে করা কঠিন হবে।

তবে গণভোট নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ভিন্নমত এখন প্রকাশ্যে এসেছে। বিএনপি ও তাদের সমমনা কিছু রাজনৈতিক দল সংসদ ও গণভোট একদিনে করার পক্ষে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দুটি নির্বাচন ভিন্ন ভিন্ন তারিখে করার দাবি জানাচ্ছে।

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে কোনো গণভোটে তার দল রাজি নয়। তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচন যেদিন হবে, সেদিনই গণভোট অনুষ্ঠিত হতে হবে। বিএনপির অবস্থান হলো, গণভোট অবশ্যই জাতীয় নির্বাচনের দিন হতে হবে এবং একই ভোটকেন্দ্র, কর্মকর্তা ও ব্যালট বাক্স ব্যবহার করে তা অনুষ্ঠিত হতে হবে। এনসিপিও বিএনপির সঙ্গে একই মত দিয়েছে। এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, জাতীয় নির্বাচনের দিন সাধারণ ভোটের পাশাপাশি গণভোটের জন্য আলাদা ব্যালট থাকবে।

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, তারা চান গণভোট নির্বাচনের আগেই হোক। তিনি আরও বলেন, তারা মনে করেন জাতীয় নির্বাচনে কোনো ধরনের সমস্যা সৃষ্টি না করে নভেম্বর অথবা ডিসেম্বরে গণভোট হতে পারে। গতকাল সোমবার ইসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ মোহাম্মদ আবু তাহেরও নভেম্বরে গণভোটের প্রস্তাব দিয়েছেন।

অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় না করে একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট করা উচিত বলে মন্তব্য করেছিলেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আবদুর রহমানেল মাছউদ। গত বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানিয়েছিলেন, তার বক্তব্য কমিশনের মুখপাত্র হিসেবে নয়, বরং ব্যক্তিগত মতামত হিসেবেই গণ্য হবে।

ইসি আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, অতিরিক্ত অর্থ খরচ না করে একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট করা উচিত। নির্বাচন কমিশন একই দিনে দুটি ভোট করতে সক্ষম। জাতীয় নির্বাচনের মধ্যে গণভোট আয়োজনে ঘোষিত ফেব্রুয়ারির সময়ে কোনো প্রভাব ফেলবে না।

ইসি আরও বলেন, সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে গণভোট হলে বড় অঙ্কের অর্থ সাশ্রয় হবে। সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গেই সম্ভব। তবে ভোটকেন্দ্র ও ভোটকক্ষ কিছুটা বাড়াতে হতে পারে। এতে আইনগত কোনো সমস্যা থাকার কথা নয়। সরকার চাইলে গণভোটের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে ইসি।

এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক এবং চেয়ারম্যান দিলারা চৌধুরী বলেছেন, জনমতের সঠিক প্রতিফলন ঘটাতে চাইলে সংসদের আগে গণভোট হওয়া শ্রেয়। এর মাধ্যমে জুলাই সনদের ভিত্তি তৈরি হবে। আর গণভোট সংসদে পাস হওয়ার দরকার নেই। যারা বলছেন, না বুঝেই বলছেন। দুটি নির্বাচন পৃথক হলে ব্যালটে একাধিক পয়েন্টে মতামত প্রকাশ করতে পারবে জনগণ।

স্বাধীন বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত নানা রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মোট তিনবার গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে দুটি ছিল প্রশাসনিক বিষয়ে গণভোট, আর অন্যটি সাংবিধানিক গণভোট। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে ১৯৭৭ সালে প্রথম গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় গণভোট হয়েছিল রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামলে, ১৯৮৫ সালে। সবশেষ গণভোট ১৯৯১ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হয়েছিল।