ঢাকা ০৩:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

দেশে শিক্ষার্থীদের দিয়ে ধর্মীয় দাঙ্গা উসকে দিচ্ছে ‘র’, শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর

তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী বিশ্বজিৎ চন্দ্র বর্মন মহানবীকে নিয়ে কটূক্তি করায় তাকে তিন দিনের রিমান্ড দিয়েছে আদালত। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) তদন্ত কর্মকর্তা পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন জানালে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজস্ট্রেট এস এম সেফাতুল্লাহ তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট  শামছুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। এসময় তিনি বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদেরকে উসকে দিয়ে ধর্মীয় দাঙ্গা লাগাতে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এর হাত রয়েছে। গত ৬ মাসে দেশে যত ধর্ম অবমাননার ঘটনা ঘটেছে, ১৫ বছরেও তা ঘটেনি। এর কারণ একটাই ফ্যাসিজম ফিরিয়ে আনা— দেশে দাঙ্গা, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্থিতিশীলতা তৈরি করে, শিক্ষার্থীদের আবারও আন্দোল করে রাস্তায় নামানো। এর ইন্ধন দিচ্ছে ‘র’। তারা ঘোলা পানিতে মাছ ধরার চেষ্টে করছে। কে ঘটনা ঘটিয়েছে, কলকাঠি কে নাড়ছে, তা জানার জন্য আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড প্রয়োজন’

বিশ্বজিৎ চন্দ্র বর্মনের পক্ষে তার আইনজীবী গুলজার হোসেন রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। তিনি বলেন, ‘এ মামলার বাদীর সঙ্গে একটা মেয়েকে নিয়ে বিশ্বজিতের দ্বন্দ্ব রয়েছে। এ ঘটনা নিয়ে তাকে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। তার রিমান্ড বাতিল করে জামিনের প্রার্থনা করছি।’

মামলার বাদী তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী ওয়াহিদ সাব্বিরসহ কয়েকজন গত ২৬ নভেম্বর বিশ্বজিৎ চন্দ্র বর্মনকে নিয়ে বনানী থানায় সোপর্দ করেন। পরের দিন তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। পরে এ মামলায়  চলতি মাসের ১ তারিখ রিমান্ড আবেদন করেন বনানী থানার উপ-পরিদর্শক মো. কামাল হোসেন। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন সোমবার ধার্য করেন। এদিন শুনানিকালে তাকে আদালতে হাজির করা হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে গত ২৬ নভেম্বর ক্যাম্পাস থেকে বিশ্বজিৎ চন্দ্র বর্মনকে আটক করা হয়। পরে তাকে পুলিশে হস্তান্তর করা হয়। মামলা দায়েরের পর ২৭ নভেম্বর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার বিবরণ থেকে, বিশ্বজিৎ ফারিয়া আক্তার নামে একটি ফেসবুক আইডি খোলেন। সেখানে মহানবীকে নিয়ে কটূক্তি করে। তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী ওয়াহিদ সাব্বির ২২ নভেম্বর ক্যাম্পাসে বসে মহানবী কটূক্তির বিষয়টি দেখেন। শাহ মোহাম্মদ নামের ফেসবুক আইডির সঙ্গে চ্যাটিংকালেও মহানবীকে নিয়ে কটূক্তি করেন। পরে কলেজের শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে আইডির মালিককে খুঁজতে থাকেন। আফিফ নামে তিতুমীর কলেজের এক শিক্ষার্থীর মেসেঞ্জার থেকে  ফারিয়া আক্তারের আইডিতে ভিডিও কল দিলে বিশ্বজিৎ রিসিভ করেন। ২৬ নভেম্বর তাকে আটক করেন শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী ওয়াহিদ সাব্বির ২৬ নভেম্বর বনানী থানায় মামলা করেন। 

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রবাসীদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা: রেমিট্যান্স পাঠালেই দেড় ভরি স্বর্ণের হার জেতার সুযোগ

দেশে শিক্ষার্থীদের দিয়ে ধর্মীয় দাঙ্গা উসকে দিচ্ছে ‘র’, শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর

আপডেট সময় : ০৭:৪২:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫

তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী বিশ্বজিৎ চন্দ্র বর্মন মহানবীকে নিয়ে কটূক্তি করায় তাকে তিন দিনের রিমান্ড দিয়েছে আদালত। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) তদন্ত কর্মকর্তা পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন জানালে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজস্ট্রেট এস এম সেফাতুল্লাহ তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট  শামছুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। এসময় তিনি বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদেরকে উসকে দিয়ে ধর্মীয় দাঙ্গা লাগাতে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এর হাত রয়েছে। গত ৬ মাসে দেশে যত ধর্ম অবমাননার ঘটনা ঘটেছে, ১৫ বছরেও তা ঘটেনি। এর কারণ একটাই ফ্যাসিজম ফিরিয়ে আনা— দেশে দাঙ্গা, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্থিতিশীলতা তৈরি করে, শিক্ষার্থীদের আবারও আন্দোল করে রাস্তায় নামানো। এর ইন্ধন দিচ্ছে ‘র’। তারা ঘোলা পানিতে মাছ ধরার চেষ্টে করছে। কে ঘটনা ঘটিয়েছে, কলকাঠি কে নাড়ছে, তা জানার জন্য আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড প্রয়োজন’

বিশ্বজিৎ চন্দ্র বর্মনের পক্ষে তার আইনজীবী গুলজার হোসেন রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। তিনি বলেন, ‘এ মামলার বাদীর সঙ্গে একটা মেয়েকে নিয়ে বিশ্বজিতের দ্বন্দ্ব রয়েছে। এ ঘটনা নিয়ে তাকে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। তার রিমান্ড বাতিল করে জামিনের প্রার্থনা করছি।’

মামলার বাদী তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী ওয়াহিদ সাব্বিরসহ কয়েকজন গত ২৬ নভেম্বর বিশ্বজিৎ চন্দ্র বর্মনকে নিয়ে বনানী থানায় সোপর্দ করেন। পরের দিন তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। পরে এ মামলায়  চলতি মাসের ১ তারিখ রিমান্ড আবেদন করেন বনানী থানার উপ-পরিদর্শক মো. কামাল হোসেন। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন সোমবার ধার্য করেন। এদিন শুনানিকালে তাকে আদালতে হাজির করা হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে গত ২৬ নভেম্বর ক্যাম্পাস থেকে বিশ্বজিৎ চন্দ্র বর্মনকে আটক করা হয়। পরে তাকে পুলিশে হস্তান্তর করা হয়। মামলা দায়েরের পর ২৭ নভেম্বর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার বিবরণ থেকে, বিশ্বজিৎ ফারিয়া আক্তার নামে একটি ফেসবুক আইডি খোলেন। সেখানে মহানবীকে নিয়ে কটূক্তি করে। তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী ওয়াহিদ সাব্বির ২২ নভেম্বর ক্যাম্পাসে বসে মহানবী কটূক্তির বিষয়টি দেখেন। শাহ মোহাম্মদ নামের ফেসবুক আইডির সঙ্গে চ্যাটিংকালেও মহানবীকে নিয়ে কটূক্তি করেন। পরে কলেজের শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে আইডির মালিককে খুঁজতে থাকেন। আফিফ নামে তিতুমীর কলেজের এক শিক্ষার্থীর মেসেঞ্জার থেকে  ফারিয়া আক্তারের আইডিতে ভিডিও কল দিলে বিশ্বজিৎ রিসিভ করেন। ২৬ নভেম্বর তাকে আটক করেন শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী ওয়াহিদ সাব্বির ২৬ নভেম্বর বনানী থানায় মামলা করেন।